মাদ্রাসায় সফল একজন ভাবী শিক্ষকের করুণ আর্তি

0

পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা: এইমাত্র হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলাম। কারণ আমার জন্মদাত্রী জননী বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টা থেকেই শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সকাল ৮টা নাগাদ ১২ জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের জেলা সদর রায়গঞ্জের উদ্দেশ্যে মুর্শিদাবাদের ওমরপুর থেকে বাসে রওনা হই। মনের মধ্যে একটা টানটান উত্তেজনা অনুভব করি। মনে পড়ে মায়ের সুমিষ্ট মুখশ্রী। আমি যতবারই বাড়ির বাইরে যাত্রা করি শ্রদ্ধেয় আব্বাজান বলেন, আল্লাহ কে এবং তার পরপরই তোমার মাকে স্মরণ করবে। রায়গঞ্জে বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম আয়োজিত ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করে ফেরার পথে মালদাতে যখন বাস হল্ট করল তখন মুঠোফোনে মেজভাইয়ের কন্ঠস্বর, “দাদা কতদূর আসলে? মায়ের অবস্থা শোচনীয় ,কৃষ্ণপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

কখন থেকে?

আজ সকালে।

আমায় বলিস নি কেন ?

মা বারণ করেছিল। মা চাই নি তুমি ফোরামের আন্দোলনে না গিয়ে, বাড়ি ফিরে এসো তাই …..।

ইতিমধ্যে খবর আসে ফোরামের অন্যতম সহযোদ্ধা দেবাশীষের বাবার মৃত্যু। নিজেরই অজান্তে দুই চোখের প্রান্তে বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনি ছুঁয়ে গেল। সম্মানীয় পাঠকবর্গ বলতে পারেন, আমার চোখের জল কী বাসের জানালার হিমেল বাতাসের ফল? নাকি হৃদয় থেকে রক্ত  অশ্রু হয়ে বেরিয়ে আসল?

সহযোদ্ধা-সহযাত্রী গোলাম রসুল ভাই তা ভ্রুনাক্ষরেও টের পায় নি। কারণ আমার হৃদয় তখন পাথরের নামান্তর, যেন জড় পদার্থ ।

রাত্রি ১১:১৫ মিনিটে  ওমরপুরে বাস থেকে নেমে, বাড়িতে ফোন করলাম। বাবা তখনও ঘুমান নি। রফিক ভাই তার বাইকে করে আমাকে অ্যাকাডেমিতে পৌঁছে দেয়। অজু করে সোজা বিছানায় গেলাম। কারণ দুপুর রাতে কিছু খেতে বলার মতো কেউ ছিল না৷ অবশ্য ফোনে আব্বা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কিছু খেলি ব্যাটা? আমি ‘হু’ শব্দটি ছাড়া আর কিছুই উত্তর দিতে পারিনি। বাপ-ব্যাটার মাঝখানে এই যে এক চিলতে ছলনার অভিনয় হয়ে গেল মাঝরাতে আড়াল থেকে যার সাক্ষী রইলেন মহান স্রষ্টা।

যাই হোক আমার কয়েকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম:


১. মাদ্রাসা পাশ চাকুরী প্রার্থীদের আর কত চোখের জল বির্সজন দিতে হবে?যোগ্যতার পরীক্ষা দেওয়ার পর ধৈর্যের ও পরীক্ষা?

২. দেবাশীষের বা মামুনের  বাবার মত আর কত বাবাকে অপূর্ণ আশা বুকে করে পরপারে যেতে হবে ?

৩. আর কত দিন যোগ্য শিক্ষকের অভাবে মাদ্রাসাগুলিতে  পঠনপাঠন ব্যাহত হবে ?

এই প্রশ্নের উত্তর গুলি বাংলার বিবেকবান শিক্ষিত মনুষ্য সমাজের কাছে জানতে চাই।

আমারা চাই:

১. মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা হোক।

২. কমিশনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ এসএলএসটি প্যানেল থেকে অতি দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করা হোক।

৩. ভিন্ন জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের ট্রান্সফার অবিলম্বে চালু করা হোক।

৪. ডাই-ইন-হারনেস দের অবিলম্বেব চাকুরি প্রদান করা হোক।

৫. কমিশনের  সমস্ত বকেয়া কাজ সম্পূর্ণ করা হোক।

সর্বোপরি, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে রাজ্য সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। মায়ের সুস্থতা ও দেবাশীষ বাবুর পিতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শেষ করছি।

পুনশ্চ……..

চুপচাপ আছি বলে ভেবো না ,হেরে গেছি !

সত্য ও ন্যায়ের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

“সত্য এসেছে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে বস্তুতঃ মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল”….সেদিন খুব বেশি দূরে নয়।

ইতি-

মহঃ মোসাররাফ হোসেন

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ষষ্ঠ এসএলএসটি  সফল চাকুরি প্রার্থী