রোজা পরবর্তী দিনগুলিতে শরীর সুস্থ রাখতে কী কী করনীয়? আসুন জেনে নিই

ড. অজয় কুমার বিশ্বাস : এক মাস রোজার পর খুশির ঈদ। সবাই কে শুভেচ্ছা, ভালবাসা এবং বড়দের প্রনাম, আশা করি সকলে ভালো আছেন। দীর্ঘ এক মাস এর উপবাস এর পর অনেকে ই পেটের নানান সমস্যা তে ভুগছেন, মূলত গ্যাস আসিড বদহজমের সমস্যা ই প্রধান উপসর্গ। সবাই কে অনুরোধ ঈদ শেষ হলেই হালকা সহজ পাচ্য খাবার এ ফিরে যান। রোজ নিয়ম করে সময়ে সকালের জলখাবার, সময় মত দুপুরের আহার এবং অবশ্যই একটু তাড়াতাড়ি রাত্রের খাবার খেয়ে নিন। দীর্ঘ ব্যবধানে খাবার ফলে, বলা যায় পেট খালি রাখার দরুন আমাদের পেটের স্টমাকে তৈরী হওয়া অ্যাসিড স্টমাকের দেয়াল কেই কমজরি করে তোলে। দেয়াল টা অ্যাসিডে খেয়ে যায়। দেখা দেয় পেপটিক আলসার এর সমস্যা। যার অন্যতম প্রধান সমাধান “মাপে কম বারে বেশি”। অল্প অল্প করে নিয়মিত খাবার খাওয়া, পেট খালি না রাখা। বলাই বাহুল্য ভাজা খাবার, তৈলাক্ত খাবার, মসলাদার খাবার রিচ রান্না পরিহার করুন। ঝাল, টক, লঙ্কা, পেটের উল্সার কে বাড়িয়ে দিতে পারে সতর্ক থাকুন।

পেপে জাতীয় ফলে আমাদের খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এতে এমন অনেক এনজাইম আছে যা আমাদের খাবারের পরিপাকে বিশেষ ভাবে উপকারী। ঈদ উপলক্ষ্যে অনেকে ই মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়েছেন, সতর্ক থাকুন যাদের সুগার বা ডায়াবেটিস এর সমস্যা আছে। বিরিয়ানি চাপ পাসিন্দার সঙ্গে আমরা অনেকটা লবন খেয়ে ফেলি নিজের অজান্তে, যাদের ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তারা সতর্ক থাকুন। কলেস্টেরল এর সমস্যা যাদের আছে তারা সতর্ক ভাবে এড়িয়ে চলুন চর্বি ওয়ালা খাবার।

পর্যাপ্ত সময় বিশ্রাম নিন, দৈনিক অন্তত সাত ঘন্টা ঘুম খুব জরুরি বিশেষ করে বাড়ির মহিলাদের এবং বয়স্কদের জন্য। এই কদিন যারা সারা রাত্রি জেগে রোজার আয়োজন করেছেন, তাদের জন্য এই বিশ্রাম ভীষণ জরুরি। জল ফল সবজি বিশ্রাম এবং নিয়মিত ব্যায়াম এর পাশাপাশি দৈনিক প্রার্থনা এবং মঙ্গলময়ের আশির্বাদ আমাদের ঘরে আনুক শান্তি সমৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ। ভালো থাকুন।