পকোড়া তুমি সাবধান থেকো! মোদিজী তোমার নাম নিয়ে কোটি কোটি যুবককে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন

0

সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা : হে পকোড়া! তুমিও চায়ের মতো অমর হয়ে যেতে, যদি মোদিজী একবার বলে দিতেন – ‘আমি চায়ের পাশাপাশি পকোড়াও বিক্রি করতাম। তাই আমি চাই ভাইয়ো আউর বেহনো গোটা ভারত চা-পকোড়া বিক্রি করুক।’

যদিও পিৎজা, বার্গার, ও স্যান্ডউইচের চক্করে পড়ে লোকেরা তোমাকে ভুলেই গিয়েছিল পকোড়া! কিন্তু দেখো, এই একাকীত্ব ও রাজনৈতিক উথালপাতালের মাঝে শুধুমাত্র মোদিজীই তোমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তোমাকে গরম কড়াই থেকে তুলে এনে রাজনীতি সরগরম করে তুলেছেন।

এতদিন তো হালকা বৃষ্টি এবং দুপুর অথবা সন্ধ্যার চায়ের সময় লোকেরা তোমাকে মনে করত এবং কাছে টেনে নিত। কিন্তু দেখো, এক লহমায় মোদিজী তোমাকে তারকা বানিয়ে দিয়েছেন। এরজন্য তোমার ধন্যবাদ দেওয়া উচিত মাননীয় মোদিজীকে। নইলে যখন থেকে ‘চায়ে পে চর্চা’ হওয়া শুরু হয়েছে তুমি তো হারিয়েই গিয়েছিলে। কিন্তু দেখো এখন তোমার ভবিষ্যতও উজ্জ্বল।

এখন তুমিও জ্বলন্ত কড়াইতে ক্যামেরার সামনে স্বানন্দে লাফাতে পারছ। তোমার রেসিপি এখন জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক রেসিপি হয়ে গিয়েছে। হয়তো তুমি জানোনা যে, তোমার নাম এখন গুগলে টপ সার্চিং ট্রেন্ড করছে। এটা তোমার প্রতি মোদিজীর সহৃদয়তা ছাড়া আর কী? যার কারনে তুমি আর সামান্য পকোড়া নও, এখন তুমি রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী পকোড়া হিসেবে উঠে এসেছ। তোমার এহেন উন্নতিতে তোমার কাঁচামাল বেসনের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। যার কারনে পতঞ্জলি বেসন এবং ফর্চুন অয়েল দেদার বিকোচ্ছে। স্বদেশী স্বাদ দিতে হবে না? যায় হোক, এসময় তোমাকে পাল্লা দেওয়ার মতো কেউ নেই।

সমস্ত জাতীয় সংস্থায়, জাতীয় চ্যানেলগুলিতে এখন তোমাকে ভাজা হচ্ছে। আগামীতে তুমি সংসদ ভবনের রাস্তাতেও ভাজা হতে পারো। যদিও এই সংসদ ভবনের সবাই তোমাকে ভুলে গিয়েছিল, শুধুমাত্র মোদিজী ছাড়া। কিন্তু, মোদিজী একটা ভুল করেছেন তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত। তুমি চায়ের মতো অমর হয়ে যেতে, যদি মোদিজী একবার বলে দিতেন – ‘আমি চায়ের পাশাপাশি পকোড়াও বিক্রি করতাম। তাই আমি চাই ভাইয়ো আউর বেহনো গোটা ভারত চা-পকোড়া বিক্রি করুক।’

বলো, যদি মোদিজী একথা বলে দিতেন তাহলে কেমন হতো? মোদিজী ও চায়েদ সখ্যতা নিয়ে গল্প লেখার মতো করে তোমাকে নিয়েও দুই, তিন, চার খণ্ডের উপন্যাস লেখা হত। চা যেমন মোদিজীর নামের সঙ্গে অমরত্ব লাভ করেছে, তেমনি তুমিও অমরত্ব লাভ করতে পারতে। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি তোমার সঙ্গে অন্যায় করলেন, কেন করলেন সেটাই বড় প্রশ্ন। যদিও একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, তিনি চাওয়ালাদের থেকে পকোড়াওয়ালাদের বড় করে দেখিয়েছেন। নিজের জাত ভাইদের থেকে তোমাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন, কেননা চাওয়ালাদের রোজগেরে শ্রেনীতে অন্তর্ভুক্ত না করে পকোড়াওয়ালাদের করেছেন।

এখন তোমার আর কোনও চিন্তা নেই। রোজগারের খোঁজে দেশের কোটি কোটি যুবক এইবার তোমার দিকে জিভ বের করে এগিয়ে আসবে। এইবার হয়তো মোদিজীর করা ওয়াদা (দু’ কোটি রোজগার প্রতি বছর) পূরণ হবে। তুমি সাবধানে থেকো, তোমার মধ্যেও এইবার ভেজাল দেওয়ার চেষ্টা হবে। তোমারও এইবার জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং এলাকাভিত্তিক সংস্করণ প্রকাশিত হবে। বড় বড় সংস্থাগুলি তোমাকে নিজেদের আয়ত্তাধীন করতে জেহাদ শুরু করবে। দেশের স্টার্চ আপের নতুন জাদুমন্ত্র মোদিজী তোমার ভরসায় বাজারে ছেড়েছেন। কেননা দেশের কোটি কোটি যুবকদের শেষ ভরসা তো তুমিই।

এজন্যই, হে পকোড়া! এখন আমরা তোমারই আশ্রয়ার্থী। মোদিজী নিজ সরকারের চতুর্থ বছরে পা দিয়ে তোমাকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তাদের কাছে আর কিছুই নেই দেওয়ার মতো। তারা কোনও চাকরিও দিতে পারবেনা। তাদের চাকরির কথা বললে বলে, ভারতের যুবকেরা চাকরি নিচ্ছেনা বরং চাকরি দিচ্ছে। এইবার তো তারা সাফ ঘোষণা করে দিয়েছে যে, দেশে কেউই বেকার নেই! পকোড়াওয়ালার রোজগারও উত্তম। আর তাই চতুর্থ বাজেট অধিবেশনে পাঁচ লক্ষ চাকরি পদ বাতিল করে দিয়ে সবাইকে তোমার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এলাহাবাদ থেকে দিল্লি, কোটা থেকে পাটনা এবং কলকাতা থেকে হায়দরাবাদ পর্যন্ত কোটি কোটি যুবক যারা দৌড়াদৌড়ি করে চাকরির ফর্ম ভরছিল তারা এইবার তোমার দিকে দৌড়াবে। দেখো তাদের আবার হতাশ কোরনা। কেননা তুমিই তাদের শেষ ভরসা। পকোড়া এইবার তোমার উপরেই ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তোমার অগ্রগতি হোক দ্রুতগামী।

আগামী নির্বাচনগুলিতে পকোড়া স্টল- এর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়বে। দেখতে দেখতে তোমার নাম ‘ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট’ -এর আওতায় চলে আসবে। তোমার নাম প্রথম পেটেন্ট তো মোদিজী করিয়েই নিয়েছেন। এইবার তারা তোমাকে ছেড়ে কথা বলবেনা। তোমাকে ভালো করে মেখে, খাসা করে ভাজা হবে। হয়তোবা একটু পুড়েও যেতে পারো।

এইজন্য, হে পকোড়া! তুমি সাবধানে থেকো, মোদিজী তোমার নাম নিয়ে দেশের কোটি কোটি যুবককে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। কিন্তু তোমাকে হিরো বানিয়ে দিয়েছ। মনে রেখো, এধরণের লোকেরা কারও আপন হয় না। না নিজের দেশের, আর না নিজের পরিবারের। এরা হয় সন্ন্যাসী। রইল ঝোলা, চললো ভোলা। আর মোদিজীতো ঝোলা কাঁধে নেওয়ার কথা জানিয়েও দিয়েছেন। এজন্য তুমি নিজের কড়াই, বেসন, তেল, পিঁয়াজ, মশলার উপরেই ভরসা রেখো। এরা তোমাকে সংসদ ভবনে আলোচনার বিষয়বস্তু বানালেও, তোমার মান এতটাও তুলবেনা যাতে করে সমস্ত দেশবাসীর জিভ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারো।

tdn_bangla_ads