রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সু-চি’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের অস্ট্রেলিয়ায়

0
টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রাখাইনে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলনে অংশ নিতে সু-চি সহ বিশ্বনেতাদের সেদেশে অবস্থানের মধ্যেই এ মামলা হলো। একইদিন রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে সিডনিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে, রাখাইন থেকে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বিতাড়িত করার কথা স্বীকার করলো মিয়ানমার সরকার।
কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর পালিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে মায়ানমার সরকার। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের সচিব টিন-মং-সোয়ে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে দাতা দেশগুলোর কাছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা চেয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। শুক্রবার জেনেভায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধান শীর্ষক এক যৌথ সভায় এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্দে।
মায়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতারা। শনিবার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া বিশেষ আসিয়ান সম্মেলনের বাইরে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনসহ বিশ্বের মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রোহিঙ্গা নেতা সুজাউদ্দিন করিমুদ্দিন বলেন, বিশ্বনেতাদের বিশেষ করে আসিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার নেতাদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা গণহত্যার বিরুদ্ধে এরা সবাই নীরব। বরং এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এরা এটিকে বৈধতা দিতে চায়।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু-চির বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশটির ৫ জন আইনজীবী মেলবোর্ন আদালতে শনিবার এ মামলা দায়ের করেন। তবে বিশেষ ছাড়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় তার বিচার কাজ চালানো যাবে না বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল।
এই প্রথম বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে মায়ানমার সরকার। রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের সচিব টিন মং সোয়ে বলেন, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। যদিও রাষ্ট্রসংঘের হিসেবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। মায়ানমার সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের হিসেবে বড় পার্থক্য থাকলেও ঠিক কতো রোহিঙ্গা পালিয়েছে সে বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে আগে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া হয়নি। এদিকে টিন-মং-সোয়ে’র এ বক্তব্যের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
head_ads