জার্নাল কিম্বা চড়ুইপত্র

একরামূল হক শেখ

বাঙালি জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মনন ও চিন্তনের জগতে সংখ্যালঘু মুসলিমদেরও যে অনস্বীকার্য অবদান, তা সব সময় প্রতিফলিত হয় না। মুসলিম সমাজের নবজাগরণের প্রবর্তকরাও থেকে যান উপেক্ষিত। ‘শিক্ষা’র বানীবাহকেরাও মূলস্রোতের প্রতিষ্ঠানে জায়গা খুঁজে পান না।
সংরক্ষণের বিষয়ে অনেক দেরি হয়েছে, কোনও সন্দেহ নেই। সরকারি চাকুরিতে মুসলিমদের হার খুবই লজ্জাজনক। এমন-কী বাংলাদেশের প্রখ্যাত মনীষী বদরুদ্দীন উমর -ও এই বিষয়ে বিশ্মিত হয়েছেন। লিখেছেন, ‘ বাম শাসনের অস্বস্তিকর ব্যর্থতাও বটে।’
[ বক্তা ড. আবদুস সাত্তার । অধ্যাপক, লেখক । প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী । বাম জমানায় ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ , ওয়াকফ বোর্ড , রাজ্য হজ কমিটি ইত্যাদিতে । ২৭ পৃষ্ঠা জুড়ে তিনি শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি , ওয়াকফ, মাদ্রাসা , আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি নিয়ে অকপটে বলেছেন বহু সাহসী ও অজানা কথা । আমাদের বিশ্বাস এই সাক্ষাৎকারটি সংখ্যালঘু সমাজ উন্নয়নে নিয়োজিত এবং এই সমাজকে বোঝার ক্ষেত্রে এক মাইলস্টোন হিসেবে চিহ্নিত হবে । ]
১৮২১ খ্রিস্টাব্দে রামমোহন ও ভবানীচরণ এর যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত সম্বাদ কৌমুদীকে যদি বাঙালি হিন্দু সমাজ কর্তৃক পরিচালিত নিয়মিত পত্রিকা হিসাবে বিবেচনা না করা হয়, তবে ১৮২২ এ প্রকাশিত ভবানীচরণের সমাচার চন্দ্রিকা সেই সম্মানের অধিকারী। অর্থাৎ সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমান সমাজ তাঁদের প্রতিবেশী হিন্দু সমাজের থেকে অর্ধ শতাব্দীকাল পিছিয়ে ছিল। এই ব্যাবধান তারা কোনও দিনই পূরণ করতে পারেনি ।
মুসলমান সমাজ সম্পাদিত বাঙলা ভাষাশ্রিত প্রথম পত্রিকা সমাচার সভারাজেন্দ্র প্রকাশিত হয় ৭ মার্চ ১৮৩১। অর্থাৎ হিন্দু সমাজ আশ্রিত সাময়িকপত্র প্রকাশের এক দশকেরও বেশি পরে মুসলমান সমাজ সংবাদ-সাময়িকপত্রের অঙ্গনে পা রাখেন এবং ওই পা রাখা পর্যন্ত। বাঙালি মুসলমান সমাজকে পত্র-পত্রিকার প্রকাশ ও পরিচালনা বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে কেটে যায় আরও চারটি দশক।
[ এটির রচনাকার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক ড. সাইফুল্লা । সমাচার সভারাজেন্দ্র (১৮৩১) থেকে লগুড়( ১৯৪৭ ) তক প্রায় ৩০০ পত্রপত্রিকার ২৭ পৃষ্ঠার এই গবেষণা নিশ্চয়ই অনন্যতার নজির । তরুণ গবেষকদের উৎসাহী করবে নিশ্চিত ]
আমরা মনে করি শুধু এই দুটো রচনার জন্যই ‘ উদার আকাশ ‘ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ( বিশেষ সংখ্যা ) যেকোনো কিতাব-প্রেমীর জন্য অমূল্য সংগ্রহ বিবেচিত হতে পারে । প্রচ্ছদ দেখে ভড়কে যাবেন না , ভেতরটা সত্যিই খুবই মননশীল । এই পত্রিকার সম্পাদক তরুণ সাহিত্যসেবী ফারুক আহমেদ ।