সমাজে শুধু ফর্সাদেরই ডিমান্ড থাকবে কেন ?

ভারতীয়রা কালো চামড়ার। ইংরেজদের কাছ থেকে এই কারণেও নিগৃহীত হয়েছিল একসময়। ইংরেজ চলে গেছে বহু বছর হল। কিন্তু সাদা-কালো মানসিকতা বহু ভারতীয়র মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে সাদা চামড়ার ইংরেজরা। আমাদের সমাজে অপেক্ষাকৃত সাদা চামড়ার মানুষরা শ্যামলা আর কালো কালারের মানুষদের হীন চোখেই দেখেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে ‘কালো ’মানুষদের ‘কালো’ বলে অসম্মান করতেও কুন্ঠিত হন না। ফর্সাদের ভাবখানা এমন যে সমাজে শুধু ফর্সাদেরই ডিমান্ড আছে।  কালো ভালো নয়। কোনো কোনো ফর্সা মানুষ আবার নিজেকে ফর্সা বলে গর্বিতও মনে করেন।
নিজের চরিত্র নিয়েই শুধু মানুষ গর্ব করতে পারে। বংশ আভিজাত্য গায়ের রং হাইট নিয়ে যেসব মহারথীরা বুক ফুলায় তারা মূর্খ,মূর্খ,মূর্খ।
কালো ভালো নয় —কে এই কথাটা ফর্সাদের বলেছে?আবার কেউ কালো বলে হীনম্মনতায় ভোগারও কি আছে?
গায়ের রং দিয়ে ভালো মন্দের বিচার হয় না। দুটোরই আলাদা মাধুর্য আছে। কোনো ফর্সা যদি গর্ব করার জন্য বুক ফোলানো শুরু করেন তবে ভাবুন একবার কালো হতে পারার মতো দম কি আছে আপনার।
আমাদের সমাজে শুধুই কি জাতপাত—না আছে বর্ণ ব্যবস্থাও। ফর্সা শ্যামলা কালো—কতই না ভ্যারিয়েশন।
ভারতীয়রাতো কালোই ছিল। হঠাৎ করে ফর্সা মানুষ আসলো কোথা থেকে। শুনেছি জেনেটিক ব্যাপার। একসময় ইংরেজরা (সাদা ফর্সা) এদেশে বাস করত।ভাবার বিষয়!
গোপাল ভাঁড়ের একটা গল্প মনে পড়ছে।
একদিন রাজা ইয়ার্কি মেরে বললেন, “গোপাল তুমি আর আমি একই রকম দেখতে। শুনেছি বাবা বেঁচে থাকতে তোমাদের বাড়ি খুব যেতেন।”
গোপালও উল্টা প্যাক মারল। বললেন, “না রাজামশই আপনার বাবা রাজা হয়ে কী করে আমাদের বাড়ি যায়? আমার বাবা মাঝে মাঝে আপনাদের বাড়ি কাজ করতে আসত। রাজার আক্কেল গুড়ুম হয়েছিল সেবার”।
এই বেয়াদবি কথাটা বললাম ঠিক তাদের যারা কালো মানুষদের ঘৃণা এবং অবহেলার চোখে দ্যাখেন।
এই অবহেলার একটা বাস্তব চিত্র দিয়ে লেখা শেষ করছি। আমাদের  কলেজের ভূগোলের  বিভাগীয় প্রধান বিপুল স্যারের সঙ্গেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি আবার আমাদের স্কুলেই শিক্ষকতা করতেন একসময়। এদিক থেকে আমি খুশি । তো এক শীতের রোদমাখা টিফিন টাইমে আমাদের স্কুলের এক ম্যাডাম স্কুল ঘরের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছেন। স্কুলের সীমানার মধ্যেই ওনার থাকার ঘর। স্কুল বারান্দা থেকে ১০০ মিটার দূরত্বও হবে না । আমাদের স্যার বলেছেন,দিদি এখানে দাঁড়িয়ে কেন?বলেছেন,বিপুল যা রোদ এদিকে ছাতাও আনিনি । কি করে যে ঘরে যাই।
বিপুল স্যার তো অবাক। এইটুকু দূরত্ব তাও আবার শীতের রোদ । ছাতা কি হবে?
প্রশ্নটা করেছেন। ম্যাডাম বলেছেন,কি বল বিপুল রোদে নামলে স্কিন নষ্ট হবে যে।
স্যার বলেছেন ধূর এতেই স্কিন নষ্ট হয়।
ম্যাডাম বলেছেন ,তোমার কালো স্কিন তুমি কি বুঝবে!!
স্যার রসিকতা করে বলেছেন দিদি আমাকে রোদ তো লাগেই না বরং মশাও কামড়ায় না।
ম্যাডাম ,তাই নাকি বিপুল!
স্যার বলেছেন, কালো চামড়ার  মানুষদের মশা রাতে দেখতে পায় না। আপনার বরকে বলবেন। প্রসঙ্গত ম্যাডেমের স্বামী কালো বা শ্যামলা ছিলেন। এভাবেই আমাদের সমাজে কালো চামড়ার মানুষরা অপমানিত।
আসুন নিজের মননকে উন্নত করি।
ম্যাডাম এখনো স্কুলেই আছেন। স্যারতো কলেজের প্রফেসর। চামড়া নয় মেধা আর চরিত্র নিয়ে গর্ব করা যেতে পারে।
যদি কোনো সাদা চামড়ার মানুষ কালো চামড়ার মানুষকে অপমান করেন তবে গোপালের গল্প আর ইংরেজদের কথা মনে করবেন। কার মাল কোথায় পরে !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *