খাদ্যের মান পরীক্ষায় গুপ্ত অভিযান চালিয়ে উঠে এল ভয়ঙ্কর সত্য

রোকাইয়া খাতুন , টিডিএন বাংলা : এবারের গরম তার আগের সব রের্কডকে ছাড়িয়ে গেছে৷ আর এই গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা৷ এই সময় শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্য৷ অনেকে এই সময় ফুটপাত ছেড়ে নামী রেস্তোরাকে বেছে নেয় খাওয়ার লক্ষ্যে৷ তেমনই নাগেরবাজারে যশোর রোডের ধারে এক শপিং মলের ফুডকোর্টের নামী ধাবাতে বড় গ্লাসে লস্যির অর্ডার দিলেন এক ভদ্রলোক৷ সেই সাথে বাড়তি বরফও চাইলেন৷ পানীয় টেবিলে আসতেই বেধে গেল হুলস্থুল কান্ড, কারণ লস্যির উপরে দেওয়া বরফ আসলে মাছের আড়তের ব্যবহৃত বরফ৷ আর ক্রেতা সেজে যখন দক্ষিণ দমদম পুরসভার জনস্বাস্থ্য বিভাগের অফিসার দেবাশিস দত্ত গিয়েছেন তখন তো আর রক্ষে নেই৷ ম্যানেজার থেকে কর্মচারীদের অবস্থা তখন সঙ্গিন৷ পুরকর্মীরা রান্নাঘরে গিয়ে দেখলেন, মাছের আড়তে ব্যবহৃত হওয়া বিশাল বরফ ঝুঁড়িতে রাখা৷ অস্বাস্থকর এই বরফই দেওয়া হচ্ছে লস্যি ও অন্যান্য খাবারে৷ তাছাড়া দামটাও নেহাত কম নয়, ১৪০ টাকা৷ ধাবার ম্যানেজারকে পুর কর্তারা জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এসব বন্ধ না করলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে৷ এদিন ২০ টি হোটেল- রেস্তোরাতে অভিযান চালান জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা৷ এরপর অন্য এক রেস্তোরার রান্নার সামগ্রী দেখেও কর্তৃপক্ষের চক্ষু চড়কগাছ৷ সেখানের খাবারও খুব নিম্নমানের, সেখান থেকে অন্য এক রেস্তোরাতে গিয়ে পুরকর্তারা দেখেন সবজিতে পোকা, সেই সময় স্কুল পড়ুয়ারা সেখানে বসে খাচ্ছিল, তাদেরকে সাবধান করার লক্ষ্যে ওই পোকাওয়ালা খাবার পড়ুয়াদের দেখানো হয়৷ এরপর পুরকর্তারা যান বিরিয়ানির দোকানে ৷ সেখানের অবস্থা আরও খারাপ, রান্নাঘরের ফ্রিজে রক্তমাখা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ সর্ষের তেল, খারাপ হয়ে যাওয়া বাঁধাকপি, পচা গাজর, পচা শশা ইত্যাদি অস্বাস্থ্যকর উপকরণ৷ খাদ্যমন্ত্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, খাবার খাদ্য দপ্তরে পরীক্ষা করে দোকানগুলির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই অভিযানকে নিয়মিত করার নির্দেশ দিয়েছি৷