ডাক্তার ফি যেখানে ৪০ টাকা

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বর্তমান বাজারে ডাক্তারদের ফি যেখানে অনেক সময় মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, সেখানে এখনও চল্লিশ টাকা ভিজিটে রোগী দেখেন বসন্ত কুমার রায় ও তরুণ কুমার রায় । কখনওবা বিনা পয়সায় দেখে দেন রোগী।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে নিজ শহর দিনাজপুরে ফিরে এসেছিলেন বসন্ত কুমার রায়। শুরু করেছিলেন চিকিৎসাসেবা। সে অর্ধশতক আগের কথা। তখন ভিজিট নিতেন ১ টাকা। বসন্ত কুমার রায় এখন রোগী দেখেন মাত্র ৪০ টাকায়। তাঁর পথই অনুসরণ করেছেন ছোট ভাই তরুণ কুমার রায়। তিনিও ডাক্তার হয়ে ফিরে এসেছেন দিনাজপুরে।
দিনাজপুর শহরের কালিতলা এলাকায় স্থানীয় প্রেসক্লাব। সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে চলে যাওয়া গলি ধরে ৫০ গজ এগোতেই হাতের বাঁয়ে চোখে পড়ে একটি সাইনবোর্ড। লোহার ফটকের পাশে বাঁশের খুঁটিতে ঝোলানো সে বোর্ডে লেখা পাঁচজন চিকিৎসকের নাম—বসন্ত কুমার রায়, তরুণ কুমার রায়, সুস্মিতা রায়, সুদীপ্তা রায় ও উদয় শংকর রায়।
একই পরিবারের পাঁচ জন সদস্য চিকিৎসক। তরুণ কুমার রায় তাঁর ছোট ভাই। সুস্মিতা রায় ও সুদীপ্তা রায় বসন্ত কুমার রায়ের দুই মেয়ে। উদয় শংকর জামাতা, সুস্মিতার স্বামী। সুস্মিতা ও উদয় ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। সুদীপ্তা রায় আছেন রাজশাহী শহরের একটি হাসপাতালে।
তাঁদের দুই ভাইয়ের খুব স্বল্প ফিতে রোগী দেখার বিষয়টি দিনাজপুরের সবাই জানেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন দুই ভাই। তদের চেম্বারে রোগীদের ভিড় লেগে থাকে সবসময়।
ডা. বসন্তের আদর্শ হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। আবার বড় ভাই বসন্ত কুমার রায়ের দেখানো পথকে আদর্শ হিসেবে নিয়েছেন তরুণ কুমার রায়। তিনিও এমবিবিএস পাস করে সাধারণ রোগীদের জন্য স্বল্প ফিতে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

সাইনবোর্ডে রোগী দেখার সময় লেখা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বসন্ত কুমার রায় বললেন, লেখা থাকলেও রোগীর উপস্থিতির কারণে কখনোই মানা হয় না এ সময়।

Advertisement
head_ads

১১ বছরের ছেলে আবু সাঈদকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলার বড়পুকুরিয়া এলাকার আমেনা খাতুন। তিনি বললেন, ‘অন্য ডাক্তারের যত ফি। হামার তো সামর্থ্য নাই।’

বসন্ত কুমার রায়ের বাড়ির পাশেই আইনজীবী মিজানুর রহমানের বাড়ি। এখানেই রোগী দেখেন তরুণ কুমার রায়। তাঁর চেম্বারেও একই দৃশ্য। অনেকে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।
তিনি দুঃস্থদের জন্য যত কম দামের সম্ভব ওষুধ লেখেন।
তাঁদের সম্পর্কে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্ত ঘোষ বলেন, ‘বর্তমান সমাজে স্রোতের বিপরীতে দুই ভাই মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। আগামী প্রজন্ম এই দুই ভাইয়ের আদর্শ অনুসরণ করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।’
এই দুই চিকিৎসক ভাই সম্পর্কে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন মওলা বক্স চৌধুরী বললেন, ‘তাঁরা দুই ভাই অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য চিকিৎসক। চিকিৎসাসেবায় দুজনই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমাজের অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবার শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে তাঁদের সেবা।’

head_ads