রাজনীতির আকাশে নক্ষত্র পতন : প্রিয়রঞ্জনের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি পরলোক গমন করলেন। সোমবার বেলা ১২টা ১০মিনিট নাগাদ এই বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যু হয়। ২০০৮ সাল থেকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানে সম্প্রতি তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতির জেরে এদিন দুপুরে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। শেষ সময়ে পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও পুত্র।১৯৭০ সালে যুব কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পান প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। ১৯৭১ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেই লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জয়ী হন তিনি। এরপর ১৯৮৪ সালে ফের হাওড়া লোকসভা থেকেও জয়ী হয়েছিলে প্রিয়রঞ্জন। এরপর ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হাওড়া থেকে পরাজিত হলেও, ফের ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন প্রিয়রঞ্জন। ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালে পরপর দু’বার রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে ভোটে জয়ী হন। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন তিনি। শুধু রাজনৈতিক জীবনেরই দায়িত্ব সামলান নি তিনি। এর পাশাপাশি ২০ বছর ধরে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সন্মানিক সভাপতির পদও সামলেছেন প্রিয়রঞ্জন। ১৯৮৪ সালে প্রথমবার মন্ত্রী হয়ে বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। আবার  ২০০৪-২০০৮ সাল পর্যন্ত ইউপিএ-১ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং এর পাশাপাশি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান প্রিয়রঞ্জন। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ১২ অক্টোবর ২০০৮ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে দিল্লির এইমসে পরে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে টুইটারে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী একজন জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।ভারতীয় ফুটবলের প্রসারে তাঁর কৃতিত্ব অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে।’ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধিও শোকপ্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের একজন নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ ও বড় নেতা হিসেবে তিনি সকলের মনে থাকবেন। তৃণমূলস্তরে তাঁর অসাধারণ কাজকে পরবর্তীকালের জন্য স্মরণ করা হবে। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা সত্ত্বেও, তিনি জনগণের কল্পনায় জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যু কংগ্রেস এবং দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলার রাজনীতিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। ২০০৮-এ যদি অসুস্থ হয়ে না পড়তেন, তবে বাংলার জন্য অনেক কিছু করতে পারতেন। তাঁর পরিবার-পরিজনকে জানাই আমার সমবেদনা।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এদিন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর মৃত্যুতে সরকারি দফতরগুলিতে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছেন।