বঞ্চনার একটি নাম মুর্শিদাবাদ

মহম্মদ ঘোরী শাহ্, টিডিএন বাংলা : মুর্শিদাবাদ। নামটা শুনলেই একটা প্রতিরোধের কথাই মনে আসে। নবাব সিরাজদ্দৌল্লার বৃটিশ বিরোধী অর্থাৎ ভারতের সার্বভৌমত্বকে রক্ষার সেই কালজয়ী প্রতিরোধ বৃটিশ শাসকদের মনে যে একটা মুর্শিদাবাদ বিরোধী মনোভাবের সৃষ্টি করেছিল তা স্পষ্ট। ফলে জন্ম নিয়েছিল একটা বঞ্চনা। কিন্তু স্বাধীনতার পরেও সেই বঞ্চনাকে সযত্নে লালন করে পূর্বসূরিত্ব দেখিয়ে দিল স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাস। তাইতো এ জেলার মানুষদের আজ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করতে হয়।

এই সময় আন্দোলনটা হওয়ার কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য, প্রতিষ্টার জন্য নয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভারতের জেলাগুলির মধ্যে সপ্তম তম হয়েও এখানে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই তা একটা পরিতাপের বিষয়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত যে এখানে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জন্ম গ্রহন করেননি এমনটাও নয়। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের গড় হিসাবে পরিচতি মুর্শিদাবাদ জেলা অনেকটাই সময় দিয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারকে। আর এই জন্যই কি পশ্চিমবঙ্গের বাম সরকার বৈমাত্রেয় অাচরণ করল? যদি তাই হয় তবে এদেরকে তো বৃটিশ বঞ্চনার সফল ধারক বাহক কেউ কেউ বলতেই পারেন।

তবে সমস্যাটা যখন জেলাবাসীর আত্মীক হয়ে পড়েছে, রাজনৈতিক কৌলিন্য মুছে গেছে তখন চলতি সরকারকে নেতিবাচক অবস্থানে থাকার কোন প্রশ্নই ওঠেনা। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মত এই শিক্ষা বিষয়ক মৌলিক সমস্যাটির প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজন আছে বৈ কি।