গোহত্যা করলে ১৪ বছরের জেল, মানুষ মারলে ২ বছর : আক্ষেপ বিচারপতি সঞ্জীব কুমারের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দেশে বেপরোয়া গাড়ি দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত চালকের সাজা সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ, বিভিন্ন রাজ্যে গরু হত্যাকারীর সাজা সর্বোচ্চ ৫, ৭ ও ১৪ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এমন অসম আইনে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন দিল্লির একটি আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারপতি সঞ্জীব কুমার।

হরিয়ানার ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টের ছেলের বিলাসবহুল গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঘটনার মামলা প্রসঙ্গে শনিবার আদলতে রায় ঘোষণা করেন ওই বিচারপতি। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যার মামলায় ২ বছরের বেশি কারাদণ্ডের সাজার ব্যবস্থা দেশে নেই। যেখানে একজন গরু হত্যাকারীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়। এমন ব্যবস্থায় কার্যত আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, দক্ষিণ দিল্লির মূলচাঁদ এলাকায়, উত্‍সব ভাসিন বিএমডব্লু গাড়ি নিয়ে সজোড়ে ধাক্কা মারে বিবিএ পড়ুয়া অনুজ চৌহানের মোটর সাইকেলে। বেপোরাভাবে গাড়ি চালানো ও মানুষ হত্যা করার অপরাধে হরিয়ানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় উত্‍সবকে। ঘটনার সময়, মৃত ছাত্র অনুজের সঙ্গে ছিল বন্ধু মৃগাঙ্ক শ্রীবাস্তব। এদিন, নিজের অপরাধ কবুল করে নেন অভিযুক্ত উত্‍সব। বিচারকের নির্দেশে তার ২ বছরের কারাদন্ড ও মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে।

এই ঘটনার মামলায় বিচার করতে গিয়েই তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। এমন দুর্ঘটনার সাজা প্রায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেছেন। পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মামলায় সাজার মেয়াদ বাড়াতে দ্রুত আইন সংশোধনের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো-র পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত আইনটি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও আদালত থেকে ওই আইন সংশোধনের জন্য একটি লিখিত কপি পাঠানো হবে যাতে খুব দ্রুত শাস্তিযোগ্য সাজার মেয়াদ বাড়ানো যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৫-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পথদুর্ঘটনায় মোট চার লাখ ৬৪ হাজার মানুষ মারা গেছে।