প্রধান মন্ত্রী আপনার এত অহংকার কিসের? – মমতা ব্যানার্জি

সরিফুল আলম, দিল্লি, টিডিএন বাংলা : আজ বেলা বারোটার সময় দিল্লীর যন্তর-মন্তরে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস ধর্ণায় বসেছে ।বেশ অনেক কয়টি বিরোধি দল এই ধরনায় সামিল হয়েছে। জেডিইউ এর সারদ যাদব, সমাজবাদী পার্টীর ধর্মেন্দ্র যাদব, আপ এর রাঘব চাড্ডা এনসিপির মাজেদ মেমন,রাজ্য সভার সাংসদ জয়া বচ্চন ও মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে পা মিলিয়ে পথে নেমেছেন প্রতিবাদ মিছিলে।একই সময়ে সারা পশ্চিমবঙ্গেও একই ভাবে প্রতিবাদ করা হবে।
তৃণমূল মরিয়াভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বিভিন্ন দাতব্য  সংস্থা,রাজনৈতিক ছোট ছোট দলগুলিকে, ছাত্র-যুব সংগঠন ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলিকেও এই “রাজনৈতিক জরুরি অবস্থার”মেকাবিলা করার জন্য মিলিত হয়ে গর্জে ওঠার।
“একজন সাধারণ দিন-মজুর থেকে শুরু করে কৃষকরা,ছোটো ব্যাবসায়ী সহ ভারতের ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষ সবাই নগদ টাকার উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে।রাস্তায় মালবাহি গাড়ী গুলো নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাজারে দোকানগুলোর ঝাঁপ বন্ধ রাখা হচ্ছে এই  নোট বাতিলের কারণে”
“প্রধানমন্ত্রী সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছ,কিন্তু তিনি পার্লামেন্টে আসার জন্য একটুও ফুরসৎ পাচ্ছেন না।
প্রধানমন্ত্রী যখন টাকা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন তিনি মু্খে কুলুপ এঁটে আছেন কেন;তিনি জবাব দিন।

1201

নোট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।সরকার যাবতীয় ভরাডুবির জন্য দায়ী।”-সারদ যাদব
মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি বলেন আপামর সাধারণ মানুষের “সাদা টাকা” গুলো ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিদেশে সুইস ব্যাঙ্কে জমে থাকা কালো টাকা নিয়ে আসার পরিবর্তে।”
“তৃণমূল এই নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাবে।আমাদের দল অন্যান্য সমস্ত সংগঠিত বিরোধি দলগুলিকে এ ব্যাপারে সমর্থন করবে। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে ,এবং সমস্ত চাষি ও দোকানদার ব্যবসায়ী কে এই প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য আবেদন করেছি।জনগন বিজিপিকে  উচিত শিক্ষা দেবে।এবারে তারা আম মানুষের একটা ভোটও পাবে না।
এই লড়াইটা সাধারণ মানুষের লড়াই,আমরা তোমাদের  হারতে দেব না,তোমরাই জিতবে।যদি কেও আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায় ,আমি তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাই।যতদিননা কিছু একটা বিহিত হচ্ছে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। দেশের জনগন সুবিচার পাবেই।কাল সারা দেশ জুড়ে গণ আন্দোলন শুরু হবে।”-তিনি জানিয়ে দেন।

1202

তিনি বারবার প্রশ্ন করেন কেন সুইস ব্যাঙ্কে আ্যাকাউন্ট ধারি রাঘব বোয়াল গুলোকে এখনও ছেড়ে রাখা হয়েছে। এবং সতর্ক করে জানিয়ে দেন জনগণ এর যোগ্য জবাব দেবে আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে, এই “কালা আইন” লাগু করার জন্য।
“আমি চ্যালেন্জ করে বলতে পারি বিজেপি কে আর কেউ ভোট দিচ্ছে না।আমি যদি আপনার জায়গায় থাকতাম,তাহলে আমি জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতাম। আপনার এত অহংকার কিসের? আপনি গোটা দেশবাসীকে কালো টাকার কারবারি বলে প্রচার করে চলেছেন আর নিজে কেমন সাধু সাজছেন,”  মমতা ব্যানার্জী ক্ষোভ উগরে দেন।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মোদী ভক্তদেরকেও একহাতে নেন যারা মোদী মোদী করে চেঁচামেচি করছে;তাদেরকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে পাঠানো হয়েছে তাঁর সভা ভন্ডুল করার জন্য;এবং হতবাক পুলিশ প্রশাসনের নিরব ভূমিকা দেখে।
মঙ্গলবারের  দ্বীপাক্ষিক ভোটের ফলাফল উল্লেখ করে তিনি বলেন “বিজেপি আগের থেকে অনেক কম ভোটে মধ্যপ্রদেশে জিতেছে এবং মোদী এখন দেশটা রশাতলে দিয়ে দিব্যি দেশের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন (মোদিজী দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে চলে গেছে) অন্যান্য সমস্থ নেতাদের একটাই প্রশ্ন বিজেপি পার্লামেন্টে এনিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে চাইছেনা কেন”?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *