রমজানের ডালি আড়ম্বরতায় নয়, পূর্ণ হোক অনাড়ম্বর ও সহনশীলতার দ্বারা

0

টিডিএন বাংলা : রমজানের সিয়াম স্রষ্টার দেওয়া এক নিয়ামতপূর্ণ উপহার। যার কণায় কণায় রয়েছে সৃষ্টির্কতার  অশেষ রহমত। সিয়ামই একমাত্র ইবাদত যা বান্দা সম্পূর্ণ রুপে স্রষ্টার জন্য পালন করে থাকে।  স্থান-কাল-পাত্র, ধনী-গরীব নির্বিশেষে প্রতিটি মুসলমানের কাছে এই মাস অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ।কারন রমজানেই  রয়েছে সর্বাপেক্ষা পবিত্রতম রাত ‘লাইলাতুল-কদর’ যে রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআন কে পৃথিবীতে নাজিল করেন। রোজাকে মহান রবের পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য প্রশিক্ষণ হিসাবে পাঠানো হয়েছে। এই দীর্ঘ এক মাস সমস্ত মন্দ এবং অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে নিজেদের দূরে রেখে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের সাথে সাথে নিজের চারিত্রিক উন্নতি লাভের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলমান নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে গড়ার চেষ্টা করে।

সিয়াম পালনের পিছনে আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যের সাথে  সাথে বেশ কিছু সমাজিক উদ্দেশ্যেও নিহত রয়েছে। রমজানের দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে দারিদ্র্যের  ক্ষুধা অনুভব করাটা অন্যতম। হাদিসে এই মাসে ব্যাক্তি কে নিজের সহানুভূতি দেখানোর জন্য জোর দেওয়া হয়েছে বার বার। প্রকৃত রোজাদারের প্রতিবেশীর ইফতারের ডালি কখনো ফাঁকা যেতে পারেনা। সিয়াম হল পারস্পরিক মেলবন্ধনের একটি উত্তম উপায়। সেহরী এবং ইফতার এই দুটি জিনিস সিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেহরী এবং ইফতার কেবল যে বান্দার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। স্রষ্টার কাছেও এই দুটি জিনিস যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নবীজী স্বয়ং দেরী করে সেহরী এবং দ্রুত ইফতার গ্রহণের ব্যাপারে যথেষ্ট তাগিদ দিয়েছেন।

রমজান খাদ্য সংযমের মাস , খাদ্য উৎসবের মাস নয়। কিন্তু  দিনে দিনে এই পবিত্র দিনগুলি মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে খাদ্য সংযমের মাসের পরিবর্তে খাদ্য উৎসবের সময়ে পরিণত হচ্ছে। সেহরী ও ইফতারের ডালিতে রাজকীয় আয়োজন বর্তমান মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে যেন আড়ম্বরতায় পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু মানুষের কাছে এই মাসের ইবাদত বান্দেগীর তুলনায় ভুরিভোজটা অধিকতর  গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। ইসলাম প্রত্যেকটা বিষয়ে তার অনুসারীদের মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। যেখানে হাজারো মুসলমানের ইফতারের প্লেটে নূন্যতম ইফতারের সামগ্রী জোটানো সেখানে একদল মুসলমানের ইফতার এবং সেহরীর রাজকীয় আয়োজন দখলে চোখটা ঝলসে যাবার উপক্রম হয়ে ওঠে। আজ ইসলামের অনুসারীরা নিজেদের আদর্শ টা খুইয়ে বসে, যেভাবে বিলাসিতার জোয়ারে গা ভাসিয়েছে এটা ভাবলে বেশ অবাকই লাগে । যেখানে তাদের হওয়া উচিত ছিল জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে এক আদর্শবান একটি জাতি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করা।

আপনার সেহেরী বা ইফতার আড়ম্বর থেকে সাধারণ পর্যায়ে নেমে এলে হয়ত আপানার মনের অতিরিক্ত সাধটা পূরণ হবেনা। কিন্তু আপানার এই ত্যাগটা  সারাদিন উপবাসের পর কিছু রোজাদার বান্দাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারে। ইসলাম হল মানবতার ধর্ম। একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া ও ইসলামের এর অন্যতম শিক্ষা।

যেখানে সিরিয়া, ফিলিস্তিন মায়ানমারে-বাংলাদেশে রোহিঙ্গা  এমনকী ভারতের দরিদ্র এলাকার মুসলিমদের যেখানে ইফতার, সেহরীর নূন্যতম আয়োজন করার ব্যাপারে বিভিন্ন ট্রাস্টের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে হয়, সেখানে আমাদের ইফতার এবং সেহরীর ডালিতে রাজকীয় সব পদের আয়োজন কিছুটা নয় বেশ কিছুটাই অমানবিক। চিন্তার কিছুটা অতলে গেলেই টের পাবেন সাধারণভাবে আয়োজিত সেহরী বা ইফতার সিয়ামের আদর্শকে ফিকে নয় বরং উজ্জ্বলতর  করে তোলে। আর মহান রবের কাছে সর্বদা সরল ও অনাড়ম্বর জীবন অধিক পচ্ছন্দনীয়। আসুন এই রমজানে সকলে মিলে নিজের ইফতার ও সেহরীর ডালিকে হরেক রকমের রাজকীয় পদ দিয়ে পূর্ণ করার পরিবর্তে রমজানের ডালিকে অনাড়ম্বরতা ও একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীলতা  দিয়ে পূর্ণ করি। আল্লাহ আমাদের সকল রিয়া-অহংকার থেকে হেফাজত করুন।
আমীন।

আফরিদা খাতুন আঁখি
পাঁচলা, হাওড়া