এক সন্ত্রাস দমনের জন্য মারণাস্ত্র নিয়ে আরেকটি সন্ত্রাস সৃষ্টি বন্ধ হবে কবে?

0

মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা : একজন মানুষ কারও কাছে সন্ত্রাসী আবার কারও কাছে মানবপ্রেমী।একজন লোক কারও কাছে ভালো আবার কারও কাছে খারাপ। পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে,সাধু ও সজ্জন ব্যাক্তিদের সন্ত্রাসের দায়ে কারাগারে আটকিয়ে খুন করা হয়েছে। প্রচলিত রাষ্ট্র বরাবরই সন্ত্রাসীদের উৎসাহ দিয়েছে। মুসা(আ) যখন দেশের কল্যাণের কথা বললেন তখন তিনি ফেরাউনের চোখে সন্ত্রাসী হয়ে গেলেন। আবার হিটলার এতো হত্যা করলেও জার্মানির একটা বিরাট অংশের মানুষ তাঁর সমর্থক। নাথুরাম গডসে গান্ধীজীকে হত্যা করেও পুজো পান। আফরাজুলকে কুপিয়ে পুড়িয়ে খুন করেও শম্ভুর সমর্থনে মিছিল হয়! ব্রিটিশের চোখে ক্ষুদিরাম,অসফাকুল্লা সন্ত্রাসী আবার আমাদের চোখে তিনি বীর বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী। সুতরাং সন্ত্রাসী কে-এই প্রশ্ন থেকেই যায়। একটা শ্রেণী নিজেদের বঞ্চনার কথা বললে, স্বাধীনতার কথা বললে তাদের টার্গেট করে রাষ্ট্র।
আমাদের সমাজ ও বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় এক সন্ত্রাস দমনের জন্য আরেকটি সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়। এক মারণাস্ত্র প্রতিরোধের জন্য তার চেয়ে আরো বেশি গুণ শক্তিশালী মারণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে শুরু হয়েছে সন্ত্রাস দমনের জন্য মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা। তাই কোনো দেশেই সন্ত্রাস দমন হচ্ছে না বরং আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সারা বিশ্বটাই এখন সন্ত্রাসের শিকারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বটা এখন সন্ত্রাসে সন্ত্রাসে এমন ঘোলাটে হয়ে গেছে যে, বোঝা যাচ্ছে না কে সন্ত্রাসী আর কে সন্ত্রাসী নয়, কে শন্তিকামী আর কে অশান্তি সৃষ্টিকারী। আফগানিস্তান, ইরাক, ফিলিস্তিন, লিবিয়া,মায়ানমার, মিসর, সিরিয়া, তুরস্কে যে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে তা কি সন্ত্রাসের ফল নয়? সন্ত্রাস করে সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হয়েছে কোথায়ও?
তাহলে সন্ত্রাসীকে কিভাবে চিনবো? সহজ উত্তর হচ্ছে এই যে, যা কিছু মানবতার জন্য ক্ষতিকর তা পরিত্যাজ্য। আর যার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই সন্ত্রাসী। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কর্তৃক যদি মানুষের অকল্যাণকর কোনও কাজ হয় তবে রাষ্ট্র সন্ত্রাসী। রাষ্ট্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে যিনি কথা বলবেন তিনি মানবতাপ্রেমী।
সন্ত্রাস কারোই কাম্য নয়। তবু কেন এ সন্ত্রাস? এর কারণ কী? দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের শাসক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সন্ত্রাস দমনের জন্য যত রকম আইন জারি ও পন্থা অবলম্বন করছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যাপক আকার ধারণ করছে। প্রতিটি সন্ত্রাসই একটা বিদ্রোহ এক অপশক্তির বিস্ফোরণ। সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ যেখানে ঘটে তার উৎপত্তির স্থল সেখানে সীমাবদ্ধ নয়, তার জন্ম আরো দূরে ও গভীরে। সন্ত্রাসের নিশ্চয়ই একটা কারণ আছে তা ন্যায় বা অন্যায় যাই হোক। সন্ত্রাসের জন্ম হঠাৎ কোথাও হয় না। শারীরিক ব্যাধির মতো তা আস্তে আস্তে চোখের আড়ালে বৃদ্ধি পেতে থাকে। যথাসময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করে সঠিক ওষুধের ব্যবস্থা করলে তা নিরাময় সহজ হয়। আমার মনে হয়,সন্ত্রাস দমন করতে হলে সর্ব প্রথম রাষ্ট্রকে অভিভাবকসুলভ আচরণ করতে হবে। মায়ের আঁচলের মতো একটি দেশ উপহার দিতে হবে। দুনিয়াটা একটাই দেশ আর মানুষের কল্যাণের জন্য সকলকে ভালো রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ত্ব,এই বোধটুকু না থাকলে দুনিয়া থেকে সন্ত্রাস বন্ধ হবেনা।
কোনো ভাষণ হুমকি ধমকি জোর জুলুমে কোনো কাজ হবে না এবং অশান্তি সৃষ্টি ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। কোথাও কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলে কোনো কোনো কর্তা ব্যক্তিগণ সঠিক তথ্য না জেনেই ফস করেই মিডিয়ায় বলে ফেলেন ‘অমুক এ ঘটনা ঘটিয়েছে’। এর ফলে প্রকৃত সন্ত্রাসীরা আড়ালে অধরা থেকে যায়, তারা আরো বিপুল উৎসাহে অপকর্ম করার সুযোগ পেয়ে যায়। এভাবে হিংসাবশতঃ অনুমান করে ডাহা মিথ্যা নতুন আরেক সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়।

head_ads