রমজানের নূরে নূরানী নারীকূল

0

টিডিএন বাংলা: রমজান মাস ধৈর্য্য ও আত্ম সংযমের মাস। রোজা একটি মনোদৈহিক ইবাদত। রমজানের রোজা ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম। পানাহার, অশ্লীলতা, নেশা ও বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে শেখায় রোজা। রোজা দেহের ও মনের অবাধ চাহিদা, যেটা আমাদের পক্ষে ভালো নয়, তাতে লাগাম পরায়। তাই রমজানের রোজায় ঘটে আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। রোজার মাধ্যমে আমরা আমাদের চোখের, মুখের, হাতের প্রতিটি অঙ্গের সংযমতা রক্ষা করতে শিখি। সেদিক থেকে প্রতিটি মুসলমান মানুষের কাছে রমজান মানের তিরিশ রোজা একটা উপহারস্বরূপ।

রমজান মাস এলেই ধনী-নির্ধন-নির্বিশেষে প্রতিটি মুসলিম ঘরে বয় খুশির হাওয়া। এমন অনেক ঘর আছে, যেখানে পর্যাপ্ত ইফতারের ব্যবস্থাও নেই, খেজুর-ফল-মূল জোটাতে না পেরে পানি দিয়ে রোজা ভঙ্গ করে ভাত বা মুড়ি দিয়ে ইফতার সারতে হয়। তা সত্ত্বেও তাদের রোজা রাখার আনন্দে ভাটা পড়ে না।

গোটা একটি মাস মুসলিম সম্প্রদায় এই সিয়াম সাধনা করে। রমজানের চাঁদ দেখা, পরের দিন থেকে রোজা শুরুর পুলক অনুভব করা, তারাবীহ নামাজ পড়া, সেহরী-ইফতারের ব্যবস্থা করা, শীতের রাতে গরম লেপ কম্বল ছেড়ে সেহরী খাওয়া, কচি-কাঁচাদের রোজা রাখার উন্মাদনা, জেদ, বড়োদের নিষেধাজ্ঞা, কখনো বা রোজা রেখে মাঝ পথে ভেঙ্গে দেওয়া ইত্যাদি অনেক চিত্র চোখে পড়ে রমজান মাসে।

রোজার বিধান নারী ও পুরুষ সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। তবে রমজান মাসে মুসলিম নারীদের একটু অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়ে। অনেক বাড়ীতে পুরুষ সদস্যদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা যথেষ্টই কম। রমজানে ইফতারি তৈরি, সেহরির আয়োজন, সবকিছু মিলিয়ে গৃহিণীদের কাজের চাপ বেড়ে যায় অনেকখানি। সেহরি, ইফতারের মেন্যু ঠিক করা, পরিবারের সবার পছন্দ-অপছন্দ, খাবারের পুষ্টিমান, বয়স্ক ও শিশুদের জন্য আলাদা কিছু করতে হলে সেটা তৈরি করা ইত্যাদি সবই তাকে করতে হয়।

খুব ভোরে যখন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আরামে ঘুমিয়ে থাকে, তখন সবার আগে উঠে সেহরী রান্না করা, পরিবারের সবাইকে খাবার পরিবেশন করা, নিজের সেহরী সম্পন্ন করা, বাসন ধোয়া ইত্যাদি করতে করতে সকালের সোনালী সুর্য উঁকি দেয়। দিনের বেলা সাংসারিক কাজকর্ম, সন্তানের যত্ন-আত্তি, কোনো পেশায় যুক্ত থাকলে সে উদ্দেশ্যে রওনা ইত্যাদির পরে বিকাল বেলার ইফতারের আয়োজনে ব্যস্ত হতে হয়। ইফতারের পর রাতের রান্না ও তৎসহ নানান সাংসারিক কাজ মেটাতে মেটাতে মধ্যরাত নেমে আসে। ক্লান্তিতে গভীর নিদ্রালু দুচোখ! কিন্তু আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু করতে হবে সেহেরীর রান্নার জোগাড়।

এইভাবেই একজন মুসলিম নারীর কাজগুলো চক্রাকারে পুনরাবৃত্তি হয় রমজান মাসে। আর এই সব কাজে তাদের তৎপরতায়, আন্তরিকতায় ঘাটতি পাওয়া যায় না। যেন এক স্বর্গীয় সুখ অনুভব করে। বিশ্রামহীন, স্বল্প নিদ্রায় , নানান কাজকর্মে রোজা-নামাজের মধ্যে দিয়ে রমজানের আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায় আমাদের মায়েদের।

সুরাইয়া খাতুন
উস্থি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা