মাদ্রাসা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণার অবসান হোক

0

পাঠকের কলমে, মিন্টু পতি, বাঁকুড়া: ভারতবর্ষের মাদ্রাসাগুলি অতি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমান হলুদ মিডিয়াগুলি সত্যাসত্য বিচার না করেই এই  গৌরবান্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছে “সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর”। কিন্তু বাস্তবটা একটু আলাদা। পশ্চিমবঙ্গের সরকার পোষিত মাদ্রাসা গুলির শিক্ষার্থীরা কলম ধরতে জানে। তারা বড়ো হয়ে শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। সন্ত্রাসবাদকে তারা ঘৃণা করে।আমাদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

লক্ষাধিক হিন্দু শিক্ষার্থী ও কয়েক হাজার হিন্দু শিক্ষক মাদ্রাসায় কর্মরত। কই ধর্মীয় পরিচয় তো সেখানে পরিলক্ষিত হয়না! মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা আর পাঁচটা স্কুলের মতোই। তবুও কিছু স্বার্থান্বেষী সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে ব্যস্ত। একাজে তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকার পোষিত মাদ্রাসাগুলোকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করেছে। এমনকী রাজা রামমোহন রায়, ড: এপিজে আব্দুল কালাম ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদ মাদ্রাসা শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবুও এত কেন বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে?


ভারতবর্ষের অলিতে গলিতে থাকা অন্যান্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা কে বিচার করলে ভুল হবে। সরকারি মাদ্রাসাগুলোর একটাই লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ সাধন। আর ধর্ম দিয়ে শিক্ষার বিচার হয় না, কারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোনো ধর্ম হয় না। সন্ত্রাস নয়, পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে হিন্দু মুসলিম একত্রিত হয়ে সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেছে সবার সামনে। তাই প্রশাসনের কাছে আপামর রাজ্যবাসীর বিনীত অনুরোধ দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ সহ অন্যান্য শিক্ষা সহায়ক পরিষেবা দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা গুলির সার্বিক উন্নয়ন করুন।

মিন্টু পতি, খাতড়া, বাঁকুড়া