প্রজাতন্ত্র দিবস ও আমরা ভারতবাসী

0

প্রজাতন্ত্র দিবস ও আমরা ভারতবাসী

সমীরণ খাতুন

সাধারণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র দিবসের অর্থ জানি,

জনগণের জন্য জনগণের নির্বাচিত সরকার।

জনগণই ভারতের প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী,

একনায়কতন্ত্র বা রাজার নেই কোন দরকার।

৬৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস পেরিয়ে এসেছে ভারত,

নাগরিকরা পেয়েছে কি তার মৌলিক অধিকার?

স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রতীক পতাকা,

শাসকদল কি রাখতে পেরেছে তার মর্যাদা?

কখনো দেখি শোভা পাচ্ছে উল্টো পতাকা,

কখনোবা জুতো পায়ে পতাকা উত্তোলন।

কখনো আবার জাতীয় পতাকার উপরে উড়ছে দলের পতাকা,

অথচ যারা পতাকার মর্যাদা রাখতে জানে তাদের দিতে হচ্ছে অগ্নিপরীক্ষা।

পেয়েছি কি আমরা সাম্যের অধিকার?

অসহায় সন্তানহারা মায়ের কান্না আর বুকফাটা হাহাকার!

নামেই চলেছে প্রজাতন্ত্র, রাজাই সর্বেসর্বা,

রাজা তোর কাপড় কোথায়? এ কথাটি বলবে কেবা?

কোথায় গেল সেই অধিকার ধর্মীয় আর সংস্কৃতির,

আসলে সব ফাটা কলসি, নোংরা খেলা রাজনীতির।

গণতন্ত্র বিকাশের অন্যতম চাবিকাঠি হল জনগণ,

তাদের মাথায় কাঁঠাল ভাঙবে ভাবছে দেশের নেতাগণ।

ক্ষমতায় আজ আছো বলে দিচ্ছ জবাব বুলেটে,

আসছে বছর জনগণ তোমার দেবে জবাব ব্যালটে।

বহাল যদি রাখতে চাও আপন কুরসিখানি,

বিভেদ ভুলে জনগণকে বুঝে দাও তার অধিকারগুলি।

একটা প্রশ্ন ছিলো আমার ওহে রাজাধিরাজ!

নিরাপদ নয় অসহায় শিশু, নারীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত কেন আজ?

স্যালুট স্বাধীনতার সেই বীর সৈনিকের আত্মত্যাগকে,

আমরা রাখবো তাদের মান, দেবনা ব্যর্থ হতে।

বহু কষ্টে অর্জিত এই ২৬শের স্বাধীনতা, পরাধীনতার মুক্তি,

আমরা ভারতবাসী সকল চক্রান্ত ব্যর্থ করে অটুট রাখবো সম্প্রীতি।

ওরা ব্যস্ত লাভ-জেহাদ আর পদ্মাবতী নিয়ে, লুন্ঠন করে দেশটা করবে ছারখার,

লক্ষ লক্ষ শহীদের কথা কে ভাববে? সে সময় আছে কি তাদের স্মরণ করবার?

ভারতবাসী দেবে বিজয়মাল্য যাদের তাজা রক্তে স্নাত হয়েছিল ভারতমাতা,

গর্জে ওঠো দেশের প্রজা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, পাবে তবে প্রজাতন্ত্র দিবসের স্বার্থকতা।