মোদী সরকারের তীব্র বিরোধীতা সুপ্রিমকোর্টের

টিডিএন বাংলা : ২৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আয়োজিত ‘ল’ দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতি কেন্দ্র সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “ভারতীয় সংবিধান সকলের জন্য একটি ‘লক্ষণরেখা’। সরকারকে সেই সংবিধান মেনে চলতে হবে”। তিনি সুপ্রিম কোর্টের ‘ল’ দিবস পালনকে সংবিধান দিবস উদযাপনে উন্নীত করার প্রতি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারের এটর্নি জেনারেল এর সামনে
দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারকদের তীব্র সংকট জন্য মোদি সরকারের নিন্দা করেন।
এর আগেও তিনি দেশের হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতে বিচারপতির পদ শূন্যতার কথা প্রধাণমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।
সরকার সেই বিষয়ে কর্ণপাত না করে বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কলোজিয়ামের সুপারিশ অনুমোদন আটকে রেখে দিয়েছে ।
এদিকে এমন অবস্থা দেশে কোর্ট আছে কিন্তু বিচারপতি নেই, ৫০০ বিচারপতির পদ শূন্য। জমছে মামলার পাহাড়, ফলে জনগন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।
বিচারপতি টি.এস. সতর্ক করে বলেন, “সরকারের যে কোন আইন তৈরি করার অধিকার আছে। কিন্তু সেই আইন সংবিধানের লক্ষণরেখার মধ্যে থাকতে হবে। কোন নির্দেশ সংবিধান উলঙ্ঘন করলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের বিচার বিভাগ সেই নির্দেশিকাকে বাতিল করতে পারে।
“সংবিধান আমাদেরকে বলে দিয়েছে সরকার কি কাজ করবে, বিচার বিভাগ,নির্বাহী ও আইনসভার জন্যও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এটাই নির্ধারিত’লক্ষ্মণ রেখা’।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান আইনি পরামর্শ, অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগী বলেন, “সকল বিভাগ সেই গুরুত্বপূর্ণ ‘লক্ষ্মণ রেখা’ স্বীকার করে।
বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে ঠাকুরের বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ শনিবার বলেন, সরকার এ বছর শতাধিক বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছে। ১৯৭৫ সালে জরুরী অবস্থার সময়ও এই সুপ্রীম কোর্ট ‘আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল” যখন জনগণকে নির্বিচারে জেলে পুরা হয়েছিল।
এহেন পরিস্থিতিতে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের মতবিরোধ আবারও প্রকাশ্যে চলে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
#টিডিএন বাংলা

মন্তব্য করুন -