বাংলাদেশে জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষ অপেক্ষা করছেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন কারাবন্দি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অপেক্ষায় আছেন তার ছোট ভাই আলহাজ্জ্ব হুমায়ুন কবির সাঈদীর (৫৬) জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজন। এ বিষয়ে বেলা ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন মাওলানা সাঈদীর ছেলে ও ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। তার স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ছোট চাচা মরহুম হুমায়ূন কবীর সাঈদীর নামাজের জানাজায় আগত মুসল্লিদের একাংশ। যদিও আমার আব্বা আল্লামা সাঈদী হাফিজাহুল্লাহর প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সরকার পক্ষ থেকে এখনো আমাদেরকে কিছুই জানায়নি। আশা করছি বাদ আসর আল্লামা সাঈদীর ইমামতিতে নামাজে জানাজা মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।’

ছোট ভাইয়ের জানাজার নামাজ পড়াতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে গতকাল সোমবার। সব ঠিক থাকলে আজ মঙ্গলবার কোনো এক সময় তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এর আগে মাসুদ সাঈদী দুপুর ১২টার পরে তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার আব্বা আল্লামা সাঈদীর [হাফিজাহুল্লাহ] প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। যদিও আমাদেরকে অফিসিয়ালি এখনো কোন কিছু তারা জানায়নি। তবে আমরা এখনো আশাবাদী। আল্লামা সাঈদী আসবেন এবং তিনিই জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন ইনশাআল্লাহ।’

Advertisement
head_ads

তবে মুক্তির প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে- এ ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বেলা ২টার কিছু আগে তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন- ‘এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে আল্লামা সাঈদীর প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। প্রক্রিয়া শেষ করতে কতো সময় লাগে !!’ তার ছোট ভাই আলহাজ্জ্ব হুমায়ুন কবির সাঈদী গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে, গতকাল সোমবার মাসুদ সাঈদী বলেছিলেন, ‘আমার পিতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারে থাকায় ছোট কাকার জানাজার নামাজ পড়াবার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তিনি প্যারোলে মুক্তি পেলে আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবার বাদ জোহর ঢাকায় মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আমাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় লাশ নিয়ে আসা হবে। সেখানে আমার পিতার প্রতিষ্ঠিত এস.ডি মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসা মাঠে বুধবার দ্বিতীয় জানাজা শেষে সাঈদখালীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

এর আগে ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর সাঈদীর মাতা গুলনাহার ইউসুফের মৃত্যুর পর এবং তার বড় ছেলে মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী’র ২০১২ সালের ১৩ জুন মৃত্যুর পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি ২৮ অক্টোবর মায়ের এবং ১৪ জুন ছেলের জানাজার নামাজ পড়ান। মাসুদ সাঈদী জানান, ‘সরকার অবশ্যই আমার আব্বাকে তার ছোট ভাইয়ের জানাজার নামাজ পড়াতে মানবিক কারণে প্যারোলে মুক্তি দেবে বলে আশা করছি।’
এদিকে মরহুমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, জেলা জামায়াতের আমীর সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা তাফাজ্জাল হোসইন ফরিদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান। হুমায়ুন কবির সাঈদী গত ৫ দিন ধরে নিউমেনিয়া জ্বরে এবং হৃদরোগেও আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন।

সূত্র- দৈনিক নয়াদিগন্ত।

head_ads