নারী দিবসেও কাঁদে নারী

0

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” বিদ্রোহী কবির সুরে সুর মিলিয়ে বলতে পারি পারিবারিক তথা জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী। পিতার সম্মান রক্ষা করে যে, ভাইয়ের পড়াশুনার জন্য নিজের পড়াশুনা বন্ধ করে দিতে পারে যে, স্বামীর জন্য উন্নত কেরিয়ারের স্বপ্নে জল ঢেলে দিতে পারে যে, সন্তানের জন্য রাতের ঘুম  হাসতে হাসতে ত্যাগ করতে পারে যে , পরিবারের  সমস্যা ও সমাধানের হালটি কাঁধে তুলে নিতে পারে যে, সে-ই তো নারী। একজন পুরুষের জীবনে নারীর উপস্থিতি মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা রূপে। ‘স্ত্রী’হীন সংসার মানে শ্রীহীন সংসার।


স্বামী বিবেকানন্দের মতে, জাতির উন্নতির মাপকাঠিই হল সেই জাতিতে নারীর মর্যাদার স্থান। তিনি পুরুষ ও নারীকে পাখির দুই ডানার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাখি যেমন এক ডানায় ভর করে উড়তে পারে না, তেমনি নারী জাতির অবস্থা উন্নত না হলে জগতের উন্নতি সম্ভব নয় বলেই তিনি মত প্রকাশ করেছেন। সন্তান প্রতিপালন ,সন্তানের জীবন গঠন নারীর প্রথম ও প্রধান কাজ হলেও জীবনের অনেক ক্ষেত্রে নারীর করনীয় অনেক কিছুই রয়েছে। অতীতের মত নারী সমাজ আজ আর পিছিয়ে নেই। সমাজ ও সভ্যতার উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে নারীর ভূমিকা অগ্রগন্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।

এই নারীর জন্য উৎসর্গ করা যায় বছরের প্রত্যেকটি দিন। তাই তার উদ্দেশ্য করে আর তাকে সম্মান জানাতে বিশ্বে একটি দিন পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে। সেই দিনটি হল ৮ মার্চ। বর্তমানে বহুল চর্চিত একটি বিষয় হল ‘নারী দিবস’। নারীদিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য এক এক প্রকার হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়।


যদি নারী দিবসের ইতিহাস জানতে চাই,  তবে বলা যায় মূলত দিবসটি উদযাপনের পিছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি-বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতো কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চলে সরকারের লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউ ইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ। জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চে নারী দিবস পালিত হয়।পৃথিবীর নানা দেশে এই দিনটি পালিত হয়। বর্তমানে পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি। নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সেই থেকেই আজ অবধি ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব নারী দিবস। আন্তর্জাতিক নারী দিবস UNESCO-এর উদ্যোগে পালিত হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০১৮ সালে নারী দিবসে জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য হল- “সময় এখন নারীর: উন্নয়নে তারা ,বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরের কর্ম-জীবনধারা।”  (Time is Now: Rural and urban activists transforming women’s lives)

এখন আসা যাক ইসলামে নারীর স্থান কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, ইসলাম দিয়েছে নারীকে তার যোগ্য সম্মান। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে নারী পুরুষের সম্পর্ক অনেকটা টায়ার টিউবের মত। একটি ছাড়া অন্যটি অচল। কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও তাদের মূল্যায়ন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। দিয়েছে নারীর জান-মালের নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সম্মান। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব, আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা.) ছিলেন নারী জাতির মুক্তির ত্রাণকর্তা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক।

নারী জাতি সম্পর্কে নবীজি (সা.) এর অমিয় শাশ্বত  বাণী ছিল, নারী জাতি মানব সমাজেরই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ যার সৃষ্টি জগতের জন্য, মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে এক অনুপম ও অতুলনীয় সৃষ্টি। জাহেলি আরব সমাজে নারীদের অবস্থা ছিল আরও শোচনীয় এবং করুণ। কোনো কোনো আরব গোত্রে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হলে তাদের  জীবন্ত কবর পর্যন্ত দিতে তারা দ্বিধা করত না। কন্যা সন্তান জন্ম হওয়া তাদের কাছে অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো। কোথাও কোথাও নারীকে ‘নরকের দরজা’ , ‘আত্মাহীন জীব’ বলে আখ্যায়িত করা হত। রোম থেকে শুরু করে গ্রীস, ব্যাবিলন, ইরান, প্রাচীন ভারত সর্বত্র নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। সামাজিক জীব হিসাবে তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না।

সারা বিশ্বে নারী জাতির বিপর্যয়ের লগ্নে তাদের সকল প্রকার শোষণ, বঞ্চনা, অবহেলা, অবজ্ঞা এবং নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ দিয়ে সম্মান এবং গৌরবময় সামাজিক জীব হিসেবে জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে এই বিশ্বধরায় আবির্ভূত হলেন মহানবী হযরত (সা.)। তাঁর আনিত জীবন ব্যবস্থাই অবহেলিত নারী সমাজকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম মাতৃত্বের মর্যাদাকে মানবতার উচ্চতম স্থানে সমুন্নত করেছে। রাসূল (সা.) এর চিরন্তন বাণী হল মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। তাঁর আগে নারী শিক্ষার দ্বার ছিল সর্বদা রুদ্ধ। শিক্ষাকে নারীর মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব নবী (সা.) এরশাদ করেন, “প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর জন্য জ্ঞান অর্জন অবশ্যই কর্তব্য।” একটা নারী শিক্ষা লাভ করলে গোনা জাতি শিক্ষিত হয়ে ওঠে।

পবিত্র কোরআনে আছে, তোমরা তাদের (নারীদের) সঙ্গে উত্তম আচরণ করো ও উত্তম আচরণ করার শিক্ষা দাও। কিন্তু কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নারী কি পরিবারে, কি বাইরে কোথাও যোগ্য মর্যাদা পাচ্ছে না। অবিচার, হেনস্থা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নারী সমাজ শতাব্দীর পর শতাব্দী কাল ধরে সমাজের সর্বক্ষেত্রে চরম নির্যাতিতা, অবহেলিতা, বঞ্চিতা এবং ভোগের সামগ্রী হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। যুগের বির্বতনে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। সে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে মানুষের জীবনের গতি, বেড়েছে কাজ, আর পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীর কাজও বেড়েছে।

আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেরও আপডেট করছি। শিক্ষা, চিন্তাধারা ইত্যাদিও আর সেকেলে ধরনের নেই। কিন্তু মনে হয়, সময়ের গতির সাথে অনুপাতটা কম হচ্ছে। তাই আজও নারীরা তাদের নিজের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়, উদাসীন। শহরে কিংবা গ্রামে সর্বত্র একই অবস্থা । সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয়, সাংবিধানিক অধিকার ও দাবি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। একজন গ্রাম্য, অল্প-শিক্ষিতা নারী যেমন পারিবারিক হিংসার শিকার হন, শহুরে শিক্ষিতা চাকুরীজীবি নারীকেও অকালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়। পুরুষকে যেমন এর জন্য কাঠগড়ায় তোলা যায়, আবার অনেকসময় পরিবারের অন্যান্য নারীকেও এর দায়ভার দেওয়া যায়।

নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। বিশ্ব-সভ্যতায় নারীর অবদান পুরুষের সমতুল্য। সৃষ্টির শুরু থেকেই নারী ও পুরুষ সমান দক্ষতা নিয়ে মানব সভ্যতাকে গড়ে তুলেছে। পৃথিবীর সব মহান সৃষ্টি ও কল্যাণকর কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীও রেখেছে অশেষ অবদান। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে অনেক সময় অক্ষম বিবেচনা করা হয়, ধর্মান্ধতার শিকার হয়ে অনেকেই নারীকে রেখে দেয় লোকচক্ষুর অন্তরালে। নারীকে অযোগ্য, অকর্মণ্য ভেবে দূরে সরিয়ে রাখা ঠিক নয়। পরিবার, সমাজ ও জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নারীরাও পুরুষদের মতো অবদান রাখতে পারে। উন্নত দেশগুলোতে নারী-পুরুষ পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের দেশে অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে অনেকে নারীসমাজের পায়ে শিকল পরিয়ে রাখে। অনেক গ্রামীণ নারীরা এখনও উচ্চশিক্ষা বা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। নারী সেখানে আত্মমর্যাদাহীন দাসীর মতো জীবনযাপন করে।

এ অবস্থা সত্যি অমানবিক। কারণ দৈহিক ভিন্নতা, কর্মক্ষেত্রের ভিন্নতা, কর্মযোগ্যতার ভিন্নতা ও রুচির ভিন্নতা থাকলেও মর্যাদার দিক থেকে তারা সমান। পুরুষের কাজকে নারী যেমন মর্যাদার চোখে দেখে, তেমনি পুরুষেরও উচিত নারীর কাজকে সম্মানের চোখে দেখা। নারীরা যেমন পুরুষের সব কাজে প্রেরণা শক্তি ও সাহস জুগিয়ে সাফল্য অর্জনে সহায়তা করে যাচ্ছে, আজকের শিক্ষিত পুরুষেরাও নারীর ভূমিকাকে মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করছে। তাই এ দেশেও এখন শিক্ষিত নারী-পুরুষ একযোগে কাজ করে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা আজ বুঝতে সক্ষম হয়েছে মানব সভ্যতার বিকাশে উভয়েরই সমান অবদান রয়েছে।

মানব জাতির স্থায়িত্ব, শান্তি নর ও নারীর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং তাদের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্কের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। অধিকাংশ পুরুষকেই দেখি নিজের পরিবারের নারীকে যথাযোগ্য সম্মান দিতে সমর্থ্য হলেও  পরিবারের বাইরের নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন মনে করেন না। তাই নানা রকম বাজে নামকরণ করে যেগুলো সভ্য মানুষ মুখে আনতে পারে না।

কিছু পুরুষের কাছে নারী মানেই  ভোগ্যবস্তু। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমরা যতই প্রকাশ্যে পুত্র -কন্যা সমান বলি না কেন,  মনে মনে চাই ঘরে জন্ম নিক পুত্রসন্তান, কণ্যাসন্তান নয়। তাই তো লিঙ্গ নির্ধারণের কসাইখানায় জবাই হয় নিষ্পাপ কন্যাভ্রূণ। বিশ্বের সর্বত্র আজ কোথাও মা কাঁদছেন, কোথাও স্ত্রী, কোথাও বোন, কোথাও বা মেয়ে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘মণি-মাণিক্য মহামূল্য বস্তু, কেন-না তাহা দুস্প্রাপ্য। এই হিসাবে নারীর মূল্য বেশী নয়, কারণ সংসারে ইনি দুষ্প্রাপ্য নহেন। জল জিনিসটি নিত্য প্রয়োজনীয়, অথচ ইহার দাম নাই। কিন্তু যদি কখনও ঐটির একান্ত অভাব হয়, তখন রাজাধিরাজও বোধ করি একফোটার জন্য মুকুটের শ্রেষ্ঠ রত্নটি খুলিয়া দিতে ইতস্ততঃ করেন না। তেমনি—ঈশ্বর না করুন,—যদি কোনদিন সংসারে নারী বিরল হইয়া উঠেন, সেইদিনই ইহার যথার্থ মূল্য কত, সে তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইয়া যাইবে— আজ নহে। আজ ইনি সুলভ।’

তাই বলব যতদিন না আমরা আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারি ততদিন এই নারী দিবসের নামে নারী স্বাধীনতার ভ্রান্ত স্লোগান হাস্যকর। নারী হয়ে যদি গর্ববোধ না হয়, মাথা তুলে যদি বলতে না পারি “হ্যাঁ, আমি নারী”, তাহলে এমন পরিবার সমাজের সার্থকতা কোথায়?

সুরাইয়া খাতুন

উস্থি

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা