শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখ্য উদ্দেশ্যই কি অর্থ উপার্জন? “সেকালের শিক্ষা আর একালের শিক্ষা” নিয়ে বাস্তবোচিত প্রবন্ধ

0
মহম্মদ আজহারউদ্দিন

মোহা: আজহারউদ্দীন, টিডিএন বাংলা : আজ আমার জীবনের জঘন্যতম অনুভূতির ডিগ্রিটির কার্যক্রমকে আলবিদা জানালাম। এই ডিগ্রিটি না করলে হয়তো এত নিসঠুর,বর্বর, অমানবিক, বিবেকহীন ও অনৈতিক কার্য-কলাপ যে একশ্রেনীর, শিক্ষানুরাগী, শিক্ষারদী, শিক্ষক সম্প্রদায়ের দ্বারা সম্পন্ন হচ্ছে তা আমার কাছে অজানা থেকে যেত। আমি ডিগ্রিটির কথা উল্লেখ না করলেও আপনার একটা অনুমান করতে পারছেন আশা করি।

অতীতে আমরা দেখেছি শিক্ষাকে ব্রত হিসাবে গ্রহণ করেছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্যাসাগর, ঋষী অরবিন্দ ঘোষ মত মহান ব্যক্তিত্বরা। ফলে তারা কোনো ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয় জাতি গড়ার উদ্দেশ্যে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়ে তুলেছিল একথা আপনাদের অজানা নয়।আমি শুধু স্মরন করাচ্ছি। কিন্ত বর্তমানে আমরা দেখছি যারা মঞ্চে উঠে শিক্ষাদরদী ও শিক্ষানুরাগীর রুপ দেখাচ্ছে তারা হয় অশিক্ষিত নয়তো অর্ধশিক্ষিত, তাদের মধ্যে কেউ মাংসওয়ালা, বিড়িওয়ালা,পাত্তাওয়ালা, ইট ভাটাওয়ালা,নয়তো আড়তদার। তাদের মধ্যে কেউ শিক্ষাকে ব্রত হিসাবে নিতে পারেনি। তাদের অগাধ পুঁজি রয়েছে আরো পুজি দরকার চলো কিছু বি.এড কলেজ, ডি.এড কলেজ, পলেটেকনিক কলেজ তৈরি করিকেউ আবার মিশনও করেছে। ফলস্বরুপ শিক্ষা সার্বজনীনতার পরিবর্তে হয়ে উঠলো “ফেল কড়ি মাখো তেল”। হুহু করে ঢুকে পড়লো অনৈতিকতা আর শিক্ষার বেচা-কেনার কারখানা রমরমিয়ে চলতে থাকলো। যারা শিক্ষক হয়েছে আর যারা শিক্ষক হবে তারা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হতে গিয়ে নির্লজ্জ দ্বিপদী প্রাণীতে পরিণত হয়ে গেল। টাকা বিনিময়ে পরীক্ষার সেন্টার ক্রয় করে বইয়ের পাতা ছিড়ে প্রকাশ্যে খাতায় এক দ্বিপদী প্রাণী টুকছে আর আরাক দ্বিপদী প্রাণী দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। সেটা নাকি তাদের কাছে ইনস্ট্রাকশন আছে আর যারা টাকা দিয়ে সেন্টার ক্রয় করেনি তারা পরীক্ষা চলাকালীন পেছনের বন্ধুর কাছে একটি ব্লু-পেন চাইলে খাতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা হয়তো তাদের ইনস্ট্রাশনের একটা শ্রেণী। এরা নাকি জাতি গড়ার কারিগর হবে? ওই দ্বিপদী প্রানীগুলো হয় ডিগ্রি কিনে বি.এড কলেজে পড়াচ্ছে নয়তো তারা মুল্যবোধের পাঠ নিতে পারেনি।সময় আছে লজ্জা থাকলে জমিতে গিয়ে চাষ করেন হয়তো ভালো কৃষক হতে পারবেন কিন্ত শিক্ষার মত পবিত্র বস্তুকে কলঙ্কিত করবেন না।

আর শিক্ষাপ্রেমীদের বলছি শিক্ষাকে ব্রত হিসাবে গ্রহণ করেছেন বটে কিন্ত আপনি কি জানেন কত নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হাজারো অর্থনৈতিক টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে পরিবারের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য একভাই রাজমিস্ত্রির কাজে ভিন্নরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে আর আর এক ভাই উচ্চতর ডিগ্রিধারী হওয়ার পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য আপনার দরবারে গিয়েছে আর আপনার দোসররা তাদের সঙ্গে কি আচরন করছেন সে বিষয়ে খোঁজ রাখবেন না? আপনি কি জানেন দরিদ্রের সংসারে সামান্য কিছু টাকা আপনার প্রতিষ্ঠানে পাওনা থাকার কারণে পরীক্ষার একদিন আগেও অ্যাডমিট না দিয়ে অপমান করে ফেরত পাঠিয়েছে।

যার বাড়িতে নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার টাকা নিয়ে যাবেন মুম্বাই সিটিতে টুরে? ট্যুরে যেতে অসর্মথ্য হলে তার কাছে অর্ধেক টাকা জুলুমবাজি করে আদায় করা হয়েছে আর আপনি হবেন সেই প্রতিষ্টানের মালিক? বক্তব্যের মঞ্চের শিক্ষানুরাগী? আমার প্রতিবাদের ভাষায় আঘাত পেয়ে যদি রাগান্বিত হন তাহলে দুঃসাহসের সঙ্গে আপনাদের লাইসেন্সহীন একে৪৭ টি দিয়ে আমার বুকে গুলি করবেন। আমি হয়তো অকালে ঝড়ে যাবো কিন্ত আপনি হাজার বছর বাঁচবেন না। কিয়ামতের মঞ্চে সব হিসাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব।