নারী দিবসের আগে চাঞ্চল্যকর তথ্য, গণপরিবহনে ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার! ব্র্যাকের রিপোর্ট

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশের মিডিয়া বলছে,মধ্য বয়সী পুরুষদের দ্বারাই নারীরা বেশি নির্যাতনের শিকার হন। হয়রানির মধ্যে রয়েছে কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো, আস্তে ধাক্কা দেয়া, কাঁধে হাত রাখা, হাত, বুক বা শরীরের অন্যান্য অংশে স্পর্শ শিকার হওয়া নারীদের ৮১ শতাংশ প্রতিবাদ করেন না। দেশে গণপরিবহনে যাতায়াতকালে ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময়ে মৌখিক, শারীরিক বা অন্যভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যৌন হয়রানি করা পুরুষদের ৬৬ শতাংশেরই বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছর। শিকার হওয়া নারীদের ৮০ দশমিক ৭ শতাংশই প্রতিবাদ করেন না বা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থাকেন।
ব্র্যাকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগ্রহণের পদ্ধতি যৌন হয়রানির অন্যতম কারণ বলে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে আরও বলা হয়েছে, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাব, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলো ও তদারকি তথা সিসি ক্যামেরার অভাব এবং ছোট থেকেই ছেলেমেয়ের মধ্যে সম্মানসূচক বোঝাপড়া ও স্বাস্থ্যকর ভাব বিনিময়ের সুযোগের অভাব।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্র্যাক ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি কর্মসূচির সমন্বয়কারী হাসনে আরা বেগম ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কবিতা চৌধুরী। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে নারীদের নিরাপত্তাকে কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তার সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি তুলে ধরতে সংস্থাটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের ৪১৫ জন নারী এ গবেষণায় অংশ নেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপরিবহনে পুরুষেরা যেভাবে যৌন হয়রানি করে থাকেন, তা হলো ইচ্ছাকৃত স্পর্শ, কাছে ঘেঁষে দাঁড়ানো, আস্তে ধাক্কা দেয়া, চুল স্পর্শ, কাঁধে হাত, শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ। ঘটনার শিকার হলে মেয়েরা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন, এ প্রশ্নের উত্তরে ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা চুপ থাকেন।
গবেষণাটিতে সমস্যাগুলো রোধে সর্বস্তরে জনসচেতনতা, জবাবদিহি ও শাস্তির ব্যবস্থা, পরিবহন খাতে সেবা প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিতকরণ, যাত্রীদের আচরণ বিষয়ে সচেতনতাসহ আইনের যথাযথ প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন বলেন, এসডিজিতেও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ব্র্যাকের উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, ব্র্যাক বাসে পোস্টার লাগাবে। সেখানে উল্লেখ থাকবে, যৌন হয়রানি হলে কী করতে হবে। অভিযোগ জানানোর নম্বর দেয়া থাকবে। ব্র্যাক পাইলট প্রকল্প হিসেবে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ১০০ স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবে। এ ছাড়া বাসের চালক, সুপারভাইজারদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি গণপরিবহনে নারী চালকদের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি জানান, ব্র্যাক এর মধ্যে সে উদ্যোগ নিয়েছে।
জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি কর্মসূচির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নিশাত সুলতানা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি কর্মসূচির প্রোগ্রাম হেড হাবিবুর রহমান।