মুর্শিদাবাদে ইউনিভার্সিটির জন্য যেকোন সংগঠনের আন্দোলনকে স্বাগত

মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা : মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় করার কোনও ‘পরিকল্পনা’ রাজ্য সরকারের নেই। আল্লাহ যা করেন ভালো করেন। সেদিন একজন তৃণমূল নেতা বলছিলেন- ‘কোনও দল মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় দেয়নি, তৃণমূল সরকার দেবো বলেছে, সুতরাং আপনারা তৃণমূলকে ভোট দিন।’
বছর দুয়েক আগে তৃণমূলের যুব সম্পাদক সৌমিক হোসেন আমাকে বলছিলেন, ‘দিদির কাছে কিছু চায়তে হয়না। না চাইতে পাওয়া যায়।’
সবাই ভাবছিল এবার হয়তো ইউনিভার্সিটি হবে। গতকাল কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বিধান সভায় লিখিত ভাবে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে জানতে চান। সরকারের কাছ থেকে যা জবাব এসেছে তা হাস্যকর। ইউনিভার্সিটি নিয়ে সরকারের কোনও ‘পরিকল্পনা’ নেই। তাহলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ইউনিভার্সিটি ‘আশ্বাস’ কী হলো?
সে কি শুধু কথার কথা?

ভালো লাগছে শুনে যে, এই সরকারের ভাবনায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই। মুখোশের আড়ালের মুখগুলি চেনা হলো। বাম কংগ্রেসের মতো আবার ধোঁকা খাওয়া থেকে মুক্তি পেলো জেলাবাসী। আগামী দিনে সঠিক নেতা নির্বাচন করা জেলার মানুষের জন্য ফরজ হয়ে গেলো।

আমি গর্বিত মনোজের জন্য। তিনিই প্রথম ইউনিভার্সিটির বিষয়ে বিধান সভায় আওয়াজ তুললেন। এটা একটা ইতিহাস।এসআইও-র বড়ো জয়।
ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতৃত্বে মদ বিরোধী আন্দোলন যখন উত্তাল হচ্ছিল রাজ্যে, তখন বিধান সভায় মদ নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক রামিজ। টকশো হয়েছিল টিভিতে। সব মিডিয়ায় হইচই পড়ে গিয়েছিল। আমি সেদিন খুব খুশি হয়েছিলাম। আলি ইমরান রামিজকে ফোন করে ধন্যবাদ দিয়েছি। বহু বিরোধী নেতা তখন মদের ওপর আমার কাছে তথ্য চেয়েছিলেন। আমার লেখা গান, কবিতা আর বই তাঁদের পাঠিয়েছিলাম। হাজি আক্তারকে একদিন মনে মনে বলেছিলাম- ‘আপনি মদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন।প্রথম শহীদ। ওই লাশটা যদি আমার হতো তবে নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতাম। আজ জীবিত আক্তারের চেয়ে মৃত আক্তারের মূল্য অনেক বেশি। আপনি দেখে যান, এই ছোট্ট ছেলেটি আপনার জন্য একটা বই উৎসর্গ করেছে আর বাংলায় মূল্যবোধের আন্দোলনের কান্ডারী ডাঃ রইসুদ্দিন তাতে সাক্ষর করেছে। আজও আপনার নামে কলকাতায় মিছিল হয়। এই বাংলা যতদিন থাকবে, মদ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে আপনার নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।’

আজও মদ নিষিদ্ধ হয়নি। তবুও ওয়েলফেয়ার পার্টি মদের বিরুদ্ধে যে ঝড় তুলেছিল তা শাসক দলের কিছু লোক বাদে সবার হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছিল।এখন আমরা সহজে বলতে পারি- মদ বিরোধী আন্দোলনে সক্ৰিয় ভাবে না পেলেও তৃণমূলের বহু লোক মদের বিরুদ্ধে । একদিন এই আন্দোলন কোটি জনতার আন্দোলন হবে। সেদিন কিন্তু প্রশ্ন উঠেছিল- বাম কংগ্রেস এতদিন রাজ্যে মদ রেখেছে আর আজ তৃণমূলের বিরোধীতা করার জন্য মদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। আমার প্রশ্ন- এতদিন খারাপকে সমর্থন করেছে বলে এখন খারাপের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবেনা? তাহলে সংশোধনবাদ কাকে বলে? একদিকে বিরোধীরা আন্দোলন না করলে রাগবেন আবার আন্দোলন করলেও বলবেন, ‘এতোদিন করনি কেন? হাইজ্যাক করতে এইসব হচ্ছে।’
আমি ধন্যবাদ জানাই ওয়েলফেয়ার পার্টির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আমার প্রিয় সারওয়ার হাসান ভাইকে। তিনি সেদিন জনতার সামনে বলেছিলেন, আন্দোলন ভাইরাল করে দিন। যে পারে সে মদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করুক। আমরা মদ বিরোধী যেকোন আন্দোলনকে স্বাগত জানাই।
আমি চাই মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে সকল মানুষ পথে নামুন। এতদিন কংগ্রেস, সিপিআইএম পথে নামেনি বলে এখন নামবে না? আমি চাই, একুশ শতকের যুব সমাজ পথে নামুক। ইউনিভার্সিটির জন্য, শিক্ষার জন্য যেকোন দলের আন্দোলন স্বাগত। এমনকি বিজেপি, আরএসএস, বজরং দলের কর্মীরা মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি তুলতে পারে। আমি চাইবো, ‘একটু পদের’জন্য বসে না থেকে উমেদার, প্রবঞ্চক না হয়ে তৃণমূলের লোকেরাও এবার পথে নামবেন। মনে রাখবেন, তৃণমূলের লোকেরাও মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় চায়ছে। কিন্তু ব্রাহ্মণ্যবাদী, শিক্ষা বিরোধী কিছু লোকের জন্য সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সময় এসেছে কথা বলার। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল, বিক্ষুব্ধ বাম-কংগ্রেসের লোকেরাও এবার একটু কথা বলুন। সমস্ত ধর্মীয় নেতারা সরকারকে ‘শিক্ষা বিরোধী’ ঘোষণা করুন। মৌলিক অধিকার থেকে যারা বঞ্চিত করবে তাদের বয়কট করুন। আমি চাই, যে গণবিপ্লবের ধ্বনি এসআইও জেলা জুড়ে তুলেছে তা প্রতিটি বাঙালির মনের আবেদন হোক। তাই এসো হে যুবক, এসো হে নারী
বলো-পারি আমরা-আমরাই পারি।