চেচনিয়া ও ইঙ্গুশেটিয়ার মুসলিমরা আজও ২৩শে ফেব্রুয়ারিকে চোখের জলে “কালো দিবস” হিসেবে স্মরণ করে

0
পাঠকের কলমে, টিডিএন বাংলা : ১৯৪৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রাশিয়ার সবচেয়ে নিষ্ঠুর, নির্দয়, পিশাচ, রক্তখেকো, হিংস্র ও সন্ত্রাসী শাসক জোসেফ স্টালিনের নির্দেশে ককেশাস অঞ্চলের ইংগুশেটিয়া ও চেচনিয়া থেকে নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা তথা পাইকারি হারে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে গরু বাছুরের মত গাদাগাদি করে মালবাহি ট্রেনে করে, প্রচন্ড শীত ও বরফচ্ছাদিত সাইবেরিয়া ও কাজাকিস্তানে নির্বাসন দেয়া হয় । দীর্ঘদিন নির্বাসনে থেকে রোগ-শোক, অনাহার- দুর্ভিক্ষ, প্রতিকূল আবহাওয়া-পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে মারা গিয়েছিল সবাই। মাত্র অল্প সংখ্যক লোক কোনোরকম জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছিল।
ককেশাসীদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা মুসলিম। তারা চেয়েছিল ঈমান, ইসলাম, আমল ও ইজ্জতের জিন্দেগী যাপন করতে । কিন্তু সেটা সহ্য করতে পারেনি রাশিয়ার সন্ত্রাসীরা। ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক এই শাস্তিটা তারা দিয়েছে ককেশাসী মুসলিমদেরকে!
তাই আজও ককেশাসের চেচনিয়া ও ইঙ্গুশেটিয়ার মুসলিমরা এই দিনকে চোখের জল ফেলে “কালো দিবস” হিসেবে স্বরণ করে। তাই বলে কি থেমে গেছে তাদের ঈমান- ইসলাম ক্বায়েম করার ও স্বাধীনতা অর্জনের স্পৃহা ?
না থামেনি; ইমাম শামিল, শামিল বাসায়েভ, দুখো উমারভ, খাত্তাব, হাজী মুরাদের উত্তরসূরীরা আজ আবধি চালিয়ে যাচ্ছে ঈমান, ইসলাম ও স্বাধীনতার আন্দোলন , যা করে গিয়েছিলেন তাদের পূর্বসূরীগন। কারণ, পৃথিবীতে একমাত্র মুসলিম  শির নত করতে জানেনা!
নব্বই দশক পর্যন্ত এই কম্যুনিস্ট রাশিয়া- ই ছিল গোটা পৃথিবীর এক নাম্বার টেরোরিস্ট। মধ্য এশিয়ার লক্ষ লক্ষ মুসলিমদের রক্তখেকো। কারণ, তখন রাশিয়া ছিল পৃথিবীর পরাশক্তির অধিকারী। সুপার পাওয়ার ইন ওয়ার্ল্ড। নব্বই দশকের পর থেকে এই স্থান দখল করেছে ক্রুসেডার আমেরিকা। তাদের সন্ত্রাস অব্যাহত।
বিশ্ব মুসলিমদের উপর সন্ত্রাসী আগ্রাসনের কাতারে আমেরিকার পাশাপাশি আজও রাশিয়া জোরালো ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ দেখতে পারেন ইরাক-সিরিয়া। কসাই আসাদকে বেকাপ দিয়ে যাচ্ছে এই রাশিয়া! ইরাক-সিরিয়ার হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুর হন্তক এই রাশিয়া ও আমেরিকা-ই!
মোসলেম আলি শাহ
ধনিয়াখালি
হুগলি
head_ads