পশ্চিমবঙ্গে জীবনমুখী গানের হাওয়ায় আপ্লুত জনপ্রিয় শিল্পী আমিরুল মোমেনিন মানিক

নিজস্ব সংবাদদাতা, ৩রা জানুয়ারি : ঘুড়ি ওড়ানোর বয়স থেকেই গানের পথে পথ চলা শুরু। তাঁর বাবা চমৎকার মুর্শিদী ও মারফতি গাইতেন। ওগুলো শুনে শুনেই শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গানটাকেও তিনি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তিনি শুধু সংগীত শিল্পীই নন, একাধারে টিভি সাংবাদিক, উপস্থাপক, গীতিকার, সুরকার এবং লেখকও বটে।

ভাবছেন কার কথা বলছি ? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। তিনি হলেন, দুই বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী আমিরুল মোমেনিন মানিক।কিছুদিন আগে কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।উপচে পড়া ভিড়ে গান আর কথায় মাতালেন এখানকার ফ্যানদের। তার মাঝেই টিডিএন বাংলার মুখোমুখি হলেন জীবনমুখী গানের এই শিল্পী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি সামাউল্লাহ মল্লিক

টিডিএন বাংলা : কেমন লাগল এবার ভারতে এসে ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : টিডিএন বাংলাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভারতে এর আগেও এসেছি কয়েকবার। আবারো এলাম ভাল লাগছে, বেশ ভালো লাগছে। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের চারপাশেই তো ভারত ঘেরা। আর পশ্চিমবঙ্গ নানা কারণে ঐতিহ্যবাহী, ব্রিটিশ আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার আঁতুড়ঘর বলা যায়। সেই জায়গা থেকে আপনারা বাংলায় কথা বলেন, আমরাও বাংলায় কথা বলি। একটা বিনি সূতোর যে টান, সেই টান অনুভব করি পশ্চিমবঙ্গে এলে।

টিডিএন বাংলা : আগেও কয়েকবার এসেছিলেন এ দেশে। এবার কি কোনো তফাৎ দেখতে পেলেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : না। তবে বিশ্বায়নের হাওয়াটা লেগেছে। ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে। এর আগে যখন এসেছিলাম এতটা চোখে পড়েনি। এইবার এখানে এসে মনে হল যে উন্নয়নের জোয়ার এখানে চলছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিপণী বিতান সব জায়গায় একটা স্পর্শ এগিয়ে চলার সেটা দেখা যাচ্ছে। তবে এটার মধ্যে একটা বিষয় মাঝে মধ্যেই খটকা লাগে যে, দিন যত যাচ্ছে বাংলা ভাষার তত দুর্গতি হয়ে যাচ্ছে কিনা ? এরকম একটা প্রশ্ন মনে জাগে।

টিডিএন বাংলা : কী ধরনের গান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : একথাটা বলতে চায় যে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কথা বলেছিলেন,”জীবন এত ছোট কেন ?” রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিণত বয়সে বলেছিলেন, “মরিতে চাহিনা আমি, এ সুন্দর ভুবনে”। জীবনকে ঘিরেই কিন্তু সব। আমি যদিও মনে করি যে জীবন বরফ খন্ডের মত। মানে একটা বরফ যদি টেবিলের উপর রাখা যায়, সেটা যেমন ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায়,জীবনটা ঠিক সেরকম। সেজন্যই আমি জীবনমুখী গান করি। এই গানটাকে আমি মূলত নাম দিয়েছি “মানুষমুখী গান”। মানবতা, মানুষের অনুভূতি, ব্যাক্তিগত অনুভূতি, অসঙ্গতি, সমাজ, মূল্যবোধ এই সমস্ত বিষয়াদি নিয়েই আমার গানের ব্যাপ্তি এবং এই ধরনের গান করতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

টিডিএন বাংলা : ইংরেজদের গোলামী থেকে মূল ভারত স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালে। কিন্তু আপনারা ‘৪৭ এর স্বাধীনতার আনন্দ না করে ‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এটা কেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : ‘৪৭ এ দেশ ভাগ হয়েছিল। তার আরো আগে বঙ্গভঙ্গ হয়েছে-আপনার নিশ্চয় মনে থাকার কথা। ভারত বিভক্তি হওয়ার পরে পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্র নিয়ে তৈরী হল পাকিস্তান। কিন্তু তারা আমাদের উপর যে বৈষম্যটা চাপিয়ে দিল, প্রথমেই আঘাত এলো ভাষার উপরে, আমাদের বাংলার উপরে। ‘৫২ সালে শহীদ হলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার। ‘৪৭ এর পর থেকেই মূলতঃ বৈষম্যের সূচনা হয়। আপনারা যেমন স্থায়ী স্বাধীনতা লাভ করলেন ব্রিটিশদের কাছ থেকে। আমাদের সেই স্বাধীনতাটা কিন্তু স্থায়ী হলনা। আমাদের স্বাধীনতার চুড়ান্ত রুপ আমরা পেলাম ‘৭১ এ এসে। সেজন্য আমরা ‘৭১ কেই বেশী উদযাপন করব কেননা আলাদা একটা রাষ্ট্ররুপে জন্ম হয়েছে এই বছরে।

টিডিএন বাংলা : দেশ তো ভাগ হয়ে গেল। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ। আমাদের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের কালচারতো এক। সেই কালচার ফের এক করার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা নিচ্ছেন।

আমিরুল মোমেনিন মানিক : ভাষা তো আছেই। আসলে এটা অত্যন্ত একটি আনন্দের ব্যাপার যে, দেখুন যখন পাকিস্তান ছিল তখন কিন্তু আমরা বলতে পারিনি যে বাংলা ভাষার কোন রাষ্ট্র আছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র যার একটিই মাত্র ভাষা বাংলা ভাষা। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা ভাষার একটি রাজ্য মাত্র। এখানে বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ, বিস্তৃতি হলেও আমি যদি বলি এখন বাংলা ভাষার অন্যতম রক্ষক ঢাকা তাহলে বাড়িয়ে বলা হবেনা। আপনি যেটা বললেন যে কী ভূমিকা নিচ্ছি। ত্রিপুরা, আসামের শিলচর, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ এই সব মিলিয়ে ৪০ কোটি বাংলাভাষী মানুষ। তারা যদি মনে করে অন্তত বাংলাভাষাকে আমরা এক করে রাখব তাহলে আমরা শিল্পীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব।

টিডিএন বাংলা : বাংলাদেশের গান,খবর আমরা আজও এপার বাংলায় খবর বেশি পাচ্ছিনা কেন ? ওই দেশের টেলিভিশন কলকাতায় দেখা যায়না-এই নিয়ে নোবেলজয়ী ডাঃ ইউনুস দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন। আপনার দেশের সরকার এই নিয়ে কী ভাবছে ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : আপনাদের দেশের অধিকাংশ চ্যানেল যেমন, স্টার জলসা, জি বাংলা ইত্যাদি চ্যানেল এবং হিন্দি ভাষার চ্যানেল আমরা আমাদের দেশে বসে দেখতে পাই। আপনাদের সংস্কৃতি আমাদের কাছে পৌছাচ্ছে। কিন্তু এটা দুঃখের বিষয় যে আমাদের দেশের কোন চ্যানেল এদেশে দেখা যায় না। এনিয়ে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে বাধ্য করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের চ্যানেল যেন ভারতে দেখানো হয়। এনিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিছু শিল্পী কয়েকবার আলোচনাও করেছেন।

টিডিএন বাংলা : ২০১৩ সালে আপনার বেশ কয়েকটি এলব্যাম বেরিয়েছিল যেমন, ‘ছায়ামানবী’, ‘অবাক শহর’ ইত্যাদি। এগুলি ছাড়া এরপর উল্লেখযোগ্য আর কী কী এলব্যাম করেছেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : এই এলব্যাম গুলির পরে ‘মা’ এলব্যাম এবং নচিকেতার সঙ্গে ‘আয় ভোর’ নামের একটি যৌথ এলব্যাম করেছি। কিন্তু এখন এলব্যাম প্রকাশের ট্রাডিশনটা কমে গেছে। এখন সবাই সিঙ্গেল গান করতে বেশী পছন্দ করছেন

আমিও ব্যাতিক্রম নই। এরপর ফেসবুক নিয়ে নকুল কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যৌথ গান করেছি এবং সম্প্রতি ‘আরাকান কাঁদে’ নামের একটি গান গেয়েছি;যেখানে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

টিডিএন বাংলা : আরাকান জ্বলে নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে গানের কয়েক লাইন যদি শোনাতেন।

আমিরুল মোমেনিন মানিক : “আরাকান জ্বলে
পৃথিবী তবু জ্বলে না তো প্রতিবাদে
বিচারের বানী নিভৃতে না
চীৎকার করে কাঁদে…..”

টিডিএন বাংলা : আপনি নচিকেতার সঙ্গে ‘আয় ভোর আয়’ গান গেয়েছেন এবং ভারতে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানও করেছেন। ভারতীয় বাঙালী তরুন-তরুনীদের মাঝে সঙ্গীত সংস্কৃতি চর্চায় কেমন আগ্রহ লক্ষ্য করছেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : প্রচুর আগ্রহ লক্ষ্য করছি। আমি এখানে দেখছি যে অনেক তরুন এই গানে অনুপ্রানিত হচ্ছে। সময়ের দাবী পূরণে তারা এগিয়ে আসছে। আশা করি বাংলা ভাষার সংস্কৃতি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

টিডিএন বাংলা : এপার বাংলায় জীবনমুখী গানের শিল্পী উঠে আসার জন্য কেমন পরিকাঠামো বা পরিকল্পনা দরকার বলে আপনি মনে করেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : প্রচলিত স্রোতে গা না ভাসিয়ে আপনি যদি ব্যাতিক্রমী ধরনের গান গান আর সেই গান যদি মানুষের অনুভূতিতে না পৌছায় তাহলে কিন্তু আপনি হারিয়ে যাবেন। এই ক্ষেত্রে শিল্পীকে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কেমন ব্যাতিক্রমী গান গাইবে। একটা লাল গোলাপের বাগানে একটা হলুদ ফুল ফুটলে তবেই সবার নজর সেদিকে যাবে। আপনাকে সব ধরনের গান গাইতে হবে। সমাজের একটা ছোট্ট বিষয় নিয়েও আপনাকে গান গাইতে হবে। একটা ছোট গাছ লাগালেন তাতে পাতা হল, এই নিয়েও গান করা যেতে পারে। পরিকল্পনা হচ্ছে সব ধরনের গান গাইতে হবে যেমন দুর্নীতি, মনোমালিন্য, সামাজিক গান। শিল্পীরাতো সবথেকে বেশী সমাজ সচেতন হবে। উদাসীন হলে কিন্তু হারিয়ে যাবেন।
টিডিএন বাংলা : আগের গান ছিল দেশ গড়ার গান। নজরুলের মত কবিরা কত গান লিখেছেন। কিন্তু এখন গান হয়েছে অপসংস্কৃতি মূলক গান। এখন হানি সিং, অরিজিত সিং এঁদের কম্পিটিশান দেওয়ার জন্য কী ধরনের কার্যকলাপ প্রয়োজন বলে মনে করেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : এখানে আসার পর শিল্পীদের নিয়ে একটা মিট ছিল। সেখানে এই বিষয়ে এক শিল্পী জিজ্ঞাসা করেছিল যে,আসলে কী করা যায় ? তখন আমি বললাম,অরিজিত সিং এর গানের চিত্রায়ন দেখুন। হোক সে রোমান্টিক গান। সেই গানে অনেক খরচ করা হচ্ছে, দৃশ্যায়ন চমৎকার হচ্ছে। কিন্তু আপনি জীবন বোধের গানের কথা বলছেন কিন্তু আপনার গান দুর্বল,সুর দুর্বল, কম্পোজিশানে দুর্বল,তাহলে তো আপনি লড়াই করতে পারবেন না। আপনাকে কেউ একে – 47 রাইফেল দিয়ে গুলি করছে আর আপনি তাকে পাথর ছুড়বেন এটা তো হতে পারেনা। তো যারা এধরনের গান করতে চান এবং হানি সিং, অরিজিত সিংদের কম্পিটিশান দিতে চান তাদের পরিশ্রম করতে হবে এবং এগোতে হবে সমমান নিয়ে।

টিডিএন বাংলা : গান ছাড়া আর কী পছন্দ করেন ?
আমিরুল মোমেনিন মানিক : গান ছাড়া আমি সাংবাদিকতা করি। বাংলাদেশের সেরা দশ নিউজ চ্যানেলের অন্যতম একটি চ্যানেল মাই টিভিতে কাজ করছি। ১২ বছরের মতো টিভি সাংবাদিকতা অর্থাৎ মেঠো রিপোর্টিং করে এখন ডেস্কে কাজ করছি। আমি লেখালিখিও করি। প্রত্যেক বছর বইমেলায় আমার লেখা বই বের হয়। গান, লেখালিখি আর সাংবাদিকতার বাইরে আর কিছু নেই। এই তিনটির মূল উদ্দেশ্যই হল যে মানবতাকে জাগ্রত করা। সেই চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছি। কতটুকু সফল হলাম সেটা সময় বিবেচনা করবে।

টিডিএন বাংলা : আপনি সাংবাদিকতরা কথা বললেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটা প্রবাহ চলছে হলুদ সাংবাদিকতা। এটা কীভাবে দেখছেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : হলুদ সাংবাদিকতা থেকেই একটা কথা এসেছে যে তথ্য সন্ত্রাস। আমরা বাংলাদেশে এধরনের সাংবাদিকতাকে ‘টেবিল সাংবাদিকতা’ বলি। এই হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে গ্রীন জারনালিজম নামে একটি ট্রেন্ড চালু হয়েছে। এটা আমাদের প্রেক্ষাপটে অর্থাৎ আমরা যারা সত্যের পক্ষে সুন্দরের পক্ষে কাজ করতে চাই,তাঁদের পক্ষ থেকে এই আওয়াজ উঠেছে যে গ্রীন সাংবাদিকতা করতে হবে।

টিডিএন বাংলা : অনেক সময় এই মিডিয়ার দৌলতেই শোনা যায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা।এর সত্যতা কতটুকু ?
আমিরুল মোমেনিন মানিক : হ্যাঁ,কিছু কিছু জায়গায় তো হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু এটা ব্যাপক আকারে না যেভাবে প্রচার করা হয়েছে। একটা সৌহার্দ্য সম্প্রীতিপূর্ণ দেশ। দেখুন,এখানে ধরুন আমার বাড়ির পাশে গোপাল সাহেবের বাড়ি।
সেই আমার বাড়ির পাশে গোপাল সাহেবের বাড়ি না হয়ে রহিম সাহেবের বাড়ি হতে পারত। প্রতিবেশী হিসাবে সামান্য মনোমালিন্য থাকাটা স্বাভাবিক ব্যাপার সেটাকে যদি কেউ হিন্দু মুসলমান বিবাদ বলে প্রচার করে এটাতো ঠিক না। কিন্তু এমন কিছু হয়ে যায়নি যে, হিন্দুদেরকে বিতাড়িত করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ তাদের জন্য নিষিদ্ধ রাষ্ট্র। এগুলি নিতান্তই রটনা।

টিডিএন বাংলা : কবি, সাহিত্যিক, গায়কদের তো পুরো বিশ্বটায় নিজের।কাঁটাতারের বেড়াতো তাঁদের আটকাতে পারেনা। ভারতের জনগণকে নিয়ে কবে গান করছেন ?

আমিরুল মোমেনিন মানিক : (হেঁসে) যে গানগুলো এখন করেছি এটা যেমন বাংলাদেশের মানুষকে ছুঁয়ে যায় ঠিক তেমনি ভারতীয় মানুষদেরও মন ছুঁয়ে যায়,নইলে ভারতে আমাকে আমন্ত্রন জানানো হয় কেন ? এই রকম কোন বিষয় না যে এটা ভারতের গান,এটা বাংলাদেশের গান। ভাষা একটা বিশাল প্রতিবন্ধকতা বটে। সেইজন্য আমি আলাদা করে ভারতের জন্য গান গাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করিনা। তবে আমি কিছুদিন আগে ৬টি ভাষায় একটি গান গেয়েছি যার মধ্যে একটি ভাষা হিন্দি রয়েছে।
টিডিএন বাংলা : দেশ ভাগ হয়ে গেছে। সেটাতো আর জোড়া লাগার নয়। কিন্তু আমাদের সংস্কার, ভাষা এইগুলি আবারো এক হয়ে যাক, এই বিষয়ে কী মনে করেন ?
আমিরুল মোমেনিন মানিক : হ্যাঁ,খুব ভাল প্রশ্ন। সাংস্কৃতিক আদান প্রদানটা যদি ঠিকভাবে করা যায়। আমরা আসছি, আপনারা যাবেন। এইভাবে আমাদের আদান প্রদানটা যদি বাড়ে তাহলে আমরা বাংলা ভাষাভাষীর মানুষরা অন্তত আবারো এক হতে পারি।

টিডিএন বাংলা : আমরা এই সাক্ষাৎকার শেষ করার আগে আপনার জীবনের সেরা গানটির কয়েক লাইন বলতে বলব।

আমিরুল মোমেনিন মানিক : আচ্ছা।এটা সেরা কিনা জানিনা। আমার জীবনের সেরা গান বাছাই করা এই মুহুর্তে সম্ভব না। একটা মেসেজ দেওয়া দরকার, আমরা সবসময় একটা কথা বলি যে বিপ্লব করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে। আমি মনে করি বিপ্লবের বিষয়টি হল এই, ধরুন হাওড়ার গ্রামের একজন তরুন থাকে তারমধ্যে অনেক ধরনের প্রতিভা আছে। সেই প্রতিভাটাকে সে যদি জাগ্রত করতে পারে তাহলে ওটাই হচ্ছে বিপ্লব। মানে কোন ব্যাক্তি যদি তার ঘুমন্ত প্রতিভাটাকে জাগাতে পারে সেটাই বিপ্লব। এরপর যখন সেই তরুন সমাজে

গিয়ে কথা বলবে তখন কিন্তু তার গ্রহনযোগ্যতা থাকবে। যেমন ধরুন, আজ যদি নচিকেতা এক জায়গায় গিয়ে বক্তব্য রাখেন তাঁর কথা যত লোক শুনবে অন্য কোন ব্যাক্তির কথা কিন্তু কেউ শুনবেনা। সেইজন্য আমার লাস্ট মেসেজ হচ্ছে তরুনরা যারা আছে তারা অবশ্যই নিজেদের প্রতিভাকে ছড়িয়ে দিতে পারলে সেটা বিপ্লবের কাজ হবে এবং এই বিপ্লবী সমাজকে পরিবর্তন করতে পারবে। আমি ওই গানটা দিয়েই শেষ করছি।
“আয় ভোর, আয় ভোর,তোর জন্য এই স্বপ্ন দেখা
হায় দিন যায় রাত যায় তোরই অপেক্ষায়
তোকে পেলেই পাবো মুক্তির রেখা
আয় ভোর আয় ভোর
তোর ছোঁয়া পেয়ে উঠবে জেগে অগনিত সুপ্ত প্রাণ
তুই তো আছিস হয়ে বুকের ভেতর স্পন্দের নতুন নিশান
তোর জন্য হৈ চৈ আছিস বল কই
ভাঙিয়ে দে এই ঘুমঘোর।”

টিডিএন বাংলা : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান সময় আমাদের দেওয়ার জন্য।

আমিরুল মোমেনিন মানিক : ধন্যবাদ টিডিএন বাংলার পুরো টিমকে।