ঈদের দিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা! উদ্বিগ্ন মুসলিম পড়ুয়ারা, নজর দিক সরকার

0

সম্পাদকীয়, টিডিএন বাংলা: ভারতবর্ষে সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে ! কি যেন একটা শব্দ আছে সংবিধানে, হ্যাঁ, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-এটার মানে জানতে চাই। কারণ বিভিন্নভাবে শব্দখানা অবহেলিত, উপেক্ষিত। আজ স্থানে স্থানে (নাম উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন) সংখ্যালঘু শ্রেনী ও তাদের ধর্মীয় স্থান বিপন্ন।

ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হল ঈদ। একমাস রোজা (নির্জলা উপবাস) রাখার পর আসে খুশির ঈদ। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঈদে খুশির হাওয়া বয় সর্বত্র। মুসলিম দরদী নেতা/নেত্রীরা রমজান মাসে ভোট করে মুসলিম সম্প্রদায়কে কষ্ট দিতে পারে না। এদিকে ঘটা করে দাওয়াতে ইফতার মজলিসের খুব ধুম। আহঃ কি দরদ! কিন্তু রমজান মাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা, বিএড -এর পরীক্ষা রাখতে পারে (তাও একই দিনে দুটো করে পেপার)। এই অবস্থায় পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেওয়ার অবস্থা কারোর থাকে না। অবস্থা এমন হয় যে, হয় পড়াশুনা করো, আর না হয় রোজা রেখে পরীক্ষায় ফেল করো। অগত্যা এই দুয়ের মধ্যে কোনো একটা বেছে নেবে মুসলিম ছেলেমেয়েরা। কারণ মুসলিম ছেলেমেয়েদের কথা মাথায় রাখার দায় কারো নেই।

আরো চমৎকার একটা ব্যাপার সামনে এলো। সেটা হলো, ঈদের দিন অর্থাৎ ১৫ই জুন (১৬জুন ঈদের ঘোষিত ছুটি থাকলেও ১৫ জুনও ঈদ হবার সম্ভবনা রয়েছে) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ, বিএসসি -র পার্ট টু -এর জেনারেল পেপারের পরীক্ষা রাখা হয়েছে। বাবা মায়ের সঙ্গে নয়, ওদের ঈদ কাটছে শহরের মেস ও হোস্টেল গুলিতে। তারা পরীক্ষার জন্য যথাযথ পড়াশুনা তো করতে পারবে না, তার ওপরে সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ উদযাপন করার পথেও একটা মস্ত বাধা দেওয়া হল। মনে হতেই পারে, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হলো, সেটা খর্ব করা হলো। বার বার বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক।

সুরাইয়া খাতুন