ধ্বংসের পথে আলিয়ার হেরিটেজ ক্যাম্পাস ও দোদুল্যমান ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব!

0

পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা: প্রবাহমান ইতিহাসের শাশ্বত  নিয়মে ও কালের গতিতে হারিয়ে যায় স্মৃতি বিজড়িত ও ঐতিহ্যবাহী নানান প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাঙ্গন মুছে যায় বহু খ্যাত মানুষের পদচিহ্ন। আবার এরই পাশাপাশি গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে কতিপয় ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। যুগোপযোগি শিক্ষার আলোকবর্তিকা ও আধুনিক শিক্ষা প্রশারে কালোওীর্ন এগুলো। মধ্যকলকাতার হৃদপিন্ডে বহমান কালের সাক্ষী সদ্য পরাধীন ভারতবর্ষের প্রথম বৃটিশ প্রশাসক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মাদ্রাসা হল এমনই এক আধুনিক শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান যা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন। 
ঐতিহ্যবাহী এই আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্মবৃওান্ত বড়ই চিওাকর্ষক ও ঘটনাবহুল। ১৭৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একদিন একদল শিক্ষিত মুসলমান ওয়ারেন হেস্টিংসের দরবারে উপস্থিত হয়ে ইসলামী আইন এবং আরবী -ফারসী ভাষাসহ আধুনিক শিক্ষা প্রশারের জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুরোধ করেন।এই আধুনিক প্রতিনিধিদলে ছিলেন মৌলভি মাজদুদ্দিন। এই শিক্ষিত মুসলমান প্রতিনিধিদের সনির্বন্ধ অনুরোধে ঐ বছরের অক্টোবর মাসে ওয়ারেন হেস্টিংস নিজ ব্যায়ে এক ভাড়াবাড়িতে স্থাপন করেন কলকাতা মাদ্রাসা যা বর্তমানে ধ্বংসাবশেষ অবস্থায় কলকাতা তালতলা হাজি মহঃ মহসিন স্কয়ারে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামে বিদ্যমান।
কলকাতা মাদ্রাসা তার পথচলা শুরু করে ইসলামী আইন এবং আরবী ও ফার্সি ভাষা শিক্ষাচর্চার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী কালে মাদ্রাসার পাঠক্রমে সংযোজিত হয় প্রাকৃতিক দর্শন,ধর্মতও্ব ,আইন, জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যামিতি, হিসাবশাস্ত্র, তর্কবিদ্যা, অলংকারবিদ্যা, ব্যকরন ও ব্যক্যালংকার।
অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ইসলামী আইন ও ধর্মতও্ব বিভাগীয় সমস্যা সমাধানের জন্যে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত আন্দোলন সহ জেল খাটার মত পরিস্তিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পরও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে কোন সদুত্তর ও সহযোগিতা মুলক পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।
২০০৭ সালে আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পদোন্নতি হয়েছে যে হেরিটেজ ক্যাম্পাসের উপর নির্ভর করে সেই হেরিটেজ বিল্ডিং আজ ভগ্নপ্রায় অবস্থায় অসহায়ভাবে ক্রন্দনরত। যার উপর বর্তমান সরকার ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই।
এখনও যদি এই অবহেলা অব্যাহত থাকে তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, হয়তো আমরা অচিরেই সেই যুগান্তর ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা হারিয়ে ফেলবো, যা মাওলানা আজাদ কলেজ  ও লেডি ব্রাবর্ন কলেজের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ঘটতে চলেছে।এখনও কি সমাজের ঘুমন্ত শিক্ষাপ্রেমীরা ঘুম থেকে জাগবে না ? কোথায় সেই মাজদুদ্দিন, জুলফিকার আলি, আব্দুল লতিফ, ডঃ অ্যালয়স স্পেনজার, ওয়াহেদুন্নবীদের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার সৈনিক ? আজ কি তারা যুগের রঙিন হাওয়ায় ভেসে শিক্ষা ও সমাজকল্যানের তরী সহজেই ডুবতে দেবে ?
এভাবেই কি ডুবে যাবে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সংখ্যালঘু সমাজের শিক্ষার মেরুদণ্ড প্রাচীন স্বৃতিবাহি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ? এর কি কোনও প্রতিকার হবেনা ?
নিশ্চই হবে এর প্রতিকার,যদি পশ্চিমবঙ্গের ঘুমন্ত শিক্ষাপ্রেমী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর আবার জাগ্রত হয়।
পরিশেষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার,গনমাধ্যম, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সংগঠন এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের নিকট আমি করজোড়ে আবেদন জানাই যে, পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরিটেজ ক্যাম্পাস ও ইসলামী ধর্মতও্ব বিভাগের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে যথাযথ সহযোগিতা কামনা করি।

বিনীত

মোঃ আব্দুল কাহার পাইক                                             সাধারণ সম্পাদক (ছাত্রসংসদ )
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়