মূর্তি ভাঙার প্রতিযোগিতা নীরব মোদী কান্ডকে ধামা চাপা দিচ্ছে

0

প্রসেনজিৎ বোস, টিডিএন বাংলা: আশা করি অনেকেই বুঝতে পারছেন যে ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙা দিয়ে যেই জঘন্য ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল, সেটা ওখানেই থেমে থাকেনি। পেরিয়ার, আম্বেদকর, সুভাষচন্দ্র বসু, মাইকেল মধুসূদন – প্রগতিশীল চিন্তার বিভিন্ন প্রতীক একের পর এক আক্রান্ত হয়ে চলেছে। এর মধ্যে আবার কিছু ধেড়েশিশু “বামেরা” শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিও ভাঙার চেষ্টা করেছে। এই বিকট প্রহসনের আসল ফলটা কি হচ্ছে? ধামা চাপা পরে যাচ্ছে নীরব মোদী-মেহুল চোক্সীর রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া। ধামা চাপা পরে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক গুলির কয়েক লক্ষ কোটি টাকার অনাদায়ী কর্পোরেট ঋণের বিষয়টা, এবং সেই ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে মোদী সরকারের অপদার্থতা। পিছনে চলে যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান বেকারি, কৃষি সঙ্কট, অর্থনীতির বেহাল অবস্থা। ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে কেন্দ্রের সরকারটা “আচ্ছে দিন” আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
এটাই পোষ্ট-ট্রুথ বিশ্বের আসল চেহারা। বাস্তবের যন্ত্রণাগুলি থেকে মানুষের মন সরিয়ে ফালতু বিষয় নিয়ে মানুষকে ব্যস্ত করে রাখো, মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দাও। আর দেশে কোটি কোটি বিক্ষুব্ধ বেকার তো আছেই – শাসকরা যাদের পকোড়া-চপ ভাজার উপদেশ দিয়ে থাকেন – তারা অখণ্ড অবসরের মধ্যে কখনো একটা-দুটো মূর্তিও ভেঙে আসতে পারে কিছু পয়সার বিনিময়ে।
বেড়ে চলা বেকারত্ব বিপ্লবের জন্ম দেয় না। জন্ম দেয় প্রতিক্রিয়ার, ফ্যাসিবাদের। বিংশ শতাব্দীর ইউরোপের ইতিহাস সেটাই দেখায়। পোলিশ অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্যালেশকি বলেছিলেন ফ্যাসিবাদীরা পুঁজিবাদের শিকলে বাঁধা কুকুরের মতন। যখনই পুঁজিবাদে সঙ্কট বাড়ে, সেই কুকুরটাকে শিকল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেটাই হচ্ছে আমাদের দেশে।
এই মূর্তি ভাঙার ধ্বংসাত্মক মুর্খামির বিরুদ্ধে শুধু সোচ্চার হলেই হবে না, আসল ইস্যুগুলো নিয়ে সোচ্চার হতে হবে। দুর্নীতি, অনাদায়ী ঋণ, মন্দা এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে জনমত, গণ-আন্দোলন। নাহলে আজ মূর্তি ভাঙা হচ্ছে, কাল আমাদের মাথাও ভাঙা হবে। ভাঙা যাবে সভ্যতা।

(লেখক একজন অর্থনীতিবিদ ও ইয়ং বেঙ্গলের নেতা।)
head_ads