লাল শাড়ি

0
সকাল ৭ টার অ্যালার্মে ঘুম ভাঙে রেশমির। ঘুমঘুম চোখে মোবাইলটা বালিশটার পাশ থেকে নিয়ে দেখে ১১টি মিসড কল। হোয়াটস অ্যাপ অন করতেই গাদা মেসেজের স্তূপ। তার থেকে জরুরী মেসেজ গুলো চেক করে রিপ্লাই দিতে দেরী হল না রেশমির। ভয় মিশ্রিত আনন্দে সে সোহেলের মেজেসেরও রিপ্লাই দেয়। ফোন করে সাড়া না পাওয়ায় খুব বকাবকিও করে সোহেল।
আসলে আজ রেশমির জন্মদিন। তাই সকালবেলা দুজনের দেখা করার কথা ছিল। তারপর দুজনে যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। সময় নেই একটুও। রেশমি আর সোহেল একটা বেসরকারী অফিসে কাজ করে। ওখান থেকেই দুজনের পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব, ভালোলাগা। সোহেল অবশ্য একটু লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় রেশমিকে প্রোপোজ করতে পারে নি। যাই হোক মেয়েরা নাকি বুঝতে পারে কোন ছেলে তার প্রতি দুর্বল। রেশমি তাই বুঝতে পেরেই সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যায়।
এক মিনিট সময় ব্যয় না করেই সোহেলকে ফোন করে ।
—হ্যালো, সরি সরি সরি!
— থাক থাক, আর নাটক করতে হবে না। তোমার কি কোনো ধারণা আছে, যে কাল তোমাকে কত্তোবার ফোন করলাম। আর আমি তোমার ফোনের অপেক্ষায় সারারাত কাটিয়ে দিলাম।
—বুঝেছি, বাবু। তাই তো খুব খারাপ লাগছে।
—বুঝে আমার উদ্ধার করে দিলেন আপনি!
—-আসলে কাল অফিস থেকে ফেরার সময় বৃষ্টিতে ভিজতে হলো। আর তাতেই ঠান্ডা লেগে গেল। মাথাব্যথা নিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না।
— আচ্ছা হয়েছে, এখন কি আপনার একটু সময় হবে, ম্যাডাম? আমরা কি একটু বের হতে পারি  ?
একগাল হাসি নিয়ে রেশমি ফোন রেখে দিয়ে রেডি হতে যায়।
সোহেল যত তাড়াতাড়ি রেগে যায়, আবার তাড়াতাড়ি রাগ অভিমান ঝেড়েও ফেলে। স্নান সেরে রেশমি আলমারি খুলে লাল শাড়িটা বের করে নেয়। যেটাকে সে অনেক দিন আগেই সামনের তাকে রেখেছিল কোন বিশেষ দিনে পরার জন্য। যেটা কলেজ স্ট্রীট থেকে বই কিনে ফেরার সময় আদি মোহিনীমোহন কাঞ্জীলালের দোকানে ম্যানিকুইনে দেখে পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু বই কিনে টাকা না থাকায় নিতে পারে নি। ঠিক পরের দিনই সেটা সে তার অফিসের টেবিলে দেখতে পায়।
শাড়ি পরার অভ্যাস নেই তার। তবে খারাপ লাগে না পরতে। কলেজের অনুষ্ঠানে বা বিশেষ বিশেষ দিনে তাকে পরতে হয়েছে। আজ সে যত্ন করে শাড়িটা পরেছে, কপালে লাল টিপ, চোখে কাজল আর হাল্কা লিপস্টিক। সেজেগুজে অনেকটা সময় ব্যয় হওয়ায় তড়িঘড়ি করে নীচে আসল।
মা রান্নাঘর থেকে বলল, “কি রে, আজ এতো সকালে বের হচ্ছিস যে!” ওর মা সোহলের ব্যাপারটা জানতো। দুজনের বাড়িতে বিয়ের জন্য কথাও চলছে। কিন্তু মা এমন ভান করল, যেন কিছুই বোঝেন নি।
–ওই তো জানোই তো, বন্ধুদের সাথে দেখা করব। তারপর অফিস।
–আচ্ছা, জলখাবার খেয়ে তো যা।
–না । অনেক দেরি হয়ে যাবে।
–সাবধানে যাস।
–আসছি, মা।
রোজকার মতো আজ সে বাস ধরলো না, একটা ট্যাক্সি নিল। একে শাড়ি, তারপরে বাসে ভীড়। অনাবিল আনন্দ ভেসে যাচ্ছে যেন। সোহেলের ফোন আসে।
 —হ্যালো!
–কোথায় আছো?
–তারাতলা ।
–অনলাইনে এসো।
–কেন , মশাই?
–দেখবো তোমায়।
–গেলে দে’খো।
–সে তো দেখবো, দুচোখ ভরে। কিন্তু আর ধৈর্য্য ধারণ করতে পারি না।
–আচ্ছা। আসছি।
দুজনে অন হলো। ভিডিও কল সংযুক্ত করে ভালোবাসার জগতে ততক্ষনে দুজনে বিভোর। কথা চলতে থাকে।
ট্যাক্সি থেকে নেমে রাস্তা পার হয়ে রাস্তার পাশে ফুলের দোকান থেকে একটা লাল গোলাপ নিল। তারপর ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফোন আসে।
–হ্যালো !
–কোথায় আছো? আর কত দেরী হবে?
—এই তো, তোমার সামনেই। এইদিকে ঘোরে।
—হ্যাঁ, দেখতে পেলাম।
—আসছি, দাঁড়াও।
তারপর হঠাৎ এক আওয়াজ ! চারদিক থেকে পথচারীরা ছুটে এলো। সবাই দেখলো রক্তাক্ত এক শরীর, পরনে লাল শাড়ি ! রক্তে ভিজে লাল শাড়িটা আরও টকটকে লাল হয়ে উঠল। লাল ফুলে রক্তের দাগ, তাজা রক্ত!
উস্থি,
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা