পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা : রমজান মাসে কিংবা ঈদের আগে পরে বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আজ কোন নতুন বিষয় নয়। প্রায় প্রত্যেক বছরই পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সময়সূচী রমজান চলাকালীন হরহামেশাই পড়েই থাকে। কিন্তু এই বছর পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যালঘু পরীক্ষার্থীদের রীতিমত দূশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এস.সি জেনারেলের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচীর মধ্যে ১৫ই জুন তারিখটিকে রাখা হয়। ১৬ই জুন মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদুল ফিতারের সরকারি ছুটি ঘোষিত হলেও, ১৫ই জুন সম্ভাব্য ঈদুল ফিতারের তারিখ হিসাবে পূর্ব থেকেই নির্ধারিত। ১৫ই জুন সম্ভাব্য ঈদুল ফিতারের তারিখ হওয়া সত্ত্বেও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণ কোন দিক থেকেই মানবিক হতে পারেনা।

ঈদের আগে পরে পরীক্ষা হলে বিশেষ করে উত্তর বঙ্গের পড়ুয়ারা কিভাবে কোলকাতায় গিয়ে পরীক্ষা দেবে আর কিভাবেই বা ঈদ কাটাবে? কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠরত মুসলিম পরীক্ষার্থীদের সাথে কর্তৃপক্ষের এহেন বৈষম্যমূলক আচরণ রীতিমত অমানবিক।

বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে ইনসাল্লার উপস্থিতিতে যে মেকী মুসলিম দরদীর পরিচয় দেখা যায় তাতে কোন সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার মাদ্রাসার কৃর্তী ছাত্রছাত্রীদের প্রকাশ্যে সংবর্ধনা থেকে বিরত রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। যেখানে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে তৃণমূল সরকারের একচেটিয়া অধিকার সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণ আসলেই কী সরকার মুসলিম দরদীর পরিচয় রাখে? এবার কী তাহলে মমতাময়ী সরকারও ভোট ব্যাংক পূর্ণ হওয়ার পর মুসলিম বিদ্বেষের ব্যাপারে উঠে পড়ে লেগেছে? আর এসএস বা বিজেপির মত তৃণমূল কংগ্রেসের গভীরেও কী সংখ্যালঘু বিদ্বেষের শুড়শুড়ি রয়েছে? দেশের সর্বক্ষেত্রেই মুসলিমদের বহিরাগত বা দ্বিতীয় শ্রেণী হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে, পশ্চিমবঙ্গের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রাজ্যও তার থেকে বিরত নয়।

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠরত কয়েক হাজার মুসলিম পরীক্ষার্থী আজ বিভ্রান্তির মুখোমুখি। সারা বছর অপেক্ষার পর ঈদের একটি দিনের আনন্দ। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অমানবিক সিদ্ধান্ত আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। হয়তো মুসলিম পরীক্ষার্থী ঈদের আনন্দকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরীক্ষাকেই বাছতে হবে পাছে প্রতিবাদের মাসুল পরীক্ষার ফলাফলে দিতে হয়।

আফরিদা খাতুন
ছাত্রী, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়