কলেজে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ছাত্রছাত্রীরা নিদারুন সঙ্কটের মুখোমুখি

0

জালাল উদ্দিন আহমেদ, টিডিএন বাংলা : কলেজে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা নিদারুন সঙ্কটের মুখোমুখি। পরীক্ষায় পাশ করা যত সহজ ভর্তি হওয়া ততটাই কঠিন। সৌজন্যে একদল তোলাবাজ, বহিরাগত মাতব্বর। ভালো নম্বর নিয়ে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা বুকভরা আনন্দ এবং আগামীতে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যখন কলেজে হাজির (যারা এতদিন শিক্ষক এবং কোচিং এর শিক্ষক দেখে অভ্যস্ত ছিলো) তখন এইসব সরলমতি ছাত্রছাত্রীরা নতুন চেহারার তোলাবাজদের দেখে হতাশায় এদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন প্রথম দিনে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

শিক্ষাঙ্গনের এই চেহারা বাংলার “শ্রী”র প্রচার বিশ্রী র আঘাতে আসল রুপটি প্রকাশ করে দিল। যে ছাত্রছাত্রীরা আগামীতে বাংলার সম্পদ, সম্মান, গর্ভ হবে তাদের মেধা যোগ্যতা পদদলিত হচ্ছে একদল লুটেরার হাতে। ভাবতে অবাক লাগে এ কোন বিশ্ব বাংলা আমরা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাচ্ছি! ভালো রেজাল্ট হাতে নিয়ে যারা কলেজ চত্বরে প্রবেশ করল তাদের তো পাওনা ছিল উৎসাহ দিয়ে বুক টেনে নিয়ে ভালো পরামর্শ দেওয়া যাতে করে তারা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে পড়াশুনা করে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে। সেই তারাকিনা তোলাবাজ, লোফার, মাতব্বরদের খপ্পরে পড়ে আর্তনাদ করছে আর শিক্ষামন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে দায় সারছেন!

আচ্ছা কলেজের ইউনিয়ন ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ দেখার জন্য তৈরি, তারা থাকতে এইসব তোলাবাজ মাতব্বররা ওখানে ঢুকলো কি করে? এর উত্তর আপনারা জানেন আমিও জানি। আসলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত কলেজের ইউনিয়নগুলির গঠন সণ্ডাপন্ডা মার্কা নিম্নমানের ছাত্রদের দিয়ে। যাদের না আছে মেধা না আছে যোগ্যতা। মানবতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ এদের কাছে দিবাস্বপ্নের মত। এদের হাত ধরে ঐসব অসামাজিকদের কলেজ চত্ত্বরে রমরমা। প্রত্যেক বছর ভর্তির সময়ে এদের দৌরাত্বে ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার স্বীকার।

অথচ সরকার নির্বিকার। কিন্তু কেন এই অবস্থা শিক্ষাঙ্গনগুলির? মূল কারণ এই ধরনের অশুভ শক্তির উপর ভর করে সারা বছর যে শাসকরা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা ঐ গর্ভের এই জায়গাটা যখন কলঙ্কিত করছে তখন তাদের লাগাম দেওয়ার মত মাঝারি নেতাদের সাধ্যের বাইরে। কারণ তারাওতো নিজেদের ক্ষেত্রে দূর্নীতিগ্রস্ত। ফলে তারা রুখবে ওদের সাধ্য কি। অতএব ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আশুতোষ কলেজ (ভ্রমণ!)পরিদর্শন। যাক দেরিতে বোধোদয়ের জন্য ধন্যবাদ।

অতএব প্রস্তাব-
১. যারা অনার্স সহ অন্যান্য সাধারণ বিভাগে ভর্তির জন্য ৫, ১০হাজার তার বেশি টাকার চাহিদার স্বীকার সেইসব দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

২. মেধা তালিকা প্রকাশ করে ভর্তির ব্যবস্থা করা হোক।

৩. ঐ মেধা তালিকার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা হোক।

৪. বহিরাগত যাদের শিক্ষার সাথে সম্পর্ক নেই তাদের কলেজে ছড়ি ঘোরানো বন্ধ করা হোক।

৫. মেধা এবং ভদ্র ছেলেদের কলেজের ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হোক। তাহলেই শিক্ষাঙ্গন তার হারানো মর্যাদা ফিরে পাবে বলে মনে করি।

(লেখক, ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতা)