রক্তাক্ত একুশ, একুশ আমার অহংকার

0

সুরাইয়া খাতুন, ডায়মন্ড হারবার: ভাষা হচ্ছে মানুষের এমন এক অনন্যসুলভ বৈশিষ্ট্য যা অন্য প্রাণীদের থেকে মানুষকে স্বাতন্ত্র্যতা দান করেছে। বিবর্তনের ধারায়, মানুষ নিজের ভাব ও চিন্তনের সম্পদকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে চায় বলেই তার প্রয়োজন হয় উন্নততর প্রকাশ মাধ্যম ‘ভাষা’র। শুধু জৈব প্রয়োজন মেটাতে ভাষার জন্ম হয় নি, উন্নততর ভাব ও চিন্তাকে প্রকাশের জন্য ভাষার সৃষ্টি। জার্মান মনীষী হুমবোল্ট এর মতে,  মানুষের ভাষাই হল তার আত্মা, আর আত্মাই হল তার ভাষা।


এই ভাষাকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সাধারণভাবে বলা যায়, মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবহ, বোধগম্য ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টির নাম ভাষা। ভাষাচার্য ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ” মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন, কোন বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবহিত তথা বাক্যে প্রযুক্ত শব্দ সমষ্টিকে ভাষা বলে।” আবার ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, ” মানুষ যে সব ধ্বনি দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম ভাষা।”


ভাষা মানুষের ভাব ও চিন্তনের মাধ্যম। মানুষের চিন্তাশক্তির বহিঃপ্রকাশে ভাষার অবদান অনস্বীকার্য। মানুষের জীবন, মনন, সমাজ সংরক্ষণ, সমাজ উন্নয়ন, সর্বোপরি মানব সংস্কৃতির সামগ্রিক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে তার ভাষা। তাই মানব সমাজের সঙ্গে মানব ভাষা অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত। এই ভাষাই মানুষের ভাবপ্রকাশে, সামাজিকীকরণে, সৃজনশীতায়,  জ্ঞানান্বেষণে, কর্মপ্রেরণায়,  নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

২০০ বছর পূর্বে ভাষা নিয়ে স্বতন্ত্র গবেষণার সূচনা হয়েছে। তাই ভাষার প্রাচীন ইতিহাস দুষ্প্রাপ্য। পৃথিবীতে মোট ভাষার সংখ্যা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।তবে জাতিসংঘের একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, পৃথিবীতে প্রায় ৭০৯৯ টি ভাষা রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে জটিল বা কঠিন ভাষা হিসেবে চীনের ম্যান্ডারিন ভাষা এবং আফগানিস্থানের পশতু ভাষার স্থান সবার আগে। ইংরেজি ভাষার স্থান দ্বিতীয় (৫০৮ মিলিয়ন মানুষ কথা বলে এই ভাষায়)।  আর আমাদের বাংলা ভাষা সপ্তম স্থানে ( ২১১ মিলিয়ন মানুষ ব্যবহার করে) । প্রতিটি মানুষের কাছে তার মাতৃভাষার মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।


মাতৃভাষা বলতে আক্ষরিক অর্থে মায়ের মুখ থেকে শেখা ভাষাকেই বোঝায়। একটি বৃহত্তর অঞ্চলে একই সাথে বিভিন্ন  ভাষা প্রচলিত থাকে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে, সেটাই হচ্ছে সে অঞ্চলের মানুষের মাতৃভাষা। মাতৃভাষা মায়ের মুখের আঞ্চলিক বুলি মাত্র নয়, মাতৃভাষা হচ্ছে একটি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির ভাষা। যা তারা স্বতস্ফূর্তভাবে ব্যবহার করে। মাতৃভাষা বহতা নদীর মতো শত ধারায় প্রবহমান। বাঙালির মাতৃভাষা হচ্ছে বাংলা। বাংলা আমাদের প্রাণের স্পন্দন, বাংলা আমাদের অহংকার। কবি অতুল প্রসাদ সেনের  ভাষায়-

“মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!” মাতৃভাষা চর্চা ও রক্ষাও প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত অনুভূতি-‘মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতন।’

মাতৃভাষা হল “মাতৃদুগ্ধসম”। তাই মাতৃভাষার মাধ্যমেই ঘটতে পারে একটি জাতির শ্রেষ্ঠ বিকাশ। নিজের অন্তর্নিহিত বোধ আর ভাবকে মাতৃভাষায় প্রকাশ করার যে পরিপূর্ণতা, অনাবিল আনন্দ আর পরিতৃপ্তির আবেশ তা কখনও অন্য দেশীয় ভাষায় আসতে পারে না। সেই কারণে মাতৃভাষার গুরুত্ব যাদের কাছে যত বেশি, তারা উন্নয়নের ধারায় তত বেশি এগিয়ে। মানুষের পরিচয়ের সেরা নির্ণায়ক মাতৃভাষা। মাতৃভাষা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মৌলিক সম্পদ। মা ও মাটির মতই প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে এই সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। এই মাতৃভাষায় মানুষ তার ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি-আকুলতা প্রভৃতি ব্যক্ত করতে যতটা স্বচ্ছন্দ, সাবলীল তা অন্য ভাষায় সম্ভব নয়। তাই বিভিন্ন ভাষাবিদ মনে করেন, মানব শিশুর প্রথম শিক্ষার জন্য সবচেয়ে সঙ্গত, স্বাভাবিক ও কার্যকরী মাধ্যম হলো স্ব-স্ব মাতৃভাষা।


পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীদের প্রধান ভাষা বাংলা। এই ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনের ইতিহাস কম বেশী সবাই জানি। খ্রিস্টিয় সপ্তম শতকে শতকে মাগধী প্রাকৃতকে অবলম্বন করে বাংলা ভাষার বুনিয়াদ স্থাপন হয়। কিন্তু তারও আগে হাজার বছর ধরেই, ধীরে ধীরে, চলছিল এই সৃষ্টিকাজ। সুপ্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম শাখা ইন্দো-ইরানীয়। ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগোষ্ঠীর আবার দুটি শাখা- একটি ইরানীয়, অন্যটি ভারতীয় আর্য ভাষাগুচ্ছ। বাংলা এই আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত আধুনিক কালের একটি ভাষা। আর্যরা ভারতে আসার আগে থেকেই এখানে ভেড্ডি, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় প্রভৃতি অনার্যরা বাস করত। এদের মধ্যে বাঙালির উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল অস্ট্রিকরা। আজ থেকে ৩২০০ বছর পূর্বে রচিত গ্রন্হ বেদে ‘বঙ্গ’ নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। বঙ্গ সম্ভবত একটি অস্ট্রিক শব্দ।

বাংলা ভাষার ভৌগলিক বিস্তার সম্পর্কে বলা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা, অসম রাজ্যের দক্ষিণ অংশ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে প্রচলিত ভাষা। এই ভাষার লিপি হল বাংলা। এই অঞ্চলের প্রায় বাইশ কোটি স্থানীয় মানুষের ও পৃথিবীর মোট ৩০ কোটি মানুষের ভাষা হওয়ায় এই ভাষা বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষাগুলির মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। ভারত , বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত এবং ভারতের জাতীয় স্তোত্র এই ভাষাতেই রচিত এবং তা থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায় এই ভাষার গুরুত্ব বোঝা যায়।

আমরা জানি, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনসূত্রে ইংরেজি ভাষা রাজভাষার মর্যাদা পাওয়ায় সেকালের উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই খ্যাতি, ক্ষমতা, অর্থনৈতিক লিপ্সায় ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাগ্রহণকে শিরোধার্য করে নিয়েছিল। কিন্তু এই প্রবণতা প্রত্যক্ষ কিছু লাভ যুক্ত করলেও পরিণামে হয়ে উঠেছিল আত্মঘাতী। সেকালের ‘নববাবু’রা ইংরেজিয়ানার দাপটে মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করতে শিখেছিল। বাংলা না-জানাটা তাদের কাছে পরিণত হয়েছিল গর্বের বিষয়ে। উপনিবেশিত মনের এই বিভ্রম উপলব্ধি করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, লিখেছিলেন— ‘যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যারে ফিরি ঘরে’।

রবীন্দ্রনাথও সেই ঔপনিবেশিক কালেই শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন মাতৃভাষাকে। ‘তোতা-কাহিনী’ রচনার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন ভিন্ন ভাষায় শিক্ষাগ্রহণের পরিণাম আদতে মৃত্যু। শৈশবে ভিন্ন ভাষায় শিক্ষা লাভের ফলে ভাব ও ভাষার প্রকৃত সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে না। এর করুণ পরিণতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধে লিখেছেন— ‘আমাদের বাল্যকালের শিক্ষায় আমরা ভাষার সহিত ভাব পাই না, আবার বয়স হইলে ঠিক তাহার বিপরীত ঘটে, যখন ভাব জুটিতে থাকে তখন ভাষা পাওয়া যায় না।’ ফলে ভাব ও ভাষার সুষম বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজন শিশুকে তার মাতৃভাষায় যথার্থ শিক্ষিত করে তোলা।

ইংরেজি ও ফরাসির পরে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পরে বাংলার উপরে নেমে আসে উর্দুর অপচ্ছায়া। পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে দম্ভ করে ঘোষণা দেন ‘Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan’ তখন প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাভাষী লাখো জনতা। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারী পাকিস্তানি মিলিটারির রাইফেলের গুলিকে উপেক্ষা করে বীর বাঙালি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। ঢাকার রাজপথ সেদিন লাল হয়ে যায় রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বার সহ নাম না জানা অনেক তরুণের তাজা রক্তে। ভাষার জন্য জীবন দেবার এরকম নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই।

বাংলাদেশ ছাড়াও ১৯৫০-এর দশকে ভারতের বিহার রাজ্যের মানভূম জেলায় বাংলা ভাষা আন্দোলন ঘটে। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ভারতের অসম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় একইরকম ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন সংগঠিত হয়। ১৯ মে, শিলচরে বাংলা ভাষার দাবীতে আন্দোলনরত ১১ জন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।

এজন্যই বাঙালি একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে।   বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর আরো একটি ঐতিহাসিক গৌরবমন্ডিত ও আনন্দঘন দিন। এই দিনে বাঙালি তার রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছে তার প্রাণের সম্পদ একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা দেবার জন্য যারা উদ্যোগ গ্রহণ করেন তারা হলেন — কানাডায় বসবাসরত একটি বহুজাতিক ভাষাপ্রেমী গ্রুপ “Mother language of the World ” এর ভিন্নভিন্ন ভাষাভাষী দশ জন সদস্য। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, এই দশ জন সদস্যের মধ্যে বাংলা ভাষাভাষী যে দুইজন ব্যক্তি ছিলেন তাদের নাম দুই অমর ভাষা শহিদেরই নাম রফিক ও সালাম। এই গ্রুপটি ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আণ্ণানের কাছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে একুশে ফেব্রুয়ারিকে এই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রাদানের প্রস্তাব করে। জাতিসংঘ থেকে জানানো হয়, বিশেষ কোনো গোষ্ঠী নয়, বরং বাংলা ভাষাভাষী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা সমীচীন।

অতঃপর ভাষাপ্রেমিক জনাব রফিকুল ইসলাম এবং জনাব আব্দুস সালাম বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৮ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর ঘোষণাপত্রটি ইউনেস্কোর সদর দফতরে পৌঁছে দেয়। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবের পক্ষে ২৮টি দেশ লিখিত সমর্থন জানায়। ইউনেস্কোর টেকনিক্যাল কমিটি কমিশন-২ এ প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয় ১২ নভেম্বর ১৯৯৯ তারিখে। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০ প্রতিনিধির সমর্থন লাভ করে প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি পায়। এরপর ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মাতৃভাষা হল কোনো মানুষের জাতিসত্তার পরিচায়ক। পৃথিবীতে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলা ভাষা প্রকৃত অর্থেই দাবি করতে পারে গৌরবের আসন। প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। অথচ বাঙালি হিসাবে আমরা কতটুকুই বা গৌরব অনুভব করি! তাই তো অভিভাবকরা ‘গরিব ‘, ‘দুয়োরানি’ বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করে ইংরাজী মাধ্যমের বিদ্যালয়ের প্রতি আসক্ত। কিন্তু জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে মাতৃভাষার চর্চা ছিল সবার আগে। আর আমরা  শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কথোপকথনে যতক্ষণ না দু -একটা ইংরেজি শব্দ না ব্যবহার করছি ততক্ষণ আতঙ্কে ভুগি যে এই বুঝি আমাদের আর মান থাক না। কেবল বাংলা ভাষাকে নয়, পৃথিবীর সকল ভাষার নিজস্ব মহিমা অক্ষুন্ন রাখার দীপ্ত শপথ নেবার দিন হচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারি “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”। বাংলা ভাষার ব্যবহার, প্রচার ও প্রসার হবে আমাদের অঙ্গীকার।

মধুকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘বাংলাভাষা’ নামক কবিতায়  লিখেছিলেন:

“হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন

তা সবে (অবোধ আমি) অবহেলা করি,

পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ

পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।”

তাই আমরাও সচেষ্ট হবো বাংলা ভাষার যোগ্য মর্যাদা দানে। ২১ শে ফেব্রুয়ারী হবে আমাদের কর্মচাঞ্চল্যের উদ্দীপনা। ২১-এর সত্যিকার ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বাংলাভাষার বিকাশ ঘটানোর জন্য আমাদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ বরকত-রফিক-সালাম-জব্বারকে বাঙালি জাতি হিসাবে  চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করব। বিশ্বনবির হাদিস মতে, ভাষা শহীদদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা সদকায়ে জারিয়ার মতো কাজ। ২১-এর শিক্ষা হোক আমাদের দীক্ষা।