ভারতে মাত্র ৩ শতাংশ ব্রাহ্মণ, কিন্তু দেশবাসীর ঘাড়ে উঠে সর্বেসর্বা তারাই

0
সামাউল্লাহ মল্লিক

সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা : বহু যুগ আগে থেকেই এদেশের শাসনভার রয়েছে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হাতে। কি দেশের প্রধানমন্ত্রী আর কি এই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের যে কয়জন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তাদের সকলেই ব্রাহ্মণ। যাক সেটা প্রাসঙ্গিক হলেও অন্য বিষয়। এখন আলোচনা করা যাক দেশের ব্রাহ্মণদের জনসংখ্যা ও তাঁদের অবস্থান নিয়ে।


সম্প্রতি সোশ্যাল সাইটে একটি পরিসংখ্যান ভাইরাল হয়েছে যেখানে ব্রাহ্মণদের পরিসংখ্যান ও দেশের ক্ষমতায়নে তাঁদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া পরিসংখ্যানের প্রথমেই দাবি করা হয়েছে, ভারতে মাত্র ৩ শতাংশ ব্রাহ্মণ বসবাস করেন। কিন্তু তাঁদের অবস্থান দেখুন। এরপরই একটি ছকে সরকারি বিভাগের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী – লোকসভায় ৪৮ শতাংশ, রাজ্যসভায় ৩৬ শতাংশ, রাজ্যপাল ৫০ শতাংশ, কেবিনেট সচিব ৫৩ শতাংশ, মন্ত্রী সচিব ৬৪ শতাংশ, অতিরিক্ত সচিব ৬২ শতাংশ, পার্সোনাল সচিব ৭০ শতাংশ, ইউনিভার্সিটিতে ভাইস চ্যান্সেলর ৬১ শতাংশ, সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি ৮৫ শতাংশ, হাইকোর্টের বিচারপতি ৭০ শতাংশ, ভারতীয় রাজদূত ৫১ শতাংশ ব্রাহ্মণদের অংশীদারী রয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ব্রাহ্মণ, রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের ৮২ শতাংশ ব্রাহ্মণ, এয়ারলাইন্সে কর্মরত ৬১ শতাংশ ব্রাহ্মণ, ব্যাঙ্কে কর্মরত ৬৭ শতাংশ ব্রাহ্মণ, আইএএস অফিসারদের মধ্যে ৭২ শতাংশ ব্রাহ্মণ, সিবিআই-এ ৭২ শতাংশ ব্রাহ্মণ, আইপিএস অফিসারদের ৬১ শতাংশ ব্রাহ্মণ রয়েছেন। পাশাপাশি টিভি ও বলিউডে কাজ করা কলাকুশলীদের ৮৩ শতাংশই ব্রাহ্মণ।

সোশ্যাল সাইটে এই পরিসংখ্যান ভাইরাল হওয়ার পর তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এই পোস্ট শেয়ার করে দ্বিচারিতার অভিযোগ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন আমাদের ঘাড়ে বসে আমাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা। কিছু মুসলিম নেটিজেনের আবার দাবি, শুধু ব্রাহ্মণরাই কেন প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী হবে? আমরা দলিত-মুসলিমরা কি বানের জলে ভেসে এসেছি?

এই বঞ্চনা নিয়ে  কবি অভিমন‍্যু মাহাতো টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘চিরকাল উচ্চবর্ন  দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র শাসিত হয়ে আসছে। আজও সেই ট্রেন্ড সমানে চলছে। এখনো দলিত বা আদিবাসীরা যোগ্য হওয়া সত্বেও মন্ত্রীত্বের সুযোগ পান না। কেবল ভোট ব্যাংক হিসেবে দেখা হয় দলিতদের। এই রাজ্যেই দেখুন না, আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান  ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে আদিবাসীদের কি উন্নয়ন হবে তা সহজেই অনুমেয়।’