মায়ানমার সেনাদের অস্ত্র মহড়া, রোহিঙ্গাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির  তমব্রু সীমান্তে মায়ানমারের অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন; চলছে অস্ত্রের মহড়া।

জানা যায়, শূন্যরেখায় এসে মায়ানমার সেনারা এই অস্ত্রের মহড়া করছে। সেখানে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে, সীমান্তের কাঁটাতারে বৈদ্যুতিক তার সংযোগ দিয়েছিল বলেও জানা যায়।

এ সময় তারা অস্ত্রের মহড়া করেছে। বিজিবি’র এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্তজুড়ে মায়ানমার সেনাদের অস্ত্রের মহড়া ও অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশের বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে বিজিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তমব্রু ও ঘুমধুম এলাকায় বাস করা মানুষরা আতংকের মধ্যে আছেন। শীর্ষ নিউজ।

এদিকে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছে মায়ানমার সেনাবাহিনী। তারা লাউডস্পিকারে রোহিঙ্গাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে নতুন করে প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

গেলো আগস্টে মায়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে শুরুর দিকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে রাজি না হলে, অনেক রোহিঙ্গা দুই দেশের সীমান্তবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ডের অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। পরে, বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিলেও অনেকে সেখানে থেকে যায়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমার সেনারা অস্থায়ী ক্যাম্পের কাছে কাঁটাতারের বেড়া ঘিরে পাহাড়া বসিয়েছে। রোহিঙ্গাদের কমিউনিটির নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশৃঙ্খলা করলে সমুচিত জবাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে মিয়ানমার সেনারা আইন লঙ্ঘন করে কোনো বিশৃঙ্খলা করলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এ জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার বান্দরবানের পাশের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বিজিবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৯১তম রিক্রট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, মিয়ানমার সীমান্তে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করতে প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থায় প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি খুবই দক্ষ এবং শক্তিশালী। সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শক্তি আরও বৃদ্ধি করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বর্ডার গার্ড বিজিবির সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে অহেতুক ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে। মিয়ানমারের দাবি, সীমান্তের জিরোলাইনে আশ্রয় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরার চেষ্টা করছে খবর পেয়েই নিরাপত্তা বাড়িয়েছে মিয়ানমার। কিন্তু আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা জিরোলাইনে মিয়ানমারের অংশে রয়েছে। তারপরও নোম্যান্সল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো সাজ্জাদ হোসেন, বান্দরবান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক, বান্দরবান বোমাং সার্কেল রাজা উচপ্রু চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজের প্যারেড কমান্ডার ছিলেন রামু ৫০ বিজিবির মেজর কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম এবং প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট ছিলেন এডি মো শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯১তম রিক্রট ব্যাচের ৫৩৫ জন নবীন সৈনিকের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক প্রথম স্থান অর্জনকারী ও সর্ববিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন সৈনিকের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সাড়া দেয়নি মিয়ানমার

তমব্রু সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুজিবুল হক।

মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ-কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম খোরশেদ আলম তাকে তলব করেন।
এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র (নোট ভারবাল) তাকে দেয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, তমব্রু সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে মহড়াও দিয়েছে মিয়ানমার সেনারা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয় এবং বলা হয় এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ভালো নয়।
সূত্র জানায়, তাকে একটি নোট ভারবাল বা আনুষ্ঠানিক পত্র দেয়া হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

tdn_bangla_ads