ডায়াবেটিস আছে? অবশ্যই সতর্কভাবে পায়ের যত্ন নিন

ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী : মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পা। ডায়াবেটিস রোগের কারণে পায়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্ত সরবরাহে সমস্যার কারণে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যায়। এমনকি পায়ের অনুভূতি শক্তিও কমে যায়। ফলে পায়ে আঘাত লেগে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এ থেকে পায়ে পচনশীল ঘা হতে পারে, এমনকি পা কেটে ফেলতেও হতে পারে। তাই পায়ে যে কোনো ধরনের আঘাত থেকে সাবধান থাকতে হবে।

পায়ের যত্নে করণীয় : ডায়াবেটিস রোগীরা উচ্চ তাপমাত্রা ও আগুন থেকে দূরে থাকবেন। পায়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পায়ে যেন কোনো ক্ষত না হয়। আঘাত না লাগে। পা সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। তাপ থেকে দূরে থাকুন। অনেকের গরম পানিতে গোসলের অভ্যাস। বিশেষ করে শীতকালে ডায়াবেটিস রোগীদের গরম জল স্থানে সাবধান থাকতে হবে। পা অনুভূতিহীন থাকলে গরম পানি এড়িয়ে চলা ভালো। অনেকে ব্যথায় গরম পানি বোতলে ভরে ব্যথাস্থলে সেঁক দেন। এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে। যে কোনো ধরনের আঘাত থেকে সাবধান থাকতে হবে। আঘাত এড়িয়ে চলুন। আঘাত উপশমে অনেকে বোতলে গরম জলের সেঁক নেন। শরীরের একই স্থান বারবার উষ্ণ হতে হতে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ ব্যবস্থা এড়িয়ে চলুন। পায়ে অতিরিক্ত গরম জল ঢালবেন না।

পায়ের সমস্যা এড়াতে করণীয় : খালি পায়ে হাঁটবেন না। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরে চলাফেরা করবেন। নিয়মিত পায়ের বাড়তি নখ কাটবেন। পায়ের নখ কাটতে খেয়াল রাখবেন, আঙুল কেটে না যায়। আঙুলে কোনো রকম আঘাত না লাগে। পায়ের কড়া নিজে কাটবেন না। ময়লা বা ভেজা মোজা-জুতা পরবেন না। প্রতিদিন ভালোভাবে পা ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে পা মুছবেন। এমনভাবে পা মুছতে হবে, যে পা ভেজা না থাকে। আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে পায়ের ব্যায়াম শিখে নেবেন। পায়ের রক্ত চলাচল বাড়াতে নিয়মিত পায়ের ব্যায়াম করবেন।

পায়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ : ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে সংক্রমণ বা পচনশীল ঘা হতে পারে। তাই নিয়মিত পায়ের পর্যবেক্ষণ করুন। পায়ের তলার অবস্থা ভালোভাবে দেখার জন্য প্রয়োজনে আয়না ব্যবহার করুন। পায়ের চামড়া, চামড়ার ভাঁজ, পায়ের পাতা, পায়ের আঙুলের ফাঁদি, নখ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। দেখুন কোনো কালশিটে, আঁচরের দাগ, ফোস্কা, ফুসকুড়ি বা ক্ষত আছে কিনা। এসব সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

নখ কাটবেন যেমন করে স্নানের পরে হাত-পায়ের নখ নরম থাকে। এ সময় নখ কাটুন। সরল রেখায় নখ কাটুন। যতটুকু না কাটলেই নয়, ততটুকু কাটুন। নখের গভীর পর্যন্ত কাটতে যাবেন না। ধারালো কিছু দিয়ে নখের নিচের ময়লা পরিষ্কার করবেন না কিংবা নখের পাশ পরিষ্কার করবেন না। এতে কেটে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। নখ কাটতে গিয়ে ব্যথা পেলে কিংবা নখ কাটতে সমস্যা হলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।