অমরনাথে হামলার দায় কি এড়াতে পারে বিজেপি সরকার ?

মিতা রায়, টিডিএন বাংলা : অমরনাথে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। কিন্তু এই বর্বচিত হামলার যতই নিন্দা করা হোক না কেন, তা কম। আর এই হামলার জন্য কাঠগড়ায় কিন্তু নিঃসন্দেহে বিজেপি সরকার। কারণ হামলার পর থেকেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে
আসছে। প্রধানমন্ত্রী ঘটনার পর যতই নিন্দা করুন না কেন, এই প্রশ্নগুলির উত্তর তিনি কখনও, কোনদিন দিতে পারবেন কি ? একগুচ্ছ প্রশ্নবাণ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে প্ৰধানমন্ত্রীর জন্য। যেমন, এই হামলা সম্ভব হল কিভাবে? গোয়েন্দাদের কাছে নাকি আগেই খবর ছিল এই ধরনের একটি হামলা হতে পারে। তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করা হল না কেন ? জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাই বা কেন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি ? হামলার পর যেখানে নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হল, সেখানে কেন হামলার আগে তা করা গেল না ? রাতে যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেন বাসটি রওনা দিল ? কেন কোনও চেকপোস্টে আটকানো হল না বাসটিকে ? বাসটির সঙ্গে কেন কোনও প্রহরা ছিল না?
বাসটি যদি অমরনাথ যাত্রার জন্য নথিভুক্ত করা নাই হয়, তাহলে কেন বাসটিকে আটকানো হল না ? সম্ভবত এই প্রশ্নগুলি পাঠকদের তথা দেশবাসীর মনে চির শায়িতই থেকে যাবে। উত্তর মিলবে না কোনও দিনই।
১৭ বছর আগেও অমরনাথের বেসক্যাম্পে সন্ত্রাসহানা হয়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তখনও কেন্দ্রে বিজেপি সরকার। তখনও কাশ্মীরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এই
হামলার পর মোদি সরকারের নীতির দিকেই আঙুল উঠতে শুরু করেছে। সম্ভবত সংসদের বাদল অধিবেশনে এই নিয়ে সোচ্চার হবে বিরোধিরা। কিন্তু তাতে কি ? যে প্ৰাণগুলো চলে গেল, তারা তো আর কোনও দিন ফিরে আসবে না। কিংবা সেদিনের ওই হিংসার ঘটনা ইতিহাস তো কোনও দিন ভুলে যাবে না। বিজেপি-র সমস্যা আরও একটি ক্ষেত্রে। কারণ কেন্দ্রে যেমন রয়েছে বিজেপি সরকার, তেমনি জম্মু কাশ্মীরে রয়েছে বিজেপির জোট সরকার। যে ৭ জন মারা গেছেন, ঘটনাচক্রে তারা গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। এই দুই রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন। সেক্ষেত্রে হামলার এই ঘটনার পর দুই রাজ্যের বাসিন্দাদের কাছে
কিই বা বার্তা গেল ?
প্রশ্ন কিন্তু এখানেই শেষ নয়। অমরনাথে যাওয়ার জন্য সরকারের ওপর যদি দায়িত্ব থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের প্রাণ রক্ষার দায়িত্বও সরকারের ওপরই বর্তায়। এই নিরীহ প্রাণগুলির দায়িত্ব সরকার কি নেবেন ? দায় যদি নিতেই না পারেন, তাহলে যাত্রা বন্ধ রাখলেন না কেন সেই প্রশ্নও উঠছে। বিপাকে পড়ে বিজেপি শিবিরের একাংশ দোষ চাপাচ্ছেন মেহবুবা মুফতি সরকারের ওপর। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদটি বিজেপির দখলে। তাই কোনও সরকারই দায় এড়াতে পারেন না। লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকেই উত্তপ্ত কাশ্মীর। এতোদিনে যারা একটি রাজ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়, তারা প্রয়োজনে বাকি রাজ্যের কোনও অশান্ত পরিবেশকে শান্ত করাবেন কিভাবে ? একটু ভেবে দেখার হয়তো সময় এসেছে মোদি সরকারের।