‘একুশে’র নামেও কি চলতে থাকবে প্রকাশ্য ইসলাম বিদ্বেষ!

0

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা: ২২শে ফেব্রুয়ারি একটি দৈনিক ভাষা দিবস প্রসঙ্গে ‘একুশের ঢাকায় কোন আবরণ নেই হিজাবের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “লক্ষ লক্ষ মানুষ খালি পায়ে এগিয়ে চললেন শহিদ মিনারের দিকে। হাতে ফুল, পরনে কালো পাঞ্জাবি বা শাড়ি। কণ্ঠে একুশের উচ্চারণ। বোরখা বা হিজাবধারী এক জন মেয়েও চোখে পড়েনি। অথচ দিনে ঢাকার রাস্তা যেন বোরখা আর হিজাবময়।”

বাংলার প্রথম সারির দৈনিক হিসেবে যার পরিচিতি তাদের কাছে এমন বিকৃত রুচি সম্পন্ন প্রতিবেদন বাংলার শান্তিপ্রিয় বাঙালির কাছে হুমকি স্বরূপ। বিদ্বেষ পূর্ণ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী এহেন শিরোনাম সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আসলে ভাষা শহীদদের সম্মান প্রদর্শনার্থে নয় ঐ প্রতিবেদনের শিরোনামই জানান দিচ্ছে প্রতিবেদকের মুখ্য উদ্দেশ্য।

Advertisement
head_ads

কে কতটা মাথা ডাকবে বা খোলা রাখবে তার সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতির কি সম্পর্ক? বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি তো আগে এতো অসহিষ্ণু ছিল না যে প্রতিবেশীর মাথা ঢাকা বা খোলা রাখাকে প্রগতির মাপকাঠি বানাবে।

রাস্তাঘাটে হিজাব বা বোরখা না দেখলে তাদের অতিরিক্ত উৎফুল্লতা কেন আসে? প্রতিবেদক কি পরিকল্পিতভাবেই অন্ধ ছিলেন? ওপারের অন্যান্য নিউজগুলিতে দেখা গেছে হিজাব ও বোরখা পরিহিতা অনেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছেন। একুশের ঢাকায় উনি যদি কোন হিজাব না দেখে থাকেন বলে দাবি করেন তাহলে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন বলে মনে করি। যা একজন সাংবাদিকের মূলনীতির পরিপন্থী।

একজন প্রতিবেদক সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রতিবেদন করবেন এটাই সাংবাদিকতার এথিক্স। কাউকে আঘাত করা, বিকৃত করা কোন আদর্শ প্রতিবেদকের কাজ হতে পারে না। পরিশেষে বলি, হিজাব না পরা কোন প্রগতিশীলতা নয়। হিজাব পরা প্রতিক্রিয়াশীলতাও নয়। একুশের পবিত্র দিনেও এধরণের প্রকাশ্য ইসলাম বিদ্বেষ আর কতদিন চলবে?

head_ads