এই অন্ধ নারী দিবস কিন্তু রোহিঙ্গা, সিরিয়ার মা বোনদের কান্না দেখতে পায়না!

0

মোকতার হোসেন মন্ডল, কলকাতা: একটা দিবস। একটি সময়। একটি কবিতা। একটু আলোচনা। ব্যাস। এই অন্ধ নারী দিবসের আর কিছু করার নেই। এই বোবা নারী দিবস কথা বলতে পারেনা। এই পঙ্গু নারী দিবস সিরিয়া, আফগান, রোহিঙ্গা সহ পৃথিবীর নির্যাতিতা, ধর্ষিতা মা বোনেদের পাশে দাঁড়াতে পারেনা!
এইচআরডব্লিউ এর রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ সহ সেনাদের অন্যান্য যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় মায়ানমার সরকারের অবিলম্বে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরুর অনুমোদন দেওয়া উচিত। সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষা পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, আক্রমণাত্মকভাবে দেহ তল্লাশি এবং যৌন হামলায় অংশ নেন।
রিপোর্ট বলছে,বন্দুকের নলের মুখেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। কেউ নেই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে রক্ষা করার। কেউ নেই জালিমদের বিরুদ্ধে উচ্চ বাক্যে কথা বলার। কেউ নেই, কেউ নেই!
আফগানে সাম্রাজ্যবাদীদের হামলায় মা বোনেদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে এসেছে। সিরিয়া, ফিলিস্তিনের নারীরা আজ দুহাত আকাশের দিকে তুলে ফরিয়াদ করে বলে,”বাঁচাও”। গণতান্ত্রিক বিশ্ব নারী দিবস পালন করে। কিন্তু প্রতিটি দিন নারীরা যেভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে তার বিচার হবে কি? শুধু রোহিঙ্গা বা সিরিয়া, আফগান নয়-গোটা পৃথিবীতে নারীকে আজ পণ্য করা হয়েছে। আজ নারীর অধিকার,মর্যদা সুরক্ষিত নয়। আমাদের দেশে নিরুপমারা আত্মহত্যা করে। লক্ষ লক্ষ মা,বোন,মেয়ে,কাকিমারা পতিতালয়ে থাকতে বাধ্য হোন। নারীকে  আজ দাসী বানিয়ে রেখেছে একুশ শতকের ছদ্মবেশি আদিম মোড়লরা। আজ মা বৃদ্ধাশ্রমে।
নারী দিবস তখনই সার্থক হবে যখন একজন মেয়ে নিরাপত্তা পাবে। আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে একজন নারী একাকিনী দিল্লি থেকে কলকাতায় আসবেন কিন্তু কেউ তাঁকে কুটু কথা পর্যন্ত বলবে না। নারী আমাদের মায়ের জাতি। আর মায়ের পায়ের তলায় স্বর্গ। যে বাড়িতে তিনজন মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তার জন্য সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে মহামানবের পক্ষ থেকে। আজকের দিনে তাই নারী মুক্তির জন্য সংগ্রাম করার কর্মসূচি নিতে হবে। নারী দিবস সেই দাবি করছে।

head_ads