জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সূর্যোদয়ের দেশ-নিপ্পন বা জাপান, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নতিতে আছে অনেকটাই এগিয়ে। জাপানের শিশুদের ভদ্রতার খ্যাতি জগতজোড়া। তাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যতিক্রমী দিক তাদেরকে করে তুলেছে অনন্য। চলুন জেনে নিই জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য।

১)দশ বছরের আগে কোন পরীক্ষা নয়: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, জাপানে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ বছর পর্যন্ত জাপানের শিক্ষার্থী দের কোন পরীক্ষা হয়না। তারা বিশ্বাস করে প্রথম ৩ বছর শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করার সময় নয়। বরং তাদের আচার আচরণ আরও উন্নত করে তোলার সময়।
২)শিক্ষকরা কখনও কোন ছাত্রকে শাস্তি স্বরূপ  ক্লাসের  বাইরে পাঠান না: জাপানে কোন অপরাধে শিক্ষার্থীকে ক্লাসের বাইরে বের করে দেয়া এমনটি কখনই  হয়না। জাপানী সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সমান শিক্ষা অর্জনের অধিকার সবাইকেই দেয়া হবে …” এবং এই কারণে, জাপানি শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে পাঠাতে সাহস পায় না। শিক্ষকরা বরং চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীদের কে শান্ত রাখার এবং পড়াশুনাকে তাদের কাছে আরও আনন্দের করে তোলার।
৩)শিক্ষক, ছাত্র একই সাথে  দুপুরের খাবার খান  ক্লাসরুমে : জাপানের স্কুলগুলোতে শিক্ষক ছাত্র সবাই একই সাথে একই মেনু দিয়ে দুপুরের খাবারের পর্বটা সম্পূর্ণ করে ক্লাসরুমেই । এবং সেই খাবার সার্ভ করে কারা জানেন?শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি খাবার সার্ভ করে ছাত্ররা। এবং খাবার শেষে খাবার পাত্র পরিষ্কার করা এবং তা আবার গুছিয়ে রাখার কাজগুলো ও তারা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে করে। এভাবেই তাদেরকে নিজের কাজ নিজেদের করার একটা শিক্ষা ও দেয়া হয়।
৪)স্কুল পরিষ্কার করার জন্য কোন অতিরিক্ত লোক নেই: তাহলে এত বড় স্কুল পরিষ্কার করে কে?উত্তর টা জানলে আবারো অবাক হতে হবে, ছাত্ররা। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অংশ, টয়লেট সব ভাগ করে দেয়া থাকে একেক গ্রুপ কে। প্রতিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার আগে ১মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে ধ্যান ও করে তারা।
৫)প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৩৫ মিনিট নিয়মিত গণিত  ক্লাস: গণিতের প্রতি একটু বাড়তি নজরই দেয় বলতে হবে জাপানিরা।অন্যান্য দেশে এই হার গড়ে ২১৮। বিজ্ঞান এবং ভাষার প্রতি সেক্ষেত্রে একটু মনোযোগ কমই বলতে হবে তাদের।
৬)ফেল করলেও পরের ক্লাসে: আজ্ঞে হ্যাঁ, ফেল করেও পরের ক্লাসে যেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই জাপানের স্কুলের ছাত্র হতে হবে।আপনি কোন ক্লাসে ফেল করলে আবার সেই পরীক্ষায় বসে যথাযথ গ্রেড অর্জন করে তবেই উপরের ক্লাসে উঠতে পারবেন এই রীতি অন্যান্য দেশ পালন করলেও জাপান করেনা।কোন শিক্ষার্থী ফেল করলেও পরের ক্লাসে উঠতে পারে কোন পরীক্ষা না দিয়েই। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য অবশ্য এই গ্রেড মুল্যায়ন করা হয়।
৭)এপ্রিলেই শুরু হয় একাডেমিক ক্লাস: অন্যান্য সব দেশে যখন সেপ্টেম্বর থেকে একাডেমিক শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। তখন জাপানে একাডেমিক বর্ষ শুরু হয় এপ্রিল থেকেই। ঠিক সেই সময় যখন প্রকৃতি থাকে অপরূপ চেরি ফুলে সজ্জিত।
৮)উপস্থিতির হার শতকরা ৯৯.৯৯%: জাপানের শিক্ষার্থীরা না স্কুল মিস দেয় না স্কুলে দেরীতে আসে। তাদের বেশিরভাগই পড়াশোনা করতে খুবই ভালোবাসে। একই রকম পোশাকের সাথে একই রকম স্কুল ব্যাগ ব্যবহার করে তারা।
 ৯)স্কুলের ছুটিতেও স্কুলে কাজ করেন শিক্ষক এবং  শিক্ষার্থীরা: জাপানের শিক্ষকরা কেবল জাতীয় ছুটির দিনগুলো ব্যতীত সকল দিনেই স্কুলে কাজ করেন। এমনকি শিক্ষার্থীরাও ছুটির সময় বিভিন্ন ক্লাবের কাজে, খেলাধুলার প্রয়োজনে স্কুলে আসে। তাই ছুটি আসলে সবার জন্য জাপানে অন্তত প্রযোজ্য নয়।
১০)বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এক আনন্দময় অবকাশ: একটি বেশ কঠিন পরীক্ষা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করতে হয় জাপানি শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এরপরের ৪ বছর কাটে খুবই আনন্দে। তারা এটাকে প্রফেশনাল লাইফে যাওয়ার আগে একটা আনন্দময় অবকাশ হিসেবে বিবেচনা করে।
বুঝতেই পারছেন পাঠক, জাপান তাদের দেশের “জনসম্পদ” গড়ে তুলতে কতটা চিন্তা এবং পরিশ্রম করছে। সেজন্যই আজ তারা পৃথিবীর অন্যতম স্বনির্ভর দেশ।

tdn_bangla_ads