ধর্ষকরা ধর্মের আশ্রয় নিয়ে বাঁচতে চাইছে, একবিংশের এ লজ্জা রাখি কোথায়!

0

আফরিদা খাতুন, টিডিএন বাংলা: ভারত ধর্ষণের দিক থেকে সমগ্র বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রথম স্থান দখল করলেও করতে পারে। প্রত্যেক দিনই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ হামেশাই ঘটতে থাকে। কিন্তু ২০১২ র নির্ভয়ার কাণ্ডের পর আরো একবার আসিফার নৃশংস গণধর্ষণে সমগ্র ভারতবাসীর সাথে সাথে বিশ্ববাসীও শিহরিত হয়ে উঠল।

আসিফা বানু, বয়স মাত্র ৮ বছর। নেহাত একটা শিশু, কৈশোরের দোরগোড়াতেও বুঝি পা ঠিকমতো পড়েনি যে তার শরীরের যৌবনের প্রথম ছোঁয়া লাগবে। তবুও সে শিকার হল ধর্ষণ নামক জঘন্য অপরাধের। তথ্যানুযায়ী সবই নাকি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। জম্মুর উন্নাও এর বাকওয়াল নামক যাযাবর গোষ্ঠীর মহম্মদ ইউসুফ এর কন্যা ছিল আসিফা। বাকওয়াল নামক এই যাযাবর গোষ্ঠী গ্রীষ্মের সময় জম্মু এবং শীতের সময় কাশ্মীরে বসাবস করে। আসিফার ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত সঞ্জী রাম ভারতের শুল্ক বিভাগের প্রাক্তন এই অফিসার বেশ কিছুদিন থেকেই বাকওয়াল নামক যাযাবর গোষ্ঠীকে তার ঐ এলাকা থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল, যার জেরেই আসিফার এই করুণ পরিণতি করে তারা।

তথ্য বলছে, আসিফার ধর্ষণের ব্যাপারটা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং আয়োজিত। একটি জাতি বা গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে বা জব্দ করতে এমন জঘন্যতম পরিকল্পনা যে কেউ করতে পারে তা ভাবলেই আবাক হতে হয়। আট বছরের একটি শিশুকে আট দিন ধরে পশুর মত ছিঁড়ে  খেয়েছে। বৃদ্ধ থেকে নাবালক সকলেই তাকে ভোগের বস্তু বানাতে পারে কীভাবে?

সঞ্জী রাম, তার পুত্র বিশাল জনগোত্র। তার ভাইপো, পুলিশ অফিসার দীপক খাজুরিয়া এবং সুরিন্দর কুমার কী আসলেই কী সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ? একটু গভীরে ভাবলে উত্তরটা না ছাড়া হ্যাঁ হবেনা। এরা আসলেই বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন নরকীট যাদের মনে একটি আট বছরের কন্যাশিশুর দেহ ও যৌন উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এই বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন নরকীটদের হইত আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীল সামাজই নিজের অজান্তেই সৃষ্টি করে চলেছে। বর্তমানে নারী স্বাধীনতার নামে টিভি, সিনেমা, ইন্টারনেট, ম্যাগাজিনে নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসাবে উপস্থাপিত করে চলেছে, যার ফলে কিছু কিছু পুরুষদের কাছে নারী মানেই তাদের যৌন উত্তেজনা কমানোর টনিকে পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে চাহিদা পূরণের জন্য যে কোন একটা নারীর দেহ হলেই চলে। সেই দেহে পূর্ণতা আসুক আর নাই আসুক তাতে তাদের কোন যায় আসেনা।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ আজ আসিফার জন্য সমবেদনা প্রকাশ করছে। কিন্তু যতদিন না এই দেশে ধর্ষক দের শাস্তি হিসাবে ফাঁসিকে ধার্য এবং কার্যকর না করা হয় ততদিন আমাদের সমবেদনা আর নেতা মন্ত্রীদের ফিকে আশ্বাসে  কোন কাজ নেই। নির্ভয়ার মায়ের কথানুযায়ী, মন্ত্রীদের এই আস্থা কোন কাজে লাগবেনা যদি তাঁর মেয়ের হত্যাকরীদের ফাঁসি কাঠে ঝোলানো হত তাহলে হয়তো আসিফার আজ এই অবস্থা হতনা।

নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত মানুষগুলি যে শুধু আসিফার সম্মান কেড়েছে তা না আসিফার সাথে সাথে নিজের মা-বোন-কন্যা দেরও সম্মান ও মর্যাদাকে ধর্ষণ করেছে। যে ভারতমাতার শ্লোগান দিয়ে  আসিফাকে ওরা রক্তাক্ত  করেছে সেই ভারতমাতাই আজ বুঝি লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছে। যে রামের জয়জয়কার দিয়ে ওরা আসিফার ছোট্ট শরীরকে দাঁতের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করছে সেই শ্রীরামচন্দ্র আজ নিজেকে পুরুষ বলতে বুঝি লজ্জা পাচ্ছেন কারণ সে ঐ নরপশুদের হাত থেকে আসিফা নামক ছোট্ট জীবনটাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ধর্মকে ব্যবহার করে বাঁচতে চাইছে অপরাধীরা। লজ্জার বিষয় হল ঐ অপরাধীদের বাঁচতেই আবার এগিয়ে আসছে কিছু উগ্র ধর্মান্ধরা। আরো পরিতাপের বিষয় হল এদেরকে নানা ভাবে আশ্রয় দিচ্ছে রাষ্ট্র। ‘নিজেদের বাঁচাতে ধর্ষকরা ধর্মের আশ্রয় নিচ্ছে’। আসিফা কান্ডের প্রতিবাদ জানাতে সম্প্রতি এবাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন লালগোলার পুরোহিত বিশ্বনাথ পাঠক।

আজ আসিফার হত্যাকরীদের যদি ফাঁসি না হয় তাহলে জানতে হবে সেটা মানবতার ব্যর্থতা। এই ভারতের বুকে আর কোন আসিফার করুণ অবস্থা যাতে না হয় তার জন্য আসুন আমাদের প্রগতিশীলতার একটা মাপকাঠির কথা ভাবি। আজ আমাদের কণ্ঠ শুধু আসিফার ন্যায়ের জন্য নয়, ধর্ষণের মত নারকীয় অপরাধের জন্য দেশের আইন বদলের জন্য গর্জে উঠুক যে আইন ভারতের সমস্ত নারীর রক্ষাকবচ হবে। যে আইন কোন পুরুষকে সঞ্জী রামের মত কোন নারীর দেহে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে হাজার বার ভাবাবে।

পাঁচলা, হাওড়া

tdn_bangla_ads