আজকের এই দুর্দিনে ভারত যদি একজন আলাউদ্দিন খিলজি পেতো!

0

ইমানুল হক, টিডিএন বাংলা: কুকুরকে বদনাম দাও। এবং তাকে হত্যা করো। এক পুরানো চলে আসা অমানবিক অভ্যাস।
আর ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, যাঁর দল দেশের ১২৫ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১৭ কোটির ভোট পেয়ে জয়ের মালা পরেছে; এবং নরেন্দ্র দামোদর মোদি, তো ২০১৩তেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, মুসলমানরা কুকুরের বাচ্চা, গাড়ির তলায় চাপা পড়া কুকুরের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, মোদি বাবু, মুসলমানদের।

ভারতের মুসলমানদের অবস্থা এখন করুণ। খুবই করুণ। তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের সম্মানও তাঁরা পাচ্ছেন না।
দেশে চরম অর্থনৈতিক সংকট। দারিদ্র্য বেকারি মূল্যবৃদ্ধি কর্মসংস্থানহীনতার মতো চরম আকার ধারণ করেছে।
পনেরো লাখ টাকা প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকানোর প্রতিশ্রুতি ছিল। জিনিসপত্রের দাম ২৫% কমানোর কথা ছিল। উল্টে ২০০ থেকে ৪০০% বেড়ে গেছে। গ্যাসের দাম ৪১৪ থেকে বেড়ে ৭৮০ টাকা। পেট্রলের দাম বেড়েছে অন্তত ৫০ বার। ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দাম। বিশ্ব বাজারে কিন্তু দাম কমেছে।  কমছে।
চাল ডাল গম তেল সব্জি গরিব দূরে থাক মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।
নোটবন্দি এবং জি এস টির জেরে নাভিশ্বাস।
ওদিকে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক ব্রিজভূষণ লোয়ার খুনের মামলায় ফেঁসে গেছেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ।
সোহরাবুদ্দিন খুন এবং গুজরাত গণহত্যা মামলার রায় এর সঙ্গে জড়িত। আর এই মামলার কুশীলব শুধু অমিত শাহ নন, ভারতের হিটলার নরেন্দ্র মোদিও।
সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি নজিরবিহীনভাবে বিচারবিভাগের বাইরের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত করে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন।
এই সব থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই পদ্মাবত চলচ্চিত্র নিয়ে পরিকল্পিত ঝামেলা।
ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি পড়েছেন সমস্যায়।
পদ্মাবত একটি চরম মুসলিম বিদ্বেষী ছবি। তাও দেখতে বাধ্য হচ্ছেন।  ফ্যাসিবাদী শক্তি এই ছবির প্রদর্শনের বিরোধিতা করছে বলে। আসলে এটা আম্বানি এবং মোদিভাই গটআপ গেম।

Advertisement
head_ads

সেই গেমে খলনায়ক সাজানো হয়েছে আলাউদ্দিন খিলজিকে।
এ কারণেই ইতিহাসে মুখ ফেরাতে হয়।
আলাউদ্দিন খিলজি কেমন ছিলেন? শয়তান নাকি ভারতের পরিত্রাতা। মোঙ্গল আক্রমণ থেকে বাঁচিয়েছেন জাতিকে।
দুর্ভিক্ষের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন প্রথম রেশন ব্যবস্থা চালু করে। পৃথিবী শিখেছে দাম বেঁধে দেওয়া।
ভারত শিখেছে সরকারি বাজার ও বিপণনের স্বপ্ন।

টিডিএন বাংলার প্রিয় পাঠক,এবার আসুন আমরা একটু জেনে নিই আলাউদ্দিন খিলজি ঠিক কেমন ছিলেন সে সম্পর্কে-

#আলাউদ্দিন খিলজি তাঁর ওমরাহ/ অমাত্যবাহিনী খিলজিদের সীমাবদ্ধ রাখেন নি।
ভারতীয় হিন্দুদের উচ্চপদ দেন। বিভিন্ন গোষ্ঠীর তুর্কি, আফগান, ধর্মান্তরিত ভারতীয় মুসলিম, নব মুসলিম (মোঙ্গল)দের অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
#আলাউদ্দিন খিলজি অভিজাতদের আর্থিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ খর্ব করেন নখদন্তহীন সিংহে রূপান্তরিত করেন।
#বিভিন্ন প্রশাসনিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের আনুগত্য ও শ্রদ্ধা অর্জনে প্রয়াসী ও সক্ষম হোন।

# আলাউদ্দিন খিলজি প্রথম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেঁধে দেন।
#সরকারি বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করেন।
#সরকার থেকে টাকা দিয়ে কমিশন ভিত্তিক ব্যবসা চালু করেন।
#জিনিসের দাম কমিয়ে দেন ভর্তুকি দিয়ে।
ভারতে ভর্তুকি ব্যবস্থার প্রথম প্রবর্তক।
#ব্যবসা বাণিজ্য ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসত’ নামে এক মন্ত্রক চালু করা হয়। ইয়াকুব নাজির হন প্রথম ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসত’।
#চোর ডাকাত, খুনী, দস্যুদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।
#মদ্যপান জুয়া গণিকাবৃত্তি প্রভৃতি কুপ্রথা নিষিদ্ধ করেন।
#রাজস্ব আদায়কারী চৌধুরী, খুত, মুকদ্দম প্রভৃতি গ্রামের স্বার্থান্বেষী ধনীদের ক্ষমতা খর্ব করেন।
মানুষকে সুরাহা দেন।
#শাসনকার্যে ধর্মীয় গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় দেননি।
#গোঁড়ামি কুসংস্কার ধর্মান্ধতার পরিবেশ বদলে রাষ্ট্রকে ধর্মীয় আধিপত্য থেকে মুক্তি দেন।
#আলাউদ্দিন খিলজি মনে করতেন সরকার ও শাসন পরিচালনার সঙ্গে শরিয়তের কোন সম্পর্ক নাই।
#মালিক নায়েক নামে এক ‘হিন্দু’কে আখুর-ই-বেগ তথা অশ্বশালার অধ্যক্ষ ও সেনাপতির পদে নিয়োগ করেন। এতে গোঁড়া মুসলিমরা  ক্ষুণ্ণ হলেও পাত্তা দেননি।
#দেশে চমৎকার রাস্তা ঘাট গড়ে তোলেন।
# জিয়াউদ্দিন বরণি ও ইবন বত্তুতা জানাচ্ছেন, ডাক হরকরা ব্যবস্থা প্রচলন করেন। শেরশাহের অনেক আগেই।
#দেশের আইন শৃঙ্খলা খুব ভালো ছিল। চুরি ডাকাতি রাহাজানি ছিল না।
#দিল্লির সুলতানদের মধ্যে আলাউদ্দিন খিলজি প্রথম রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন।

( সূত্র: খলজী শাসনাধীন ভারত, ড. কুমুদকুমার দাস।।
পৃ১২৬–১৫৫)

#তবলা আবিষ্কার করেন আলাউদ্দিন খিলজির সভাসদ আমীর খসরু।
#খেয়াল প্রথম গাওয়া হয় তাঁর দরবারে। প্রবর্তক আমীর খসরু।
#আলাউদ্দিন খিলজি ছিলেন সঙ্গীত প্রিয় নিজে ‘নারাং’ নামে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ভালবাসতেন।
(সূত্র: সঙ্গীত রত্নাকর)

■আলাউদ্দিন খিলজি প্রথম জমি জরিপের ব্যবস্থা করেন। সামরিক বাহিনীতে তিনি প্রথম দাগ ও হুলিয়া প্রবর্তন করেন। আর্থিক বিভাগে দুর্নীতি বন্ধের জন্য হিসাব রক্ষক নিয়োগ করেন ও নিরীক্ষক তথা অডিটর নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
(অধ্যাপক ইমানুল হক একজন ভাষা আন্দোলনের নেতা ও বিশিষ্ট লেখক।)

head_ads