ইসলাম প্রচারক তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন ফরাসি আদালত। মঙ্গলবার তার আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে দুটি ধর্ষণের অভিযোগে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। আইনজীবী ইমানুয়েল মারসিগনি বলেন, রামাদানের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাখ্যা ও তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর তৃতীয় অভিযোগটি তদন্তের দরকার নেই বলে মনে করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট।
রামাদানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে তার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লিয়েনের হোটেলে এক দুপুরে একজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু লন্ডন থেকে রামাদানকে বহনকারী বিমান ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের আগে লিয়নে পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছিলেন রামাদান। কিন্তু সেই নথি মামলার ফাইল থেকে হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি পুলিশ।

এর পর রামাদান নিজে ফরাসি পুলিশের কাছে মামলার বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যথাযথভাবে তদন্ত না করেই তাকে গ্রেফতার করে আটকে রাখা হয়েছে।
এর পর ফরাসি আইন লঙ্ঘন করে তাকে নির্জন কারাবাস দেয়া হয়েছে। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর রামাদানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেয়া হয়নি।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকালীন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের এ অধ্যাপক তার মুসলিম পরিচয়ের কারণে ফরাসি কর্তৃপক্ষের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন কিনা।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৯ সালে ফ্রান্সের লিয়নে ও ২০১২ সালে প্যারিসে দুই নারী তার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে একটি অপরাধ তদন্ত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট ফর এ জাস্ট ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ড. চন্দ্র মুজাফফর বলেন, অধ্যাপক তারিক রামাদান ফ্রান্সে প্রহসনের বিচারের শিকার হচ্ছেন। তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে দুই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ জন্যই ৩১ জানুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় প্যারিসে পুলিশের কাছে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তার জবাব দিতেই তিনি সেদিন পুলিশের কাছে যান।

নিজের অভিযোগের তদন্তে কর্তৃপক্ষকে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এর পরও তাকে বিচারবহির্ভূত নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান চন্দ্র মুজাফফর।