পাঠকের কলম, টিডিএন বাংলা : 
২০০ বছরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী হুগলি মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেল। এখানকার পাঠক্রমে শুধু ধর্মতত্ত্বই ছিল না, সেই সঙ্গে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন ইত্যাদিও ছিল। প্রতিষ্ঠানে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়ান হতো রিফর্মড মাদ্রাসা পাঠক্রম, যা ধর্মীয় খারিজি মাদ্রাসা বা কৌমী মাদ্রাসার থেকে পুরোপুরি আলাদা।

মাদ্রাসার বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ধর্মতাত্ত্বিক প্রয়াত ফুরুফুরার মৌলানা আবুবকর সিদ্দিকি, গোলাম সালমানী আব্বাসী, কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি স্যর সৈয়দ আমীর আলি (যাঁর নামে আমির আলি এভিনিউ), প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ডঃ এ.বি.এম. হাবিবুল্লাহ, বিজ্ঞানী আতাউর রহমান, সাহিত্যিক মনিরুজ্জামান ,তাজউদ্দিন আহমেদ, শাহ আজিজুর রহমান (যারা পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন) দেওয়ান ওসমান গণির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এমন উজ্জ্বল নক্ষত্র সৃষ্টিকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ তালা ঝোলানো হয়েছে। সেই বামফ্রন্ট আমল ২০১০ সালে এটিকে বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছিল। এখন এই সরকারের হাত ধরে সেটা সম্পন্ন হল। বিভিন্ন কৌশলে মাদ্রাসাটাকে বন্ধ করা হল। কখনো কখনো ছাত্র ভর্তি বন্ধ রেখে, কখনো বা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের গণ হারে বদলী করে, কখনো বা বিনা কারনে ছুটি দিতে থাকল। মোট ছুটির দিন ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করলেন, যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হল। তারপর ভর্তি হওয়া ছাত্রদেরও এখান থেকে তাড়ানো হল। ডেকে ডেকে তাঁদের টিসি নিতে বাধ্য করা হল। সোজা কথায়, সুকৌশলে এই হুগলি মাদ্রাসাকে বন্ধ করা হল অথচ শিক্ষানুরাগী সুশীল সমাজ নীরব। রাজপথে কোন মিছিল হলনা। ইমাম ভাতায় আটকে রইলো প্রতিবাদ। সংখ্যালঘু নেতা মন্ত্রীদের এবিষয়ে আওয়াজ তুলতে দেখলাম না।

সুরাইয়া খাতুন
উস্থি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা