টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রাজ্যের স্কুলগুলিতে নিয়োগ নেই দীর্ঘ ৫টি বছর। এদিকে নবম-দশম থেকে একাদশ-দ্বাদশে ইন্টারভিউ দিয়ে অধিরাগ্রহে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন আপনি। কেউ বা বসে আছেন আপারের আশায়। আবার অনেকের বয়সও শেষের দিকে। পরিবার থেকে সমাজ সব ক্ষেত্রেই বাঁকা দৃষ্টি আপনার উপর। সরকারের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিতে চান আপনি? কিভাবে কাটছে হবু শিক্ষক হিসেবে আপনার দিনগুলি? দক্ষিণ ২৪পরগনা থেকে টিডিএন বাংলাকে জানিয়েছেন সুমাইয়া মন্ডল (পরিবর্তিত নাম)।

“আমি সুমাইয়া মন্ডল। দক্ষিণ ২৪ পরগণার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক শিক্ষিতা বেকার। বছরের পর বছর বেকারত্বের জ্বালা অনুভব করছি এসএসসির দৌলতে। স্নাতকোত্তর ও বিএড ডিগ্রী আর চোখে একটা সুন্দর সাজানো স্বপ্ন নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার দিকে অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকি। অপেক্ষার অবসান ঘটে সুদীর্ঘ ৫ বছর পরে। একদিকে কখন যে আস্তে আস্তে জীবন থেকে এক একটা মূল্যবান বছর চলে গেল টের পেলাম না। গড় বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেল, তাতেও তেমন আক্ষেপ নেই। স্বপ্নটা তো এখনো বেশী দূরে ছেড়ে চলে যায় নি। প্রায় এক বছর পর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অন্তিম ফলাফলে চরম দুর্ভাগ্যের শিকার হই।

নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আছে যে, এই পাঁচ বছরে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকলে একবার নিশ্চিত নিজেকে প্যানেলভুক্ত করতে পারতাম। এখানে আমার প্রশ্ন একটাই, কেন আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় কেড়ে নেওয়া হলো? আশায় আশায় কেন বসিয়ে রাখা হলো বছরের পর বছর? এরচেয়ে তো বলা ভালো ছিল যে, তোমরা এসএসসির আশা করো না। তাহলে অন্তত আমরা অন্য কিছু করতে পারতাম! তিরস্কৃত হই , লজ্জিত হই, অপমানিত হই নিজ অক্ষমতায়। এই অক্ষমতা কি সত্যি আমার, নাকি সরকারের?

পাবো নাকি অমৃতসুধার সন্ধান?”

আপনিও আপনার মূল্যবান মতামত জানান আমাদের। নাম, ঠিকানা ও বিষয় সহ আপনার মতামত মেল করুন tdnbangla@gmail.com

টিডিএন বাংলা আপনার আওয়াজকে পৌঁছে দেবে লক্ষ পাঠকের কাছে।