মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউর

0

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর এবার ইউেরাপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মায়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছ।  মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের ঘটনায় এ পদেক্ষপ নেয়া হচ্ছে।

দুইজন ইউরোপীয় কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি সোমবার সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা বার্মিজ জেনারেলদের নামের তালিকা ঘোষণা করতে পারেন।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত মায়ানমারের জেনারেলদের ওপর এর আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এখন তাদের ওপর নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটা হবে ইইউর কঠোরতম পদক্ষেপ।

কূটনৈতিক একটি সূত্র বলেছেন, ‘পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মায়ানমারের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, দেরি না করে তা প্রস্তাব করার জন্য ফেদারিকো মঘেরিনিকে বলবেন ইইউর মন্ত্রীরা।’

মায়ানমারের ওপর নব্বইয়ের দশক থেকে আরোপিত ইইউর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা খুঁজে দেখতে বলা হবে তাকে।

আগামী সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে একটি বিবৃতি আসতে পারে বলে আভাস দিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর থেকে গ্রেপ্তার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে ইইউর ওই বিবৃতিতে।

গতবছর ২৫ অগাস্ট রাখাইনে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাওপোড়াওযের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম রোহিঙ্গাদের পোড়া গ্রাম  বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সেনাবাহিনীর চরম নিপীড়নের বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘ ওই সেনাঅভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মিয়ানমারের মেজর জেনারেল মাউং মাউং সোয়েসহ ৫২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে গত ডিসেম্বরে কালো তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি সম্প্রতি চ্যানেল ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মিয়ানমারে নিপীড়ন থেকে রক্ষায় রোহিঙ্গাদের পাশে না দাঁড়ানোয় দেশটির নেত্রী অং সান সু চি মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন।