হে পরম স্রষ্টা ; সবার আগে তুমি আমাদেরকে মানুষ হবার সুমতি দান করো

আলমগীর সরদার,টিডিএন বাংলা ডেস্ক: “মানুষের মতো মানুষ হও”

ঘটে যাওয়া সেদিনের ঘটনাটা আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে জ্বলজ্বল করছে। দিনটা জীবন ইতিহাসের স্মরণীয় দিন, যা আজও ভুলতে পারিনি। তখন সবে ক্লাস ফাইভে পড়ি। কোনো এক ঘটনায় সত্য বলাতে চরম বিপদের মুখোমুখি হই। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, কটুক্তি, ব্যাঙ্গোক্তি, চমকে ধমকে অনেক অশালীন মন্তব্য, সবই সহ্য করতে হয়েছিল সেদিন। সাথী যে ছিলো  সে তো ভয়ে কেঁদে অস্থির। না জানি আরো কত বিপদ অপেক্ষা করছে ? কিন্তু! আমি ছিলাম নির্বিকার, হৃদয় ছিলো আত্মতৃপ্তিতে ভরা। মনে ছিলো পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস। সত্য বলে কোনো ভুল করিনি আমি। সমস্ত বিপদ মাথা পেতে নেবো, এ ছিলো আমার সেদিনকার দৃঢ় অঙ্গীকার।

একটু আগেই যিনি ছিলেন ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি, পরক্ষণেই তিনিই হলেন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপদেশ দাতা। তাঁর বহু উপদেশের মধ্যে অন্যতম হলো, “মানুষের মতো মানুষ হও”  সেদিনের সেই উপদেশ! বুঝতে অনেকটা সময় লেগেছিল। বা বলা ভালো আজও সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছি কিনা সন্দেহ!

আচ্ছা; কি এমন গুন থাকলে একটি মানুষ, মানুষ হয়? আর, কি না থাকলে মানুষ অমানুষ হয়? আর, তিনি কেনই বা বলেছিলেন মানুষের মতো মানুষ হতে? সমুখপানে কোটি কোটি মনুষ্য পদবাচ্যে যারা ঘুরে বেড়ায়, আসলে তারা কি তাহলে সব মানুষ নয়? হৃদয় অলিন্দের প্রশ্নবাণে আন্দোলনের যে ঢেউ উঠেছিল তা আজও সমানভাবে তরয়ঙ্গিত। সেদিন জানতাম মায়ের উদরে জন্ম নিলেই সে তো মানুষ। যেমন গরুর উদরে জন্ম নিলে গরু। বড়ো হয়ে বুঝলাম, সব প্রাণীই তাই-ই,  ব্যাতিক্রম শুধু মানুষ।   “মানুষের মতো মানুষ” এ সংগা নিরুপণ করা আজ বড় কষ্টসাধ্য।
বিশ্ব নিখিলে যা কিছু দেখি, আর যা কিছু দেখিনা, সবই মানুষ কেন্দিক। আইন শাসন ধর্ম সবই মানুষকে নিয়ে। ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ সবই তো মানুষের জন্য। পৃথিবীর প্রায় 95 শতাংশ মানুষ আস্তিক, অর্থাৎ ধর্ম মানে। আচ্ছা, কোনো ধর্ম কি হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, খুনোখুনি এসবের নির্দেশ দেয়? তাহলে কেন ধর্মের নামে এতো উন্মত্ততা? কেনো, কেনো ধর্মের নামে এতো গুন্ডামি?  আমরা হিন্দু হয়েছি, খৃষ্টান হয়েছি, বৌদ্ধ হয়েছি, মুসলিম হয়েছি। আমরা সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেপি সবই হয়েছি। কিন্তু………….

হে ধর্মের ধ্বজাধারীরা, তুমি কি অমরত্ব লাভে ধন্য হয়েছো? তাহলে, কেনো বাদুড়িয়া কান্ড, কেনো অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের উপর হামলা? ধিক তোমাদের ধিক! মনুষ্য নামের কলঙ্ক তোমরা। কে শেখালো ধর্মের নামে মানুষ হত্যা?  ধর্মের মৌলিকত্ব ধর্মীয় গ্রন্থে, গ্রন্থ না পড়েই তুমি ধার্মিক? নাকি, ধর্মের মোড়কে তুমি বকধার্মিক? তাই তোমাদেরকে বলছি, “মানুষের মতো মানুষ হও”

কেনো, কেনো এত রাজনীতির নামে হিংসা, কেনো, কেনো এতো ধর্মের নামে হিংসা?

আসুন! ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে “মানুষের মতো মানুষ” হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ে তুলি।

হে পরম স্রষ্টা ; সবার আগে তুমি আমাদেরকে মানুষ হবার সুমতি দান করো।