স্কুল মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ নেই, কেমন আছেন হবু শিক্ষকরা

পাঠকের কলমে : আমি দেবলীনা। এসএসসি ও এমএসসি তে ইন্টারভিউ দিয়েও আর পাঁচ জন চাকরি প্রার্থীর ন্যায় আমিও তীর্থের কাক হয়ে প্রতিক্ষারত। জানি না আমাদের প্রতীক্ষার সত্যি কোনো অবসান হবে কি না! কখনো নিজেকে মনে হয় মরুভূমির ধূলিঝড়ে পথ হারানো পথিক; তো কখন মনে হয় গভীর সমুদ্রের দিকহারা জাহাজের নাবিক।

আর জানতে চান আমাদের দিন কেমন কাটছে? ধূর! বেকারের কিবা দিন, কিবা রাত! রাতের বেলা হাজারো স্বপ্নের আহুতিতে অশ্রু জলে বালিশ ভেজে। আর দিনের বেলা আত্মীয়স্বজন, পড়শীদের প্রশ্ন থেকে মুখ লুকানোর তাগিদ তাড়া করতে থাকে। সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন, জেনারেল লাইনে পড়ে কি আমরা সত্যিই মারাত্মক ভূল করে ফেলেছি? সুষ্ঠ সামাজিক নাগরিক গড়ে তুলবো, সমাজের কল্যানে নিয়োজিত হবো, আমাদের এই স্বপ্ন দেখা কি সত্যি খুব অন্যায়ের হয়েছে?

আমরা তো জানি সরকার গঠিত হয় দেশ, রাজ্য তথা সমাজ সুষ্টভাবে পরিচালনা করার জন্য। শিক্ষা হল সমাজের ভিত্তি। শিক্ষা ছাড়া কোনো সমাজ, কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার কারণে এমন অনেক স্কুল আছে যেখানে পড়াশুনা একেবারে লাটে উঠেছে। অথচ সব জেনে দেখেও চুপচাপ সরকার। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শিক্ষা উপকরণগুলি (ব্যাগ, বই, সাইকেল, জুতো) পোঁছে গেলেও যাঁরা শেখাবেন তারাই অনুপস্থিত। সত্যিই সেলুকাস! কি বিচিত্র এই রাজনীতি! অর্থাৎ তাদের শিক্ষায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

সরকার বাহাদুর একটু ভেবে দেখবেন, চাকরি প্রার্থী হবু শিক্ষকদের ম্যারাথন প্রতীক্ষায় রাখার সাথে সাথে বর্তমান ছাত্রছাত্রী অর্থাৎ সমাজের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সাথেও কি প্রতারণা করা হচ্ছে না? কথাগুলি আমি বললেও একথা সমস্ত হবু শিক্ষক- শিক্ষিকাদের হৃদয়ের অব্যক্ত গোপন যন্ত্রণার কথা। সরকারের কাছে অনুরোধ, রাজ্যে শিক্ষার ধারা অব্যাহত রাখতে যোগ্য প্রার্থীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর জন্য শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, অন্যথায় আগামী প্রজন্ম শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

দেবলীনা বণিক

মালদা

আপনিও আপনার অব্যক্ত যন্ত্রনা মেল করুন আমাদের tdnbangla@gmail.com