টিডিএন বাংলা ডেস্ক:  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তিনি জেরুসালেম শহরকে ইসরাইলি ‘আক্রমণকারীদের’ নিকট থেকে, যারা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে তাদের থেকে রক্ষা করবেন। বার্তা সংস্থা জানায়, গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর তুর্কি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এরদোগান আরো বলেন- তিনি ভবিষ্যৎ ইসরাইলি রাজধানীর ব্যাপারে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তার কূটনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন।

এরদোগান বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ সভাতে যোগ দানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছেন। এরদোগান মুসলমানদের পবিত্র নগরীর সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্য ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবার অঙ্গিকার করেন।

গত সপ্তাহে একটি হিব্রু গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভেঙ্গে পড়া কূটনৈতিক সম্পর্ককে মজবুত করতে ইসরাইল এবং তুরস্ক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের মে মাসে গাজা সীমান্তে এক বিক্ষোভ চলাকালে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন হামাস সদস্য। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এজন্য ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করে একে একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যারা গণহত্যা চালিয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে তুরস্ক তার দেশে নিয়োজিত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইতান নেহেকে বহিষ্কার করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল জেরুজালেমে নিয়োজিত তুরস্কের কাউন্সিল-জেনারেল এবং তেল আবিবে নিয়োজিত তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে।

হিব্রু বার্তা সংস্থা দৈনিক ইয়েদোইথ আহরোনোথের খবর অনুযায়ী, যদি দুই দেশের মধ্যকার চলমান আলোচনা ফলপ্রসু হয় তবে হয়তো দেশ দুটো বহিষ্কৃত রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে নিতে পারে।

আঙ্কারা বর্তমানে ইসলামপন্থী এরদোগান দ্বারা শাসিত হচ্ছে এবং দেশটি ফিলিস্তিনের হামাসের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। আঙ্কারা যদিও ইসরাইল বিরোধী দলগুলোর সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে চলছে তবুও দেশ দুটি সিরিয়াতে তাদের স্বার্থের জন্য একে অন্যকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

যদিও তুর্কি ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করে কিন্তু এরপরেও সম্প্রতি ইসরাইল সিরিয়াতে হিজবুল্লাহ গেরিলাদেরকে ইরানের অস্ত্র সরবরাহ করার সময় বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লার অনেকে যোদ্ধাকে মারাত্মকভাবে হতাহত করে আর তুরস্ক এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে।

ইসরাইল এবং তুরস্কের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক যতই খারাপ হোকনা কেন, সম্প্রতি ইসরাইলের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন- দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইসরাইলের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেযিপি হোতোভেলি বলেন, ‘তুরস্ক এই অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যদিও দেশটির বর্তমান নেতা ইসরাইলের স্বার্থ বিরোধী অনেক কার্যক্রম চালাচ্ছে তথাপিও আমি মনে করি আমরা তাকে একই ধমনীতে এর শোধ ফিরিয়ে দিতে পারবো।’

প্রসঙ্গত, বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী- সম্প্রতি হামাস এবং ইসরাইলের মধ্যকার সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ১৩০ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। হামাস নামের দলটি যেটি প্রতিনিয়ত ইসরাইলের ধ্বংস চায়, যারা ২০০৭ সাল থেকে গাজা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। হামাসের দাবী অনুযায়ী তাদের দলে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি রয়েছেন যারা প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেতে প্রস্তুত আছেন।

নিজেই লিখছেন নিজের ইতিহাস

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান নিজেই নিজের ইতিহাস লিখছেন বলে মন্তব্য করেছেন উইএস কাউন্সিল অব মুসলিম অর্গানাইজেশনের (ইউএসসিএমও) সেক্রেটারি জেনারেল ওসামা গামাল।

জাতিসঙ্ঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক অবস্থানরত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে এক মিটিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এরদোগান নিজেই নিজের ইতিহাস রচনা করছেন। রোহিঙ্গা, ইয়েমেন এবং সিরিয়ায় তার মানবতাবাদী সমর্থন ইতিহাস হয়ে থাকবে। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সুপারপাওয়ার দেশগুলো যখন ইদলিব নিয়ে কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না তখন আপনি প্রমাণ করেছেন সুপারপাওয়ার ৫ দেশের চেয়ে এই বিশ্ব অনেক বড়।

নিউইয়র্কে টার্কি-আমেরিকান স্টিয়ারিং কমিটির (টিএএসসি) উদ্যোগে একটি মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন এরদোগান। ওই মিটিংরুমে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন নিউইয়র্কে বসবাসরত ফিলিস্তিনি ও তুর্কি নাগরিকরা।

এ সময় মিটিংরুমের বাইরে দুই শতাধিক মুসলিম এরদোগানকে স্বাগত জানাতে প্লাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের হাতে ‘উই লাভ এরদোগান’, উই লাভ তুর্কি’ লেখা প্লাকার্ড দেখা যায়।
সূত্র-টাইমস অব ইসরাইল, আনাদোলু নিউজ এজেন্সি, ডেইলি সাবাহ