মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো রকম পরমাণু আক্রমণ হলে পাল্টা হামলা করার হুমকি রাশিয়ার

0
টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো রকম পরমাণু হামলা হলে তা রাশিয়ার ওপর হামলা বলে বিবেচনা করা হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী মস্কোয় বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্যা নেশন’ বক্তৃতা পুতিন একথা বলেছেন। এ সময় তিনি আমেরিকার সাম্প্রতিক ছোট করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পুতিন বলে, মর্কিন নতুন নীতিতে প্রচলিত কোনো হামলা হলে এমনকি সাইবার হুমকির জন্যও আমেরিকা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি এমন হলে রাশিয়াও পাল্টা হামলার অধিকার রাখে তা সে হামলা রাশিয়ার ওপর হোক কিংবা মিত্রদেশগুলোর ওপর হোক। প্রচলিত অস্ত্রের জবাব প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে দেয়া হবে এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের জবাব দেয়া হবে ঠিকই একই রকম অস্ত্র দিয়ে।
পুতিন আরো বলেছেন, শত্রুরা যেরকম সাইজের বোমা দিয়ে হামলা করবে রাশিয়াও সেই সাইজের বোমা দিয়ে পাল্টা হামলা করবে। ছোট হলে ছোট পরমাণু বোমা দিয়ে, মাঝারি হলে মাঝারিটা দিয়ে আর বড় সাইজের হলে রাশিয়াও বড় সাইজের বোমা দিয়ে হামলা করবে; একদম কাল বিলম্ব করা হবে না।

রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, তার দেশ কিছু কৌশলগত অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা করেছে যা প্রতিহত করা যাবে না। এসব অস্ত্রের কাছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর। পুতিন বলেন, এ ধরনের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- পরমাণু শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু শক্তিচালিত ডুবো-ড্রোন এবং হাইপারসনিক সারমাত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যার সমকক্ষ কোনো ক্ষেপণাস্ত্র সারা বিশ্বে নেই।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দীর্ঘপাল্লার পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং প্রকৃতপক্ষে এর পাল্লার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে হামলা চালানো সম্ভব। তিনি আরো বলেন, “আমি তাদেরকে বলতে চাই- একতরফা সুবিধা নেয়ার জন্য গত ১৫ বছর ধরে যারা অস্ত্র প্রতিযোগিতা করেছে, আমাদের দেশের উন্নয়ন আটকে দেয়ার জন্য বেআইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, আপনারা যা করতে চেয়েছিলেন তার সবই করেছেন কিন্তু রাশিয়াকে আটকে রাখতে আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা ও সামরিক খাতের সমস্যা সত্ত্বেও আমরা ২০০৪ সাল থেকে আমেরিকাকে সংলাপের জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান চানাচ্ছি কিন্তু তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয় নি। এখন আমরা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং এখন তারা আমাদের কথা শুনছে।”
প্রেসিডেন্ট পুতিন তার বক্তৃতায় বলেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযানে রাশিয়া তার বেড়ে চলা সামরিক সক্ষমতা দেখিয়েছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে আবারো শক্তিশালী করে তোলার জন্য গত কয়েক বছরে নানামুখী কাজ করা হয়েছে বলে জানান ভ্লাদিমির পুতিন। (পার্স টুডে)