পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা : স্বাধীনতার ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে তবুও মুর্শিদাবাদে শিক্ষার গতি টিপটিপ করে জ্বলা মোমবাতির মতো। মুর্শিদাবাদের খ্যাতির জন্য গোটা বিশ্ব আজও মুর্শিদাবাদকে এক বাক্যে চেনে।  যে মুর্শিদাবাদ থেকে গোটা দেশ শাসিত হয়েছে সেই মুর্শিদাবাদ শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়েছে । এখানে প্রায় ৮০ লক্ষাধিক জনসংখ্যা তা সত্বেও একটাও  বিশ্ববিদ্যালয় নেই। অথচ বলা হয় শিক্ষার অধিকার আইনে  প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে । তাহলে মুর্শিদাবাদে ৮০লক্ষ সংখ্যা থাকা সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় হল না -এটা কি বঞ্চনা নয়?  যদি বঞ্চনা না হয় তাহলে উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে রাখার পরিকল্পনা কি? যদি এটাও না হয় তাহলে কি? বামেরা ৩৪ বছর রাজত্ব করে মুর্শিদাবাদকে ধোকা দিয়েছে ।তৃণমূলের আমলে  ৬ বছর অতিবাহিত হয়েছে । এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভাবনা উচ্চস্তরে দেখতে পাচ্ছি না । শিক্ষার অধিকার নিয়ে মুর্শিদাবাদ বাসি দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে।যাক না!  তাতে উচ্চমহলে কোনো চিন্তা নেই ।
মুর্শিদাবাদের বেশির ভাগ মানুষ শ্রমজীবী । তারা পয়সার অভাবে কোলকাতার মতো শহরে ছেলে মেয়েদের শিক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । শহরে শিক্ষালাভ করানো শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে দুঃসাধ্য । কোনক্রমে গ্রামের ছেলেমেয়েরা মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কাজে বেরিয়ে যায় । এও দেখা যায় যে কলেজ পাশ করে তারা বিভিন্ন কাজে নেমে যাচ্ছে । কলেজ পাশ করার পর তারা ভাবনারত হয়ে পড়ে কেননা মুর্শিদাবাদে একটাও বিশ্ববিদ্যালয় নেই।  না পারবে তারা কোলকাতায় ভর্তি হতে না পারবে তার খরচ বহন করতে । ফলে পড়াশুনার হাল ছেড়ে যেতে হয় রাজমিস্ত্রি কাজে। মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে হয়ত এই দুরাবস্থা মুর্শিদাবাদবাসির হতো না । ভারতে বিভিন্ন প্রান্তে রাজমিস্ত্রির লেভার যার মধ্যে বেশিরভাগ লোকই মুর্শিদাবাদের!
সত্যিই অবাক লাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ছাত্রদের আন্দোলন দেখে ।শাসক এতটাই কি এমম তাদের বঞ্চনা করছে?  যে ছাত্রযুবদের  রাস্তায় নেমে মিটিং মিছিল করতে হচ্ছে!  শিক্ষার অধিকার টা তো প্রাপ্য বিষয় তা সত্বেও কেন সরকার বঞ্চিত করছে মুর্শিদাবাদ কে????

বিনীত

                     সোহেল রানা

                    বি.এ তৃতীয় বর্ষ

          ডি.এন কলেজ, মুর্শিদাবাদ